এই ডাম্পারগুলোর মাল উত্তোলনের ক্ষমতা তার মিজস্ব ওজনের দ্বিগুণ. তাদের উচ্চতা তিনতলা বাড়ির সমান. এই প্রসঙ্গে বলছেন উত্পাদক কোম্পানীর জিএম আলেক্সান্দর ফিলাতভ. –

“কয়লা, আকরিক লোহা, হীরে ও আরও বহু খনিজ পদার্থ নিষ্কাশনে রাশিয়া পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করে. এমনই সব ওপেনকাস্ট খনির জন্যই আমরা এই ডাম্পার উত্পাদন করছি”.

এই ডাম্পারের চাকার উচ্চতা এমনকি মানুষের উচ্চতার চেয়ে বেশি এবং তার গড় ওজন মাঝারি সাইজের গাড়ির মতো. এরকম চাকা বদলাতে গেলেও বিশেষ প্রযুক্তির প্রয়োজন হবে. ডাম্পারটি ৮ ডিগ্রি পর্যন্ত কোন করে ঘন্টা প্রতি ৪০ কিলোমিটার বেগে চলতে সক্ষম. আর তার ডালায় সে ১০০ টনেরও বেশি খনিজ পদার্থ বইতে পারে.

সবচেয়ে খাঁড়া চড়াইয়ে এই ডাম্পার উঠতে সক্ষম তার অতীব শক্তিশালী ইঞ্জিনের দৌলতে, যার শক্তি এক হাজার হর্স পাওয়ারের বেশি. কিন্তু জ্বালানী সে খরচ করে পরিমিত মাত্রায়. ওপেনকাস্ট মাইনসে ডাম্পারের চালক ভ্লাদিমির ওস্ত্রোউশকো বলছেন যে, তবে এই ধরনের গাড়িতে জ্বালানী খরচের হিসাব দূরত্ব অনুপাতে হয় না, হয় প্রতি ঘন্টা কাজের হিসাবে. –

বিভিন্নরকম হয়. সবকিছুই নির্ভর করে ডালার ভেতরে কি আছে, তার উপর. কখনো থাকে হাল্কা খনিজ, আবার কখনো খুব ভারী. তবে মোটের উপর গড়ে প্রতি শিফটে ৫০০-৬০০ লিটার জ্বালানী খরচ হয়.

ডাম্পারগুলির কাজের দিনের দৈর্ঘ্য ২৩ ঘন্টা আর শীতকালে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও তাদের ইঞ্জিন বোবা হয় না.

অবশ্যই ওরকম দানব অটোসার্ভিসে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, খুব দাম. তাই যে সব প্রতিষ্ঠানে কয়েকটি এরকম ডাম্পার কাজ করছে, সেখানে উত্পাদকরা তাদের টেকনিশিয়ানদের মজুত রাখবে.

আর ৫ মিটার বাই ৭ মিটার আয়তনের ডাম্পারের ডালার পরিষেবার কোনো প্রয়োজনই নেই. সেগুলি শুধু আঘাতই ফিরিয়ে দেয় না, ঘর্ষনেও তাদের কোনো ক্ষতি হয় না. ডালায় শুধুমাত্র কয়লা ও আকরিক ধাতুই নয়, আঠালো ও ভেজা আকরিক পদার্থও সেখানে বহন করা যায়. বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, যে একটি ক্ষুদ্র পাথর খন্ডও গায়ে এঁটে থাকবে না এবং ডাম্পারের ডালায় কখনো মরচে ধরবে না.

চেলিয়াবিনস্কের কারখানায় প্রথম বছরে পরীক্ষামুলকভাবে প্রথম ৭টি ডাম্পার নির্মান করা হয়েছে. স্থানীয় খনিগুলি সেগুলিকে পরীক্ষা করেছে এবং কোনো খুঁত খুঁজে পায়নি. কারখানায় বলাবলি করা হচ্ছে, যে অতঃপর শুধু উরালে নয়, তার সীমানার বাইরে বহু দূর-দূরান্তরে এই দানবদের নিয়ে সত্যিকারের পুরুশালী শ্রম শুরু হবে.