রাশিয়ায় ভারতের সঙ্গীতজ্ঞতের বহু গুণমুগ্ধ রয়েছে, যারা ভারতের বাদ্যসঙ্গীতের বংশপরম্পরা সম্পর্কে খুব ভালো করে জানে. তিনি কয়েক দশক ধরেই মাদল গোছের তারবাঁধা বাদ্যযন্ত্রে তার অতি উচ্চামানের পারদর্শীতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন. সোভিয়েত আমলে আমাদের দেশে দুর্দান্ত পারফর্ম করতেন তাঁর পতৃদেব উস্তাদ বিলায়েত খান. তাই অবাক হওয়ার কিছুই নেই, যে তাঁর পুত্র এবং বর্তমানে ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেতার বাদক নামে এতখানি সমাদরে বরণ করা হয়েছিল. টিকিট কাটার জন্য ছিল অবিশ্বাস্য হুড়োহুড়ি. এবং শুধুমাত্র রাজধানী মস্কোতেই নয়, কাজান, উফার মতো বড় বড় শহরে, যেথানে উস্তাদ সাজ্জাত হুসেন খানের গোষ্ঠী কনসার্ট দিয়েছে, সেখানেও. প্রখ্যাত সেতারবাদক বলছেন, যে ইতিপূর্বেও তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জাজ গ্রুপগুলির সাথে একসাথে বাজানোর জন্য এই দেশ সফর করেছেন. তবে নিজস্ব এ্যানসামবেলের সব সদস্যকে নিয়ে এই প্রথম রাশিয়ায় আসা পুরোমাত্রার সোলো জলসা শ্রোতাদের উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে.

ওস্তাদ সাজ্জাত  হুসেন খান সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাত্কারে উল্লেখ করছেন, যে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বহু শতাব্দীর উষ্ণ সম্পর্ক বিরাজমান রয়েছে. আমাদের দুই দেশ এবং এখানকার জনগন প্রথাগতভাবে পরস্পরের প্রতি পরম শ্রদ্ধা ও আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে এবং আমাদের মৈত্রী বহুলাংশে নির্ভর করে আমাদের দুই দেশের রাজনৈতিক সহানুবস্থানের ওপর. ভারত ও রাশিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শিল্পকলার ক্ষেত্রে মিলিত প্রবাহের সঙ্গম ঘটায়. এটা নিজের শোণিতে অনুভব করিস, যখন আমরা পড়ি রুশী ধ্রুপদী সাহিত্য আমরা গোগ্রাসে গিলতে থাকি, যখন আমরা চাইকোভস্কি সহ মহান রুশী প্রতিভাদের সৃষ্ট সঙ্গীতের রসাস্বাদন করি, উপভোগ করি অনবদ্য রুশী ব্যালে. বহু ভারতীয় সাংস্কৃতিক কর্মির শিল্পকীর্তির উপর তাদের প্রভাব লক্ষ্যণীয়. আর আমার মনে হয়, যে রুশবাসীর হৃদয়ে আমরন গাঁথা থাকে ভারতীয় শিল্পের প্রতি অকৃর্ত্রিম ভালোবাসা.

সারা বিশ্ববন্দিত ওস্তাদ সুজ্জাত হুসেন খান একজন দুর্দান্ত গায়কও. রাশিয়ায় তার গোষ্ঠীর সান্ধ্যানুষ্টানগুলির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল একটি ধ্রুপদী সান্ধ্য রাগ এবং কয়েকটি পঞ্জাবী গান. ওস্তাদ খানের দৃঢ় বিশ্বাস এই, যে রাশিয়ার জনগনের একান্ত আত্মিক ফ্যাকাল্টি, যা মানুষকে আপন মর্ম থেকে উন্নততর হতে উদ্দীপিত করে, ঈশ্বরপ্রতীম প্রশান্তি অর্জন করতে সহায়তা করে এবং আত্মউপলব্ধি অর্জন করে তাদের ক্রমাগত উন্নততর হওয়ার লক্ষ্যে মাধ্যম বানাতে সাহায্য করে যায়.

প্রিয় পাঠক ও শ্রোতারা! আমরা ওস্তাদ সাজ্জাত হুসেনের চিন্তাভাবনার স্রোতধারার সাথে আপনাদের পরিচয় করানো চালিয়ে যাব. তবে আসুন এখন ভাবগম্ভীর চিন্তাভাবনা থেকে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে আমরা শুনি রাশিয়ার রাজধানীতে ঐ জলসার একাংশ.

দীর্ঘক্ষণ ধরে করতালি, ঝুড়ি ঝুড়ি ফুল উপহার পাওয়া, এবং সুস্বাদু ও তার কনিষ্ঠ সহযোগী দুই তবলাবাদককে তা উপহার দেওয়ার প্রবল বাসনা – এই উল্লাসের সবকিছুরই দেখা পাওয়া গেছে মস্কোয়, কাজানে ও উফায়. সর্বত্রই তবলাবাজনের সাথে ছিল ওস্তাদ সাজ্জাত হুসেন খানের সেতারবাজন. ওস্তাদ সাজ্জাত হুসেন খান বলছেন - ৩০ বছর আগে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডের তরফ থেকে আপনাদের দেশ প্রথমবার সফর করার পরেও, আর সেবারে ইরকুত্স্ক, নোভোসিবিরস্ক, সোচি ও বর্তমান সেন্ট-পিটার্সবার্গে আমরা কনসার্ট দিয়েছিলাম. তবে সেবারে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলাম, যে তখন আপনাদের দেশে সবক্ষেত্রে আধুনিক দুনিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন পরিবর্তন করা হয়েছিল না. এবং স্বীকার করেছেন, সব অদলবদলই যে আমার ভালোলাগে, তা নয়.

উদাহরণস্বরূপ, আমার দেশ রাশিয়াতেও আধুনিকীকরনের প্রক্রিয়া চলছে. এটা বোধগম্য, কারণ ভারত ও রাশিয়া অন্যন্য দেশেদের সাথে কঠোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে. কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দেশের ধ্রুপদী সংস্কৃতির কথা ভুলে না যাওয়া, আর বরং উল্টে সেই বৈভবময় তাদের লালন পালন করা ও তার উপর জাতীয় নীতি প্রনয়ণ যেন নির্ভরশীল হয়.

ওস্তাদ সাজ্জাত হুসেন খানের বদ্ধ বিশ্বাস এই, যে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে পারস্পরিক কার্যকলাপ আমাদের মধ্যে সংলাপ নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার ইন্ধন যোগাবে. এই লক্ষেই আমাদের উভয় দেশে এক বছর অন্তর এক বছর পারস্পরিক উত্সবের আয়োজন করা হয়. এই বছর আমরা রাশিয়ায় অনুষ্ঠান করছি আর সামনের বছর রাশিয়ানরা তাদের অনুষ্ঠান ভারতের বিভিন্ন শহরে নিয়ে যাবে.