প্রথমে এই রেডিও কোম্পানীর নাম দেওয়া হয়েছিল “মস্কো রেডিও”. পরে তার নাম পাল্টে রাখা হয়েছে “রেডিও রাশিয়া”. দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক রেডিও, “বিবিসি” – এর তিন বছর পরেই শুরু করেছিল প্রচার. আর “ভয়েস অফ আমেরিকা” – ৭ বছর পরে.

আশি বছরেরও বেশী সময়ের মধ্যে অনেক কিছুই পাল্টে গিয়েছে. আজ ইন্টারনেট ও ডিজিট্যাল সম্প্রচারের ফলে বিভিন্ন দেশের মানুষরা শুধু আমাদের অনুষ্ঠান শুনতেই পাচ্ছেন না, আমাদের ভিডিও প্রচার দেখতেও পাচ্ছেন আর রেডিও স্টেশনের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ ও নিরন্তর আলোচনাতেই মগ্ন হতে পেরেছেন, এই কথা “রেডিও রাশিয়ার” জন্মদিন উপলক্ষে আমাদের রেডিও স্টেশনকে অভিনন্দন জানিয়ে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষের সদস্য ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ. তিনি বলেছেন:

“রেডিও রাশিয়া” “ধ্বনিত হয়” বিশ্বের বিভিন্ন মানুষের ভাষায়, বিভিন্ন জাতির মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় রাশিয়ার খবর, বিশ্বের ঘটনা ও তার ব্যাখ্যা, যা প্রায়ই অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম থেকে পাওয়া যায় না. তাই অবশ্যই “রেডিও রাশিয়া” এক খুবই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে”.

আজ “রেডিও রাশিয়ার” অনুষ্ঠান শোনা যেতে পারে বিশ্বের ৩৩টি ভাষায় মোবাইল টেলিফোনেই, আর ইন্টারনেটে ৩৯টি ভাষায়. আশি লক্ষের বেশী মানুষ আমাদের রেডিও স্টেশনের সঙ্গে সামাজিক সাইটে বন্ধুত্ব স্থাপন করেছেন.

সামাজিক গবেষণা করে দেখা গিয়েছে যে, এই রেডিও স্টেশন বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের পেশা ও বয়সের প্রায় ১০ কোটিরও বেশী মানুষ শুনে থাকেন.

আজ “রেডিও রাশিয়া” বিশ্বের প্রথম পাঁচটি সবচেয়ে বড় রেডিও স্টেশনের মধ্যে একটি. এই সম্প্রচার করা হয়ে থাকে বিশ্বের ১৬০টি দেশে. শর্ট ও মিডিয়াম ওয়েভ লেন্থে, এফএম রেডিও তরঙ্গে, উপগ্রহ মারফত পাঠানো তরঙ্গেও. প্রত্যেক দিনে – প্রচার করা হয়ে থাকে বিভিন্ন ভাষায় ১৭০ ঘন্টারও বেশী সময়ে অনুষ্ঠান. তাতে প্রতি সপ্তাহেই ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাশিয়ার আভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতির কথা বলা হয়ে থাকে প্রায় দেড় হাজার অডিও, ভিডিও ও লেখা অবস্থায় থাকা বিভিন্ন অনুষ্ঠান দিয়ে. “রেডিও রাশিয়া” সব সময়েই বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের জন্য মঞ্চ হয়ে রয়েছে. রাশিয়া – এক উন্মুক্ত ও স্বাধীন দেশ আর “রেডিও রাশিয়া” সারা বিশ্বের শ্রোতাদের জন্যই সব সময়ে খোলা রয়েছে.