শেষ নির্বাচনী প্রক্রিয়া, যা দেশে ৮ই সেপ্টেম্বরে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে শেষ হয়েছে, তা দেখিয়ে দিয়েছে যে, দেশের লোকে খুব কমই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে উত্সুক. বেশ কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে এই ধরনের পরিস্থিতিকে বদল করা যেতে পারে ভোটের ব্যালট পেপারে “সমস্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে” ভোট দেওয়ার মতো অনুচ্ছেদকে ফিরিয়ে আনা হলে, এমনকি ভোট না দেওয়ার জন্য জরিমানার ব্যবস্থা করা হলে.

রাশিয়ার রাজ্য সভার স্পীকার ভালেন্তিনা মাতভিয়েঙ্কোর নেতৃত্বে বেশ কিছু রাশিয়ার সেনেট সদস্য ভোটের ব্যালট পেপারে “সবার বিরুদ্ধে” অনুচ্ছেদ আবার ফিরিয়ে আনা হোক বলে প্রস্তাব করেছেন. তাঁদের মতে, এর ফলে আরও স্পষ্ট করেই বোঝা সম্ভব হবে: দেশের জনগন আসলে কোন না কোন নির্দিষ্ট বিরোধী দলকেই সমর্থন করছেন, নাকি তাঁরা আদতে বিরোধী মনোভাব প্রকাশ করছেন. তাছাড়া, দেশের নেতৃত্ব দেশে জনগনের মধ্যে নির্দিষ্ট করেই দেখতে পাবেন মানুষের সংখ্যা, যাঁরা সামাজিক ভাবে হতাশাতে ভুগছেন. যদি আগে ভোট দেওয়ার জায়গায়, সেই সব লোকরাও আসতেন, যাঁরা আদর্শগত ভাবে কাউকেই ভোট দেওয়ার মতো খুঁজে পাচ্ছেন না, তবে এখন বাড়ীতে থেকে যাবেন, শুধু কুঁড়ে আর নির্লিপ্ত মানুষরাই, এই রকম মনে করে রাশিয়ার রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদের ডিরেক্টর সভার সভাপতি ইগর মিন্তুসভ বলেছেন:

“যদি আবার করে “সবার বিরুদ্ধে” অনুচ্ছেদ ব্যালট পেপারে জোড়া দেওয়া হয়, তবে একজন রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব বিদ হিসাবে আমার জন্য আকর্ষক হবে জানা যে, আমাদের জনগনের শতকরা কত শতাংশ ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে আসতে অলস হন নি, যাতে সকলের বিরুদ্ধেই ভোট দেওয়া যেতে পারে. কিন্তু ফলাফলের উপরে সত্যিকারের প্রভাব ফেলার জন্য খুব কমই পাল্টাবে. সেই সমস্ত লোকরা, যাঁরা সকলের বিরুদ্ধে, তাঁরা হয় ব্যালট পেপার নষ্ট করে দেন, নয়তো স্রেফ ভোট দিতেই আসেন না. শুধু খুবই অল্প সংখ্যক মানুষ, সকলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে চেয়ে এই ক্ষেত্রে বিরোধী পক্ষের কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিয়ে থাকেন, বলে বিশেষজ্ঞ মনে করেন”.

ব্যালট পেপারে সমস্ত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নামক অনুচ্ছেদ সেই সোভিয়েত আমল থেকেই চলে আসছিল, যখন ভোট গ্রহণ বাস্তবে ছিল, কোন রকমের বাছাইয়ের সম্ভাবনা না রেখে. ২০০৬ সালে রুশ প্রজাতন্ত্রের নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এই ধরনের “প্রার্থীকেই” তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়ার জন্য. তার পর থেকে সামাজিক মতামতের ফল দেখিয়ে দিয়েছে যে, সবার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার মতো সম্ভাবনা ব্যালট পেপারে ফিরিয়ে আনার স্বপক্ষে বেশ অনেক লোকই রয়ে গিয়েছেন. একটা মত রয়েছে যে, এছাড়া নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যেতেই পারে না, এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় আইন ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভিতালি ইভানভ বলেছেন:

“একটা অনুমান রয়েছে যে, যদি “সবার বিরুদ্ধে” অনুচ্ছেদ ব্যালট পেপারে রাখা হয়, তবে লোকে ভোটে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন. তাই সেই নির্বাচনও হবে বেশী আইন সম্মত. আমি সে রকম মনে করি না. যতজন লোক ভোট দিতে আসবেন, তত জনই আসুন. যাঁরা ভোট দিতে আসেন নি, তাঁরা বাস্তবে চুপ করে থেকেই নিজেদের বাছাই করার অধিকার তাঁদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন, যাঁরা ভোট দিতে এসেছেন, এই রকমই বিশ্বাস করেন রাজনীতিবিদ”.

একই ভাবে এই ধরনের কম সংখ্যক লোকের ভোটে যোগ দান করা – এটাও বিতর্কের একটা বিষয়. বিভিন্ন দেশে নানা ভাবে জনতাকে ভোট দিতে বাধ্য করার প্রয়োজন নিয়ে সমাধান খোঁজা হচ্ছে. পাকিস্তানে, ইজিপ্টে, তুরস্কে ভোট দিতে না চাইলেই, ফৌজদারী মামলা করা যেতে পারে. বেলজিয়ামে, গ্রীসে, ইতালিতে, জার্মানীতে, অস্ট্রিয়ায়, ব্রাজিল সহ আরও অনেক দেশেই নির্বাচনকে উপেক্ষা করলে জরিমানা দিতে হয়. রাশিয়াতে শেষের এই ব্যবস্থার স্বপক্ষেও অনেক লোক রয়েছেন. কিন্তু আবার এমন লোকও আছেন, যাঁরা মনে করেন যে, এটা ভোটারদের অধিকার লঙ্ঘণ করতে পারে. কাদের দৃষ্টিকোণের শেষমেষ জয় হতে চলেছে, তা পার্লামেন্টে এই বিষয়ে শুনানীর পরেই বোঝা যাবে.