ইতিপূর্বে কোম্পানীটি পৃথিবীর সবচেয়ে দামী অটোগ্রাফের রেটিং তালিকা তৈরী করেছিল. সবার উপরে ছিল উইলিয়ম শেক্সপীয়রের স্বাক্ষর, তার দাম চড়েছিল ৫০ লক্ষ ইউরো পর্যন্ত. তাঁর সামান্য পেছনে ছিলেন জন লেনন. রাজনীতিবিদদের দামী স্বাক্ষর খুঁজতে পৃথিবীর সব সুবিদিত নীলামে উপস্থিত থেকেছে এই কোম্পানীর প্রতিনিধিরা. ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এই সম্পর্কে বলছেন কোম্পানীর জনসংযোগ-ম্যানেজার মারিনা তাবাচকোভা. –

আমরা এরকম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, যে লোকে জানে না, যে আদপে রাজনীতিবিদদের অটোগ্রাফের কত দাম হতে পারে. আমরা গবেষণা করেছি, বিভিন্ন নীলামে নীলামকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পেয়েছি মূল্যায়ণ. এটা বাস্তব মূল্য নয়, ঐ অটোগ্রাফ হয়তো ৩০ ডলারেই কেনা যেতে পারে, কিন্তু এটা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ.

সবচেয়ে কাঙ্খিত অপ্রতিদ্বন্দী হচ্ছে ভ্লাদিমির লেনিনের অটোগ্রাফ, তার দাম উঠেছে প্রায় ১ লক্ষ ডলার. তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে আমেরিকার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট থমাস জেফার্সন. ওহাইও’র উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ১৮০৩ সালে বেঞ্জামিন স্টেনসনকে ভূমিদানের দলিলের উপর তার স্বাক্ষরের দাম মোটামুটি এর অর্ধেক. আর ব্রোঞ্জ পদক পাবেন আব্রাহাম লিঙ্কন, তাঁর অটোগ্রাফের মূল্য ২৫ হাজার ডলার. তাঁর পেছনে একে একে আসবেন জর্জ ওয়াশিংটন(১৯ হাজার ডলার), বারাক ওবামা(১০ হাজার ডলার), রোনাল্ড রেগন(সাড়ে নয়), বিল ক্লিনটন(৬ হাজার ডলার). ‘অটোগ্রাফম্যানিয়া’ কোম্পানীর প্রতিনিধি এই মূল্যায়ণের আসল সূত্র ব্যাখ্যা করে বলছেন –

মূ্ল্য নির্ধারিত হয় ব্যক্তিটির জনপরিচিতির মাত্রা অনুযায়ী, তিনি এখনো জীবিত নাকি পরলোকগত – তার ওপরে. তাছাড়াও তাঁর দেওয়া অটোগ্রাফের সংখ্যা, যার এখনো অস্তিত্ব আছে পৃথিবীতে. উদাহরণস্বরূপ, মাইকেল জ্যাকসন. যেহেতু তার বহু লক্ষ অটোগ্রাফ থাকতে পারে, তাই তার অটোগ্রাফ হবে সস্তা. তাছাড়াও দাম নির্ধারিত হয়, কোন দলিলের উপর স্বাক্ষর বসানো রয়েছে, তার ওপরও. যেমন লেনিনের স্বাক্ষরিত ডিক্রি তাঁরই নিজের ফোটোর ওপর স্বাক্ষরের থেকে বেশি দামী.

রেটিং তালিকায় প্রথম দশজনের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন যেমন লেওনিদ ব্রেঝনেভ(৪ হাজার ডলারের বেশি) তেমনই ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন. হেরহার্ড শ্রেওডরের সাথে তাঁর সম্মিলিত স্বাক্ষর করা ফোটো অস্ট্রেলিয়ায় নীলামে ১৬০০ ডলারে তোলা হয়েছে. ‘বিশ্বের সর্বহারাদের পথদ্রষ্টা’র এত বিপুল জনপ্রিয়তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গেলে বলতে হয়, যে নীলাম ডাকা হয়েছিল আমেরিকায়, যেখানকার মানুষ লেনিনকে রাশিয়ার প্রতীক বলে গণ্য করে এবং পর্যটকরা সর্বদাই লেনিন মোউজলিয়াম পরিদর্শন করে. এই ব্র্যান্ডটা এতই আমজনতার মনে গেঁথে দেওয়া হয়েছে, তাই লেনিনের অটোগ্রাফের এত দাম. আমেরিকানদের জন্য রাশিয়া এমনিতেই রহস্যময় ভূমি, নিজেদের আপন লৌহমানব আর্নি শোয়ার্সনাইগারের সাথে এর কোনো তুলনাই চলে না. প্রখ্যাত অভিনেতা ও ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাক্তন গভর্নরের অটোগ্রাফের মূল্য দিয়েছে তারা লেনিনের ২৬ ভাগ কম!