আলজিরিয়ার অর্থনীতির ভিত্তি হল – গ্যাস ও খনিজ তেল. তা একের তৃতীয়াংশ মোট বার্ষিক গড় উত্পাদন নিয়ে আসে ও বিদেশী মুদ্রার ৯৫ শতাংশ, আর অবশ্যই নতুন তৈল ক্ষেত্র আলজিরিয়ার অর্থনীতিতে ও বাজেটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাড়তি অর্থ এনে দেবে, এই রকম একটা বিশ্বাস নিয়ে রাশিয়ার জ্বালানী ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই আগিবালভ বলেছেন:

“এটা খুবই উল্লেখযোগ্য একটা আবিষ্কার. এখন জাতীয় সঞ্চয়ের পরিমাণ মূল্যায়ণ করা হয়েছে বারশ কোটি ব্যারেল, বলা যেতে পারে যে, সঞ্চয়ের পরিমাণ এবারে আরও শতকরা দশ ভাগ বাড়ল – এটা অবশ্যই অগ্রগতির পক্ষে একটা বড় পদক্ষেপ. এখন যত পরিমাণ ঘোষণা করা হয়েছে, অর্থাত্ একশ তিরিশ কোটি ব্যারেল – তার থেকে বাত্সরিক খনিজ তেল উত্তোলনের পরিমাণ আশা করা যেতে পারে ছয় থেকে আট মিলিয়ন টন হবে”.

অন্য দিকে আলজিরিয়ার সম্পদ নিয়ে গবেষণার ব্যাপারও খুব বেশী হয় নি, তাই ভবিষ্যতেও বড় রকমের আবিষ্কারের সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে.

আলজিরিয়ার জ্বালানী মন্ত্রী যেমন ঘোষণা করেছেন যে, নতুন করে আবিষ্কার হওয়া খনিজ তৈল ক্ষেত্রে কাজ করবে রাষ্ট্রীয় কোম্পানী Sonatrach. যদিও, খুব সম্ভবতঃ, এখানে বিদেশের থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণ না করে চলবে না বলেই মনে হচ্ছে, তাই বিনিয়োগ কোম্পানী গ্রীনউইচ ক্যাপিটালের বিশেষজ্ঞ লেভ স্নীকভ বলেছেন”

“এই খনিজ তেল উত্তোলনের ভবিষ্যত নির্ভর করছে অবশ্যই যেখানে তেল পাওয়া গিয়েছে, তার মাটির নীচের অবস্থার উপরে আর কিভাবে তোলা হবে তার ওপরে. বিশ্বের পরিধিতে এই কেন্দ্র সত্যিই বড় মাপের. এই রকমের বড় রকমের খনিজ তেল এলাকা থেকে তেল তোলার জন্য বিদেশী বিনিয়োগকারী ডাকতেই হবে, ব্যক্তিগত মূলধনেরও প্রয়োজন হবে. তাই, আলজিরিয়ার পক্ষ থেকে কাজ সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হয়তো এই রকম যে, আমরা দেখতে পাবো কোন এক রকমের আরও বেশী খোলা রাজনীতি”.

“আলজিরিয়ার আবিষ্কার” নিয়ে তথ্য ওপেক সংস্থার জেনারেল সেক্রেটারি আবদাল্লা এল-বাদরি আন্তর্জাতিক জ্বালানী সপ্তাহে যে বক্তৃতা দিয়েছেন তার সঙ্গে একই সময়ে উদয় হয়েছে. এই কার্টেলের নিজেদের জন্যই ভবিষ্যত সম্ভাবনা আশাবাদী হওয়ার চেয়েও বেশী: বিশ্বে জ্বালানীর চাহিদা বেড়েই চলেছে, আর ২০২০ সালে তার চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হবে. এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও খুবই দ্রুত হারে শেল গ্যাস তোলাও সাধারণ তৈল ক্ষেত্রের গুরুত্বকে কম করে দিতে পারবে না.

এই ধরনের জ্বালানী সংক্রান্ত ভবিষ্যতের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বিশ্লেষকদের যথেষ্ট কারণ সহ একটা উদ্বেগ উদয় হয়েছে: “খনিজ তেলের বিনিময়ে আলজিরিয়াকে গণতান্ত্রিকীকরণ করানোর প্রচেষ্টাও” কি এখন দেখতে পাওয়া যাবে? ওপেক সংস্থার কিছু দেশের উদাহরণ এখনও স্মৃতিতে টাটকাই রয়েছে – সেই ইরাক ও লিবিয়ার ইতিহাস. এই ধরনের উদ্বেগের ভিত্তিও রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই সেরিওগিচেভ বলেছেন:

“খুবই গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে যে, এটা আলজিরিয়ার পরিস্থিতিতে ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য বাড়তি কারণ হয়ে দাঁড়াবে, যাতে বিদেশী শক্তি অনুপ্রবেশ করতে পারে. বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি বুতেফ্লিকার স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করলে. তিনি কাকে নিজের পরিবর্তে সামনে এগিয়ে দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়. সকলেই অনুমান করছে, কে সেখানে আসবে: কোন “লৌহমুষ্টি”, নাকি কোন লিবারেল নেতা. এই রকমের একটা অবস্থায় খনিজ তেল ও গ্যাসের বিষয়ে আলজিরিয়ার ধনী হয়ে যাওয়া একটা নেতিবাচক ভূমিকাই নিতে পারে”.

অন্যদিক থেকে আলজিরিয়া – এটা লিবিয়া নয়. "আরব বসন্তের" দ্রুত অগ্রগতির আগেই আলজিরিয়াতেই গণ অভ্যুত্থান হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসন দ্রুত সেখানে নিয়ম শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছে. আর সব সময়েই, যতদিন পর্যন্ত প্রতিবেশী টিউনিশিয়া, লিবিয়া ও মালিতে বিপ্লব ও অভ্যুত্থান সেই সব দেশের শান্তি নষ্ট করেছে, ততদিন এই দেশে তুলনামূলক ভাবে শান্তিই রয়েছে.

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ণ এই রকমের: আলজিরিয়াতে ষড়যন্ত্র ও অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায় না. কিন্তু আলজিরিয়ার সরকার, অভিজ্ঞতায় পুষ্ট হয়ে, খুব সম্ভবতঃ, পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ণই করবেন.