গুপ্তচর বিভাগকে প্রায়ই নিজেদের দেশের নেতৃত্বের দোষের জন্য অভিযুক্ত হতে হয় আর তাদেরকেই বলির পাঁঠার ভূমিকা নিতে হয়. এক দিকে এটা যথেষ্ট শান্ত ভাবেই মেনে নেওয়া হয় – পেশার ঝুঁকি হিসাবেই. কিন্তু যখন বিশ্বের সর্বশক্তিমানদের ব্যবহার একেবারেই সাধারণ সভ্যতার বাইরে চলে যায়, তখনই বিরক্তির বিস্ফোরণ ঘটে থাকে. সর্বব্যাপী গুপ্তচর বৃত্তি নিয়ে ওবামার ব্যবহার – ঠিক সেই রকমেরই ঘটনা.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও সিআইএ সংস্থার বহু প্রাক্তন ও বর্তমানের কর্মীরা তাদের এই রকমের একটা নিয়ন্ত্রণ বিহীণ, আধা জলদস্যূ ধরনের গোষ্ঠী বলে জন সমক্ষে তুলে ধরার ফলে এতটাই ক্ষেপে গিয়েছেন যে, তারা এবারে সাধারণতঃ গুপ্তচররা যতটা নিজেদের অ্যালাও করতে পারেন, তার চেয়ে বেশীই খোলাখুলি ভাবে বলতে শুরু করেছেন. তারা সরাসরি জোর দিয়ে বলছেন যে, বিশ্বের পঁয়ত্রিশ জন প্রধান নেতার উপরে আড়িপাতার জন্য অনুমতি তাঁদের দেওয়া হয়েছিল শুধু হোয়াইট হাউস থেকেই ও তা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় প্রশাসন. আর কংগ্রেস সদস্য জাস্টিন আমাশ ঘোষণা করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি আমেরিকার লোকদের একেবারেই ভুল ধারণা দিচ্ছেন এই বলে যে, তিনি কিছু ব্যাপার জানতেন না অথবা কোন রকমের আড়িপাতা হচ্ছিলই না. এটা ঠিক সেই ধরনের মিথ্যে যেমন আমেরিকার লোকদের উপরে একেবারে জনপ্রতি ভাবে গোয়েন্দাগিরি করা হচ্ছে বলে যে ঘোষণা করে হয়েছে, তারই মত. এই কথা উল্লেখ করে আমাশ বলেছেন:

“এই সবই স্পষ্ট শয়তানি আর মিথ্যে কথা. আমাদের দেশে বিশেষ প্রোগ্রাম রয়েছে, এটা এমনকি জাতীয় গুপ্তচর সংস্থার ডিরেক্টরও স্বীকার করেছেন, যা প্রত্যেক আমেরিকা বাসীর টেলিফোনে আড়িপাতার জন্য ব্যবহার করা যায়. তার ওপরে আবার কোন রকমের ধারণার উপরে ভিত্তি না করেই যে, এই ধরনের লোকরা কোন সন্ত্রাসবাদী বিপদের বিষয়ে সন্দেহজনক অথবা নয়. তাই যখন আমাদের বলা হয়ে থাকে যে, লক্ষ্য করা হয় ও আড়িপাতা হয় শুধু তাদেরই উপরে, যারা সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে জড়িত, - তখন এটা মিথ্যা কথা”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিদের চলে আসা বাস্তব অভ্যাস অনুযায়ী বিদেশের নেতা ও রাজনীতিবিদদের টেলিফোনে আড়িপাতা হয় একেবারে সবচেয়ে উপরের মহলের অনুমতি নিয়ে, তবেই. এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকে প্রশাসন. বিদেশী রাষ্ট্রের প্রশাসনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে জুড়ে যাওয়া নিয়ে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ঝুঁকির ব্যাপারটাও হিসাব করে দেখা হয়ে থাকে. তারপরে এই অপারেশনের পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার নেতৃত্বের সঙ্গে ও হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক কর্মীদের সঙ্গে সহমতে নেওয়া হয়ে থাকে, যারা বিশ্বের কোন নির্দিষ্ট এলাকা বা দেশের জন্য দায়ভার পেয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে. সমস্ত যোগাড় করা তথ্যের শেষ প্রাপক – রাষ্ট্রপতির জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহকারী আর রাষ্ট্রপতি নিজেই.

জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এক প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্মী ঘোষণা করেছেন যে, “যদি হোয়াইট হাউস জোর দিয়ে বলে যে, তারা বিদেশের নেতাদের টেলিফোনে আড়িপাতা নিয়ে আগে থেকে জানত না, তবে তারা প্রত্যেক দিন বিশেষ করে তৈরী করা গুপ্তচর সংস্থার দেওয়া রিপোর্ট পড়ে না”. বিশেষ ও ছোট করে গুপ্তচরদের রিপোর্ট তৈরী করা হয়ে থাকে প্রশাসনের সবচেয়ে উচ্চ স্তরের কর্মীদের জন্য, যাদের পদ মন্ত্রীদের চেয়ে নীচে নয় ও রাষ্ট্রপতির জন্যও তাতে রিপোর্ট থাকে. সাধারণতঃ রাষ্ট্রপতি তাঁর কাজের দিনই শুরু করেন এই রিপোর্ট পড়া দিয়ে. জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী আরও বলেছেন যে, “এখন জোর দিয়ে বলা যে, হোয়াইট হাউস এই নিয়ে কিছুই জানত না, - তা হাস্যকর. এই ধরনের সমস্ত কাজ কারবারই হোয়াইট হাউস থেকেই অনুমতি দিয়ে করানো হয়েছে, আর তার (আড়িপাতার) ফলাফল অবিলম্বে সেখানে রিপোর্ট করাও হয়েছে”.