অল্পবয়স্ক, উদ্দীপ্তপ্রাণ আমিনুল্লাহ্ খান তার শাসনের শুরু থেকেই সংস্কারকার্য শুরু করেছিলেন. ১৯৩২ সালে আফগানিস্তানে প্রথম সর্বজনস্বীকৃত সংবিধান গ্রহন করা হয়েছিল. আফগানরা ঘোষণা করেছিল সার্বিক সামাজিক স্বাধীনতার, দাসত্ব ও অত্যাচার প্রত্যাহার করার কথা, আইনের সামনে সকল আফগানীর সমানাধিকারের. কিন্তু দেশের ভেতরে যেমন যুবক আমিরের ব্যক্তিত্ব, তেমনই তার সংস্কারের বিভিন্নরকম মূল্যায়ণ করা হয়েছিল. এমনকি হোর্স্ত শহরে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল.

১৯২৪ সালের বসন্তকালে আমিনুল্লাহ্ খানের আমন্ত্রণে একদল সোভিয়েত পাইলট কাবুলে পৌঁছেছিলেন. দৃশ্যতঃ তারা আফগানি পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন, আর আসলে সিংহাসন টিঁকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে ছিলেন. ভাগ্যের পরিহাস – নীতিবদ্ধ কমিউনিস্টরা আফগান বাদশার সিংহাসন আগলাচ্ছিল. ওদের সাহায্যে আমানুল্লাহ্ খান জিতেছিলেন বটে, তবে বেশি দিনের জন্য নয়. ১৯২৮ সালে আমির কান্দাহারে পালাতে বাধ্য হলেন আর তার শূন্য সিংহাসন দখল করলো ইংরেজদের বশংবদ হাবিবুল্লাহ্. তার দেখভাল করতো সুবিদিত বৃটিশ গুপ্তচর থমাস লরেন্স, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যে লরেন্স দ্য অ্যারাবিয়া নামে সুবিখ্যাত হয়েছিল.

তখন সোভিয়েত-আফগান সীমাম্তে পরিস্থিতি টালমাটাল হয়ে উঠেছিল. নতুন আমিরের সমর্থকরা ইংরেজদের আশীর্বাদক্রমে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূখন্ডের ভেতরে খুনখারাপি এবং লুঠতরাজ শুরু করলো. সোভিয়েত ইউনিয়নে তত্কালীন আফগানি রাষ্ট্রদূত নাবি খান যোসেফ স্তালিনকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন সিংহাসনচ্যুত আমির আমিনুল্লাহ’র সমর্থকদের সাহায্য করার জন্য, যাতে তারা ‘হাতের পুতুল’ হাবিবুল্লাহকে সিংহাসন থেকে অপসারিত করে পুণরায় তাকে সিংহাসনে বসাতে পারে. দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পরে স্তালিন সম্মত হয়েছিলেন. রুশী সৈনিক ও অফিসারদের অভিযানে যোগদানের ব্যাপারে কোনো জানানি একেবারে নিষিদ্ধ ছিল. ১৯২৯ সালের ৫ই এপ্রিল ২ হাজার সৈনিক আফগান সেনাপরিহিত পোষাকে সোভিয়েত-আফগান সীমান্ত অতিক্রম করেছিল. ঐ দলের নেতৃত্ব দিয়েছিল তুরস্কের অফিসার রাহিব বেই. কিন্তু তার আসল নাম ছিল ভিতালি প্রিমাকোভ. তিনি আফগানিস্তানে সামরিক-অ্যাটাশের পদে নিযুক্ত ছিলেন. শুরুতে রুশী-আফগান বাহিনী কোথাও তেমন প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়নি, যতক্ষণ পর্যন্ত না ওরা মজারা-শরীফে গিয়ে পৌঁছেছে. কিন্তু আফগানিস্তানের উত্তরে সবচেয়ে বড় শহরটাও শেষমেষ আত্মসমর্পণ করেছিল. তবে অভাবনীয় ঘটনাও ঘটেছিল. মজারা-শরীফের কনস্যাল-জেনারেল স্তালিনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, অভিযান করা হয়েছে অত্যন্ত রুক্ষভাবে, যদিও সৈনিকদের রুশী ভাষায় কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছিল, তবুও মজারা-শরীফ দখল করার পর শহরের সর্বত্র শোনা গেছিল রুশী ভাষায় গালি-গালাজ.

কিন্তু এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল না. মস্কোয় বৈঠকে আমানুল্লাহ্ খানের প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যে সেনাবাহিনী আফগান সীমান্তের ভেতরে গেলেই হাজার হাজার আফগানী তাদের সাথে যোগ দেবে. কিন্তু বাস্তবে সেরকম কিছু ঘটেনি, বড়জোর পাঁচশো আফগানী যোগ দিয়েছিল সোভিয়েত বাহিনীর সাথে. খুব শীঘ্রই আমানুল্লাহ্ খান ভয় পেয়ে পালিয়ে যান পশ্চিম ইউরোপে এবং রাশিয়ারও আফগান অভিযানের আর কোনো মানে ছিল না.

সোভিয়েত সরকার আফগান অভিযানকারীদের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদক ও পুরস্কারে ভূষিত করেছিল. সরকারিভাবে তুর্কমেনিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে গুন্ডাদের প্রতিরোধের জন্য. ১৯৩০ সালে হাবিবুল্লাহ্ সিংহাসনচ্যুত হয়, তার স্থানে আসীন হয় মুহাম্মদ নাদির খান. তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছিলেন এবং উভয় দেশই চেষ্টা করেছিল রেড আর্মি’র আফগান অভিযান সম্পর্কে ভুলে যেতে.