পরিকাঠামো সংক্রান্ত জায়গাগুলোতে এখনই পর্যবেক্ষকরা যেতে পারছেন না – তাদের প্রয়োজন সশস্ত্র ভ্রমণ সঙ্গী. কিন্তু সেনাবাহিনীর লোকরা তা শুধু সেই ক্ষেত্রেই দিচ্ছেন, যদি যাওয়ার জায়গা তাঁদের ঘাঁটি থেকে এক ঘন্টার বেশী দূরত্বে না হয়. আর পশ্চিমের তরফ থেকে সামরিক উপস্থিতি নিয়মিত ভাবে কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের আরও বেশী করে এলাকা আর পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না. যদি ২০০৯ সালে সপকোর দপ্তর এই দেশের প্রায় দুয়ের তৃতীয়াংশ এলাকাতেই বিভিন্ন জায়গা যেতে পেরে থাকেন, তবে ২০১৪ সালে যেতে পারবে আফগানিস্তানের মাত্র একের পঞ্চমাংশে. পর্যবেক্ষকদের যাওয়ার বাইরে থেকে যাবে প্রায় শত কোটি ডলার মূল্যের ১৫টি প্রকল্প. তারই মধ্যে এই বছরের পরীক্ষা করে দেখার পরে পর্যবেক্ষকরা প্রায় দুশো কোটি ডলার খরচের বিষয়কে সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেছেন.

কিন্তু ওয়াশিংটনের জন্য খরচের ফলপ্রসূ হওয়ার প্রশ্নই সবচেয়ে তীক্ষ্ণ নয়, এই কথা উল্লেখ করেছেন আধুনিক আফগানিস্তান নিয়ে গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ নিকিতা মেন্দকোভিচ, তিনি বলেছেন:

“অর্থের ফলপ্রসূ ভাবে খরচ নিয়ে সমস্যাকে বর্তমানে যেমন আফগানিস্তানের তেমনই আমেরিকার পক্ষের মনোযোগের বাইরেই রাখা হচ্ছে. কারণ এখন সামনে রয়েছে অনেক বেশী তীক্ষ্ণ সমস্ত রাজনৈতিক সমস্যা”.

প্রথমতঃ, মোটেও স্বচ্ছ নয় যে কে কাবুলে আগামী বসন্তে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরে থাকবে. আর ২০১৪ সালের পরে আমেরিকার ঘাঁটি এই দেশে আদৌ থাকবে কি না. এটা তার উপরে নির্ভর করছে যে, এখনকার মতো আমেরিকার সেনাবাহিনীর কর্মীদের এই দেশে বিচার ব্যবস্থার উর্দ্ধে থাকা ও আফগানিস্তানের প্রশাসনের তরফ থেকে তাদের উপরে তদন্ত করার বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত হবে, সেই নিয়ে বিতর্কের উপরে.

তাই নিকিতা মেন্দকোভিচ আরও বলেছেন:

“যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভূ-রাজনৈতিক অর্থে এই এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী ভাবে থেকে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী থাকে, তবে এই বিষয়ে সহমতে পৌঁছনোর উপায়ও বের হবে. অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাদের নিজেদের সেনাবাহিনীর বিষয়ে এলাকার বাইরে থাকার মর্যাদাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জাপানে ও দক্ষিণ কোরিয়াতে আমেরিকার সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নানা রকমের দুর্ঘটনা পূর্ণ হয়েছিল”.

বিশ্বজোড়া ভূ-রাজনৈতিক কাজ কারবারের পটচিত্রে মধ্য এশিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক বিষয়ে অপরাধ এখন দ্বিতীয় সারির সমস্যায় পরিণত হয়েছে. আর এখানে কথা শুধু অর্থ চুরি করা নিয়েই নয়. জন সপকোর চিঠিতে লেখা হয়েছে আফগানিস্তানের সেই সমস্ত কোম্পানীদের সাথে চুক্তির, যেগুলো এখানের জঙ্গীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে.

এই সবই – এড়ানো যায় না এমন বাড়তি ব্যাপার, যার সাথে ওয়াশিংটনকে মানিয়ে নিতে হচ্ছে, এই রকম মনে করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের প্রাচ্য গবেষণা বিভাগের প্রফেসর সের্গেই দ্রুঝিলোভস্কি বলেছেন:

“তারা এই কারণে এই মধ্য এশিয়াতে ঢুকে পড়ে নি যে, কোন রকমের বিজয় ছাড়াই চলে যাবে বলে. তাদের কিছু নির্ভর যোগ্য জায়গা থাকবেই: বিমানবন্দরের চারপাশে, আমেরিকার সেনাবাহিনীর ঘাঁটিগুলোর চারপাশে, প্রশাসনিক ভবনগুলোকে ঘিরে. যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা উপস্থিতির জন্য অর্থ বরাদ্দ করে দেয়, তবে তারা সেখানে অনির্দিষ্ট কালের জন্যই থেকে যাবে. কোন রকমের তালিবরাই খুব ভাল করে অস্ত্র সজ্জিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি দখল করতে সক্ষম হবে না”.

এই যুদ্ধ চলাকালীণ সময়ে আফগানিস্তানে কোন একটিও বড় প্রকল্প সমাধান হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মনে করতে পারেন নি. একই সময়ে সপকোর তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্তানে ২০০২ থেকে ২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যয় করেছে দশ হাজার কোটি ডলার. যা করা হয়েছে সরকারি ভাবে এই দেশকে পুনর্স্থাপন করার জন্যই. আর এই বিনিয়োগ চলতেও থাকবে. ২০১৪ সালে আমেরিকার বাজেট থেকে এই কাজে আরও এক হাজার কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে.