সিরিয়া সঙ্কট মীমাংসার প্রচেষ্টা বিভাজিত হয়েছে দুই ধারায়: সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের ধ্বংস এবং “জেনেভা-২” সম্মেলন. রাসায়নিক অস্ত্র সম্পর্কে বলা যায় যে, এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি প্রত্যক্ষ. কয়েক দিন আগে সিরিয়া সম্পর্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ও আরব রাষ্ট্র লীগের বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উক্ত প্রশ্নে বিশ্ব জনসমাজের সাথে দামাস্কাসের সহযোগিতায়. ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধেক ধ্বংস করা হয়েছে বিষাক্ত বস্তু লক্ষ্যে পৌঁছোনোর গোলা, বোমা এবং রকেট ওয়ারহেড. সপ্তাহ দুয়েক পরে কাজের এ পর্যায়টি শেষ হবে. কিন্তু কে, কোথায় এবং কখন সঞ্চিত রাসায়নিক বস্তু ধ্বংস করবে, তা এখনও জানা নেই.

   আপাতত রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধ সংস্থার বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ত্যাগ করছেন না এবং স্থিরবিশ্বাস প্রকাশ করছেন যে, সিরিয়ার পুরো রাসায়নিক অস্ত্র ভান্ডার ধ্বংস করা হবে নির্ধারিত সময়ে – আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ.

   সমান্তরালভাবে জেনেভায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতিও চালানো হচ্ছে, তা আয়োজিত হতে পারে নভেম্বরের শেষ দশ দিনে. প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সিরিয়ার বিরোধীপক্ষের "জাতীয় কোয়ালিশনের" প্রধান আহমদ জাবার বলেছেন যে, বাসার আসদের অপসারণ যদি সম্মেলনের লক্ষ্য না হয়, তাহলে জেনেভায় যাবেন না. ঐ দিনই অন্য এক বিরোধী, সিরিয়ার জাতীয় পরিষদের সদস্য হেইসাম আল-মালেহ জানিয়েছেন যে, আসদের বিরোধীরা “জেনেভা-২” সম্মেলনে অংশগ্রহণ সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে ইস্তাম্বুলে ১লা নভেম্বর নিজেদের সাক্ষাতে. বিরোধীপক্ষের খেয়ালীপনা ও জেদ সত্ত্বেও, মস্কোয় আশা করা হচ্ছে যে, সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা কার্যক্ষেত্রে উপকার করবে, উল্লেখ করেন নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই সেরিয়োগিচেভ –

   আমার মনে হয় যে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে নির্দিষ্ট কাঠামো-ভিত্তিক চুক্তি. হয়ত, সিরিয়া আপোষের পথ-মানচিত্রের কথা ঘোষণা করা হবে. খুবই ইচ্ছে ছিল জঙ্গীদের সামরিক সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে শোনার এবং পরে কার্যক্ষেত্রে তা দেখার. আর তাছাড়া, পারস্য উপসাগরের দেশগুলিও যেন জঙ্গী দলগুলির পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করে এবং সিরিয়ায় তাদের পাঠানোর প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বন্ধ করে. আর সেই অনুযায়ী জর্ডান-সিরিয়া সীমানা এবং তুরস্ক-সিরিয়া সীমানা বন্ধ থাকে. তুরস্ক ও জর্ডান তা করতে সক্ষম.

   মস্কোর পশ্চিমী শরিকদের সত্যিকার অভিপ্রায়ের অস্পষ্টতা যেকোনো ইতিবাচক প্রত্যাশা ক্ষুণ্ণ করতে পারে. তা দেখিয়েছে লন্ডনে অনুষ্ঠিত “সিরিয়ার মিত্র” গ্রুপের সাক্ষাত্. এ সাক্ষাতে মার্কিনী পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি এ কথা সমর্থন করেছেন যে, সিরিয়ার বিরোধীপক্ষের কাছে সামরিক সরবরাহ চালিয়ে যাওয়া হবে. তবে কেন্দ্রীকৃতভাবে – সিরিয়ার বিরোধী সর্বোচ্চ সামরিক পরিষদের মাধ্যমে. বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেছেন যে, “সিরিয়ার মিত্র” গ্রুপের দেশগুলির বিদ্রোহীদের প্রতি সাহায্যের পরিমাণ বাড়ানো উচিত্.

   "সিরিয়ার মিত্র" গ্রুপের সাক্ষাতের অংশগ্রহণকারীদের দ্বারা গৃহীত শেষ দলিলে তার স্বাক্ষরকারীদের সামনে উত্থাপন করা হয়েছে আগেকার মুখ্য কর্তব্য – বাসার আসদের শাসনের উত্খাত. সিরিয়ার জনগণের একমাত্র আইনসঙ্গত প্রতিনিধি হিসেবে “জাতীয় কোয়ালিশনকে” নির্ধারণ করা হয়েছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লন্ডনের দলিলকে বর্ণনা করা হয়েছে সামরিক বল প্রয়োগের চিত্রনাট্যে ফেরার গোপন বিপদ হিসেবে.

   গত সপ্তাহে আরও জানা গিয়েছে যে, আনুমানিক ৫-৬ই নভেম্বর নাগাদ সিরিয়া সম্পর্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব রাষ্ট্র লীগের বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমি “জেনেভা-২” সম্মেলনের প্রস্তুতির কাঠামোতে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে ত্রিপাক্ষিক পরামর্শ বৈঠকে মিলিত হবেন. কিন্তু “সিরিয়ার মিত্র” গ্রুপের শেষ সাক্ষাতের ফলাফলের পটভূমিতে শান্তির আশা সম্পর্কে তার অংশগ্রহণকারীদের বিবৃতি ফাঁকা ঘোষণার মূল্য ধারণ করছে.