তদন্ত খুব তাড়াতাড়িই সন্ত্রাসবাদী নারীর পরিচয় নির্ধারণ করেছে. ঐ নারী নিজেই সন্ত্রাসের স্থান বেছে নিয়েছে – যেখানে লোক বেশি. পরে জানা গিয়েছে যে, ঐ নারী শৃঙ্খলা রক্ষা সংস্থার চোখে পড়েছিল গত বসন্ত কালেই. গোয়েন্দা বিভাগ ওয়াহাব-পন্থার প্রতি তার আগ্রহ লক্ষ্য করেছিল এবং তার প্রতি লক্ষ্য রাখা শুরু করে, সন্ত্রাসবাদী দলের পাণ্ডাদের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টায়. কিন্তু সন্দেহজনক আর কিছু পাওয়া যায় নি, আর শুধু নজর রাখার ভিত্তিতে অপরাধের প্রস্তুতি প্রকট করা খুবই কঠিন, মনে করেন “স্পেত্সনাজ রস্সিই” পত্রিকার মুখ্য সম্পাদক পাভেল ইয়েভদকিমভ:

   আগে থেকে খবর পাওয়ার জন্য প্রয়োজন, যাতে কোনো গুণ্ডাদলের ভিতরে থাকা লোক শৃঙ্খলা রক্ষা সংস্থাকে সন্ত্রাসের প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য জানায়. এ জন্য প্রয়োজন “ইনফর্মারের”. আর সারা দেশে এমন গুপ্তচরের জাল থাকা দরকার. আর জঙ্গী-দলের মাঝে এমন চর পাওয়া বেশ কঠিন.

   আংশিকভাবে এ সমস্যার মীমাংসায় সাহায্য করতে পারে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রসারিতভাবে গোয়েন্দা বিভাগের পাওয়া. এ সপ্তাহে প্রচার মাধ্যমে এ খবর দেখা দিয়েছে যে, রাশিয়ার ব্যাপক যোগাযোগ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয় এক নির্দেশনামার খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা অনুযায়ী, মোবাইল যোগাযোগের অপারেটর এবং ইন্টারনেট-প্রোভাইডারদের বাধ্য করা হবে ব্যবহারকারী সম্পর্কে সমস্ত তথ্য জমা করে রাখার. সেই সঙ্গে ফেডারেল নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীরা সোজাসুজি এ সব তথ্য পাবে. একসারি কোম্পানি এবং সামাজিক কর্মী এতে দেখতে পাচ্ছে সংবিধানের দ্বারা গ্যারান্টিকৃত মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের অধিকারের লঙ্ঘন এবং এমনকি তার তুলনা করছে সারা পৃথিবীতে কেলেঙ্কারী সৃষ্টি করা মার্কিনী গোয়েন্দা বিভাগের ক্রিয়াকলাপের সাথে. অন্যেরা বলেছে যে, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার স্বার্থে অতি ব্যক্তিগত জীবনের নির্দিষ্ট অংশে ছাড় দিতে সম্মত. আমাদের “রেডিও রাশিয়ার” শ্রোতাদের জন্য এই নব-প্রবর্তনের মর্ম ব্যাখ্যা করেছেন তথ্য সমাজের বিকাশ সংক্রান্ত ফেডারেশন পরিষদের সাময়িক কমিশনের সভাপতি সেনেটার রুসলান গাত্তারোভ:

   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সির প্রাক্তন কর্মী স্নোডেন যা বলেছেন তার চেয়ে এর মৌলিক পার্থক্য আছে. প্রথমত, এ নির্দেশনামা দেওয়া হচ্ছে প্রকাশ্যে. দ্বিতীয়ত, মার্কিনীরা সমস্ত প্যাকেট খুলে দেখছে, ডাক পরীক্ষা করছে. তারা সকলের বিরুদ্ধে – নিজেদের নাগরিক এবং সারা পৃথিবীর উপর, পূর্ণ মাত্রায় নজরদারী চালাচ্ছে. এখানে অবস্থা একেবারে অন্যরকম. অপারেটরদের কাছে দাবি করা হচ্ছে ১২ ঘন্টার ট্রাফিক জমা রাখতে, যাতে প্রয়োজনীয় সময়ে, যদি প্রয়োজন হয়, অপরাধে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য অথবা পত্র-বিনিময় বার করে নেওয়া যায়. আর তা করা হবে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্ত ও অনুসন্ধান কাজ সংক্রান্ত আইনের কাঠামোতে.

   সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতার উদ্দেশ্যে বিশেষ শিবিরে জঙ্গীদের প্রস্তুত করা এবং সন্ত্রাসবাদী সংস্থা গঠনের জন্য দায়িত্বও কঠোর করা হচ্ছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দুমার নিরাপত্তা এবং দূর্নীতির বিরোধিতা সংক্রান্ত কমিটির প্রধান ইরিনা ইয়ারোভায়া বলেন:

   এ আইনটি বহু মাত্রায় যুব সম্প্রদায়ের প্রতি নির্দেশিত. তাদের যখন অপরাধী সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য, বিশেষ শিক্ষার স্কুলে শেখার জন্য, তত্সংক্রান্ত সমিতি ও সংস্থায় ভর্তি করার জন্য চেষ্টা করা হয়, তখন তারা যেন বোঝে যে, এটা অপরাধ.

   গুরুত্বপূর্ণ হল, সন্ত্রাসবিরোধী সংগ্রাম যেন বিশ্বব্যাপী পরিসর গ্রহণ করে. বর্তমানে রাশিয়ার গোয়েন্দা বিভাগ সারা পৃথিবীতে অনুরূপ সংস্থাগুলির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে. যৌথ মহড়া চালানো হচ্ছে, তথ্য-বিনিময় করা হচ্ছে. তবুও এ ক্ষেত্রে এখনও ফাঁকা জায়গা রয়ে গিয়েছে. যেমন, এ বছরের বসন্তে যখন রাশিয়া মার্কিনী গোয়েন্দা বিভাগকে সাহায্য করেছিল বস্টন ম্যারাথনের সময়ে সন্ত্রাসের তদন্তে, যাতে চেচনিয়া-জাত সারনায়েভ ভাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা নিজে ভ্লাদিমির পুতিন-কে টেলিফোন করে ধন্যবাদ জানান. কিন্তু অপরাধীদের পারস্পরিক সমর্পণে তার প্রভাব পড়ে নি: রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে এমন চুক্তি আজও নেই. এমন আধা-কাঁচা ব্যবস্থা ফলপ্রসূ সহযোগিতায় সাহায্য করে না. বিশেষ করে এখন, যখন সন্ত্রাসবাদ সহজেই দেশের সীমানা অতিক্রম করছে.