এই আক্রমণকে আরও বেশী সংজ্ঞাবহ ও প্রতিধ্বনি তোলার মতো করেছে সমাবেশে ভারতের বিরোধী পক্ষের নেতা ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তা হিসাবে উপস্থিতি. সমস্ত রকমের ভিত্তিই রয়েছে ভাবার যে, যারা আক্রমণ করেছে, তারা খুবই সুদূর প্রসারী লক্ষ্য নিয়েই এটা করেছিল.

টাটকা সূত্র অনুসরণ করে যাদের ধরতে পারা গিয়েছে, তারা স্বীকার করেছে যে, তাদের ভারতে নিষিদ্ধ দল “ইন্ডিয়ান মুজাহেদ্দীন” গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে. এই গোষ্ঠীর জঙ্গীরাই অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছে দেশের পরিস্থিতির ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে এবং হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্পর্ককে তীক্ষ্ণ করে তুলতে. এই প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“পাটনা শহরে ঐস্লামিকদের কাজ ছিল শ্রী নরেন্দ্র মোদীকেই একটা চ্যালেঞ্জ জানানোর. তারা ২০০২ সালে মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাটে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার সঙ্গে মোদীর হাত রয়েছে এই সন্দেহের উপরে ভিত্তি করে চেষ্টা করেছিল, যাতে মোদী বিস্ফোরণের পরে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন ও এমন সমস্ত পদক্ষেপ নেন, যাতে পরে সেই গুলোকে মুসলমানদের উপরে নতুন করে অত্যাচার হিসাবে দেখানো যায়”.

পাটনা শহরে সন্ত্রাসবাদী কাণ্ডের আরও একটি কাজ হতে পারত দিল্লী ও ইসলামাবাদের মধ্যে সন্তর্পণে শুরু হওয়া সম্পর্ক পুনর্স্থাপনের কাজে একটা গুটিয়ে ফেলার মতো অবস্থা তৈরী করে দেওয়া. “ইন্ডিয়ান মুজাহেদ্দীন” দল যে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী “লস্কর-এ-তৈবার” সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে ও পাকিস্থানের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার বিষয়ে ভারতেরই বিরোধীরা খুব সম্ভবতঃ চেষ্টা করবে পাটনার ঘটনার পিছনে পাকিস্তানের মদতের চিহ্ন রয়েছে বলে ধারণাকেই বেশী করে তুলে ধরতে. বিহারের রাজধানীতে বিস্ফোরণ সেই জন্যেই হিসেব করে করা হয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রীর আসনের জন্য লড়তে নামা শ্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিশ্বাস করানো সম্ভব হয় যে, পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনীতি করা দরকার খুবই কঠোর ভাবে. আর দুই বৃহত্ রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কে উত্তেজনা বজায় থাকলে তা ঐস্লামিকদের জন্যই খুব ভাল পরিস্থিতি হয়.

খুবই প্রতীকী হয়েছে যে, বিহারের সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড তথাকথিত “কালা দিবসের” সঙ্গে একই দিনে ঘটেছে, যখন পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মীর রাজ্যে গত রবিবারে ১৬টি ঐস্লামিক দল একসাথে “সংযুক্ত জেহাদী সভা” তৈরী করে ঘোষণা করেছিল যে, “কাশ্মীরকে ভারতের অধিগ্রহণ থেকে স্বাধীন করতে হবে”.

দেখাই যাচ্ছে যে, আগামী নির্বাচন ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠান গুলোর জন্যই আরও একটি ভীষণ পরীক্ষায় পরিণত হতে চলেছে. আর ভারতের নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে তা শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়েই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার দাবী রাখে না, বরং তাঁদের ব্যক্তিগত পুরুষকারের দাবীও রেখেছে.