ভারত বিগত সময়ে ও এই বছরের শুরুতে খুবই সক্রিয়ভাবে বিতর্কিত প্রশ্নগুলির ক্ষেত্রে, যাতে চিন রয়েছে, সে গুলোতে আন্তর্জাতিক ভাবে সমাধানের পথে মত দিয়েছিল. এই সমস্যা নিয়ে তারা ভিয়েতনাম, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আসিয়ান গোষ্ঠীর একসারি দেশের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিল. কিন্তু কয়েকদিন আগে ভারতের পররাষ্ট্র প্রধান হংকংয়ের এক সংবাদ মাধ্যমে ঘোষণা করেছিলেন যে, এই সমস্যাগুলোর সমাধান হওয়া দরকার একেবারেই দ্বিপাক্ষিক স্তরে ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষদের মধ্যেই. অর্থাত্ ভারতের পররাষ্ট্র প্রধান চিনের সংবাদ মাধ্যমে, চিনের পর্যবেক্ষকদের জন্য সেই মর্মেই কথা বলেছেন, যা চিনের পক্ষ থেকে এলাকা সংক্রান্ত বিতর্কের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে.

কিন্তু ম্যানিলাতে সফরের সময়েই সলমন খুরশিদ দক্ষিণ চিন সাগরকে অভিহিত করেছেন পশ্চিম ফিলিপাইনসের সাগর বলে. তাছাড়া, ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান আন্তর্জাতিক আদালতকে সামুদ্রিক জলসীমায় বিতর্কের মীমাংসার জন্য ব্যবহার করাকেও সমর্থন করেছেন, অর্থাত্ প্রশ্নগুলোকে “আন্তর্জাতিক ভাবে মীমাংসার” পক্ষেই কথা বলেছেন. এতেই অবশ্য রয়েছে, কিছু ধরনের পারস্পরিক ভাবে “অমিল”.

আরও একটা “অমিল” মনমোহন সিংহের পক্ষ থেকে মস্কো ও বেজিংয়ে দেখানো হয়েছিল. মস্কো শহরে মনমোহন সিংহ রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সন্নিধানে ঘোষণা করেছেন যে, ভারত শুল্ক সঙ্ঘে যোগ দিতে চায় (যেখানে বেলোরাশিয়া, রাশিয়া ও কাজাখস্থান রয়েছে). এটা, খুব সম্ভবতঃ চিনের নেতৃত্বের খুব একটা পছন্দ হয় নি. কিন্তু বেজিংয়ে ভারতে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও উন্নতি হবে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও উন্নতি হবে.

সলমন খুরশিদের ফিলিপাইনসের ঘোষণা ও মস্কো এবং বেজিংয়ে মনমোহন সিংহের ঘোষণাতে বোধহয় “চিনের তাসকেই” ব্যবহার করার বিষয়ে ভারতের তরফ থেকে ভেবে হিসাব করাকে দেখতে পাওয়া গিয়েছে. এই প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান নির্দিষ্ট পারস্পরিক ক্ষেত্রে যে কোন দিক থেকেই সহকর্মীর জন্য আকর্ষণীয় হিসাবে দেখতে পাওয়া গিয়েছে, তা সে চিন ফিলিপাইনস অথবা রাশিয়া, যারাই হোক না কেন.

নয়াদিল্লী এখানে যেমন কৌশলগত ভাবে, তেমনই পরিকল্পনা বা স্ট্র্যাটেজিক ভাবেও নিজেদের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে বিশ্বের প্রধান এলাকাতে মজবুত কতে পেরেছে. ভারত ঘোষণা করেছে এক গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বৃহত্ রাষ্ট্র হিসাবে অস্তিত্ব সম্বন্ধে. একই সময়ে নিজেদের সম্ভাবনাকেও দেখাতে গিয়ে নয়াদিল্লীর পক্ষ থেকে বেজিংকে সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে ভারত-চিনের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত বিতর্কের দ্রুত অবসান করার জন্য. অর্থনৈতিক সম্পর্ক যতই ভাল হোক না কেন, নিরাপত্তা ক্ষেত্রে উদ্বেগ তা কমাতে পারে না. এই সহজ ধারণাই মননে হচ্ছে, ভারতের পক্ষ থেকে কূটনীতির দিক থেকে বেশীর ভাগ বাইরের থেকে দেখতে পাওয়া “অমিলের” মূলেই রয়েছে.