উত্তরের সামুদ্রিক পথ মুর্মানস্ক থেকে শুরু হয়ে পেত্রোপাভলভস্ক-কামচাতস্কি পর্যন্ত গেছে উত্তরের সাতটি সাগর অতিক্রম করে. এটা ইউরোপ থেকে এশিয়া যাওয়ার সংক্ষিপ্ততম পথ. সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত পারিপার্শ্বিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বছরের মধ্যে কেবলমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকটি মাসেই ঐ পথ ধরে জাহাজ চালানো সম্ভব হতো. তবে এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, ভারী পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াতের নতুন পরিপ্রেক্ষিত তৈরী হচ্ছে – বলছেন অ্যাটমফ্লোটের সর্বাধিনায়ক ভিয়াচেস্লাভ রুকশা. –

আমার দৃষ্টিভঙ্গীতে এখন সেই পর্যায় চলছে, যখন জাহাজ নির্মান ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার উদয় হয়েছে. ইউরোপ থেকে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন পর্যন্ত পণ্য পরিবহন অনেক দ্রুততর ও সস্তা হবে. আমরা সুয়েজ চ্যানেলের সাথে পাল্লা দিতে চাই না. এটা জাস্ট একটা নতুন রুট, যা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে লাভজনক হবে.

সুয়েজ চ্যানেলের সাথে পাল্লা দেওয়ার কথা ভাবার সময় এখনো আসেনি. গত বছর উত্তর সামুদ্রিক পথ দিয়ে পণ্য-আবর্তন সুয়েজ চ্যানেলের এক শতাংশেরও কম ছিল. তবে ২০৩০ সাল নাগাদই এই অঙ্কটা বেড়ে ২৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে. তবে এমন অনেকে আছে, যারা উত্তর সাগর বরফমুক্ত হলেও তার ব্যাপক সম্ভাবনা সম্পর্কে সন্দিহান. যেমন কিছু পশ্চিমী বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, উত্তর সাগর বরফমুক্ত হলে সেখানে মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ শুরু হবে. এর দরুন মাল পরিবহন অসম্ভব হয়ে পড়বে. উত্তর ও দক্ষিণ মেরু ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আলেক্সান্দর দানিলভ তাদের সাথে একমত নন. –

মিথেন বোমা, যা নাকি রাশিয়ার চিরশীতল এলাকার নীচে লুকিয়ে রয়েছে, এটা অতি বাড়াবাড়ি ধারণা. সেরকম কোনো বিপদ নেই. হ্যাঁ, বাস্তবিকই রাশিয়ার উত্তরে জমাট বরফ গলছে, কিন্তু খুব ধীরগতিতে – বহু বছরে কয়েক ডজন সেন্টিমিটার মাত্র. আর তার ফলে যে মিথেন নির্গত হয়, তা কোনোকিছুর ওপরই প্রভাব বিস্তার করে না. ব্যাপারটা হচ্ছে এই যে, উত্তর মেরুতে বিশেষ কোনো প্রাকৃতিক পরিবর্তন ছাড়াই মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ হয়.

উত্তর সামুদ্রিক পথের প্রতিপক্ষরা আরও একটা যুক্তি খাঁড়া করে. তারা বলে যে ঐ পথ ব্যবহার করতে গেলে বরফকাটা ড্রেজার ব্যবহার করতে হবে, যার পেছনে বাড়তি খরচা করতে হবে. কিন্তু প্রতিপক্ষরা ভুলে যাচ্ছে, যে উত্তর সামুদ্রিক পথের ভাবী সম্ভাবনা যাচাই করে অনেক কোম্পানীই তাদের বরফকাটা ড্রেজারের ফ্লোট প্রসারিত করছে. অন্যরা ড্রেজারের জন্য বাড়তি ভাড়া দিতে তৈরী, যেমন Hyundai, যারা সুইডিশ তেলচালিত ড্রেজার ভাড়া করেছে. উপরন্তু উত্তর মেরুর ক্রমাগত উষ্ণায়ণ একদিন হয়তো এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে, যখন ড্রেজারের আর কোনো প্রয়োজনই হবে না.