২২টি বড় ও ছোট প্রশাসন বিরোধী গোষ্ঠী, যারা তথাকথিত সিরিয়ার স্বাধীন সেনাবাহিনীর মধ্যে রয়েছে অথবা তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে, তারা ঘোষণা করেছে শান্তি সম্মেলন বয়কট করার কথা. সিরিয়ার স্বাধীন সেনা বাহিনীকে মনে করা হয়ে থাকে বর্তমানের প্রশাসনের তুলনামূলক ভাবে উদার পন্থী বিরোধী পক্ষ বলে. কিন্তু জেনেভা – ২ সম্বন্ধে তাদের অবস্থান সদ্য বিগত সময়ে চরমপন্থীদের কাছেই পৌঁছেছে, “আল- কায়দার” কাছের গোষ্ঠীদের স্বপক্ষে. একটা ধারণা তৈরী হয়েছে যে, কেউ যেন বিরোধী দল গুলিকে “আল-কায়দার” দিকে ঠেলছে. লক্ষ্য স্পষ্ট: একটা পরিস্থিতি তৈরী করে দেওয়া, যাতে “জেনেভা – ২” হয় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে, অথবা তার কোন অর্থই থাকবে না.

হঠাত্ করেই রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এর আগে বলেন নি যে, “জেনেভা – ২” সম্মেলন ডাকার পেছনে পরিস্থিতিতে অবিলম্বে সেই সমস্ত পক্ষদের হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন, যারা বিরোধী পক্ষের উপরে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই তিনি এই প্রসঙ্গে ঘোষণা করে বলেছেন:

“একেবারে অনেক গুলি গোষ্ঠী সরাসরি বলছে যে, তাদের বরং “আল- কায়দা” বেশী কাছের আর তারা সেই গোষ্ঠীর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছে. এখানে ন্যক্কারজনক হল যে, এই সমস্ত চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর কিছু লোক এবারে হুমকি দিতে শুরু করেছে. আর এটা মোটেও প্রথমবার নয়. এই ক্ষেত্রে তারা হুমকি দিচ্ছে সেই সব লোকদের, যারা রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ও বিশ্ব সমাজের শক্তির পক্ষ থেকে সমর্থিত জেনেভা সম্মেলনে যোগ দিতে যেতে চাইছে, তাদের”.

পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান ঘোষণা করেছেন যে, এই ধরনের উপায় গ্রহণযোগ্য নয় ও এটা সেই সব লোকদের বিবেকের প্রশ্ন, যারা এই সমস্ত বিরোধী গোষ্ঠীদের অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য করে চলেছে. তাই লাভরভ আরও বলেছেন:

“বিরোধী পক্ষের সমস্ত বাহিনীর নিজেদের পৃষ্ঠপোষক রয়েছে. এটা সব সময়েই একই রাষ্ট্র নয়. কিন্তু প্রত্যেক বিরোধী দলের কাছেই বিশ্বের কোন না কোনও দেশ থেকে – তা সে এই এলাকারই হোক বা তার বাইরেরই হোক, “পৃষ্ঠপোষকদের” মতো সমর্থন রয়েছে. এটা সকলেই খুব ভাল করে জানেন, তাদের মধ্যে আমাদের আমেরিকার সহকর্মীরাও আছেন. আমরা তাদের সঙ্গে একসাথেই চেষ্টা করছি যাতে এই সমস্ত পৃষ্ঠপোষকরা সম্পূর্ণ ভাবেই বিরোধী পক্ষের ব্যবহারের জন্য নিজেদের দায়িত্বের কথা বুঝতে পারেন. কথায় সকলেই বলছেন যে, “জেনেভা -২” প্রক্রিয়া শুরু করার দরকার আছে. আর কাজের সময়ে তাদের অনেকেই, যারা আবার সিরিয়ার সঙ্কটের বিষয়ে খুবই প্রভাবশালী রাষ্ট্র, তারা এই উদ্যোগকেই নষ্ট করে দেওয়ার জন্য কাজ করছে”.

বিশ্ব সমাজের কাছে সিরিয়ার সঙ্কট নিরসন করা বর্তমানে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই কথা বলেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুন. ২৮শে অক্টোবর রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ ঐস্লামিক সহযোগিতা সংস্থার সঙ্গে পারস্পরিক কাজ করা নিয়ে আলোচনা করেছে.

বান কী মুন তাঁর মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন যে, সিরিয়াতে যুদ্ধ মুসলমান গোষ্ঠীদের মধ্যেই সম্পর্ককে তীক্ষ্ণ করে তুলেছে, তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“এই যুদ্ধ সুন্নী ও শিয়া মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে. আমরা এই পরস্পর বিরোধীতার চরম বহিঃপ্রকাশের সাক্ষী হয়েছি বিশ্বের বহু মুসলমান অধ্যুষিত এলাকাতেই. আমি ঐস্লামিক সহযোগিতা সংস্থাকে আহ্বান করব ও সমস্ত নেতাদেরও বলব যে, এই বিরোধ দূর করার দরকার রয়েছে ও মুসলমান গোষ্ঠীদের মধ্যেই বিশ্বাস পুনর্স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে, আর তারই সঙ্গে কট্টরপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীদের প্রভাবকে বাধা দেওয়া দরকার আর যুযুধান চরম পন্থাকেও বাধা দিতে হবে”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের পক্ষ থেকে খোলাখুলি ভাবে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের “পরিচালকদের” এই আহ্বানে চরমপন্থী বলা হয় নি, যদিও এটা কোন গোপন কথা নয়. যেমন সেটাও কোন গোপন কথা নয় যে, এই রাজনীতিবিদরা বর্তমানে সেই আরব বিশ্বেই ক্রমবর্ধমান একঘরে হয়ে যাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন. আর তাদের বর্তমানের কাজ কারবারকে একমাত্র আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়া ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে.