হিমশৈল স্টেডিয়াম নির্মাণের নকঁশা থেকে অনুমান করা গিয়েছিল যে এটি হবে একটি বিশালাকৃতির বরফের বল্ক। নির্মাণ কাজ এমনকি গ্রীষ্মকালেও চালিয়ে যাওয়া হয়। আর এর কৃষ্ণ সাগরের গরম বাতাস আর প্লাম গাছের ওই পরিবেশেও স্টেডিয়ামের চারিদিকে শীতকালিন আবহ বিরাজ করেছে। তবে স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে যে কেউ মনে অন্যান্য সাধারণ স্টেডিয়ামের মতই মনে করবে। তবে ওই স্থানে ফিগার স্কেটিং অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এটি মূলত প্রাথমিক ধাপ। এমনটি বলছেন হিমশৈল স্টেডিয়ামের প্রধান প্রকৌশলী আলেক্সান্দর উগারোভ। রেডিও রাশিয়াক তিনি বলেন, এ ধরণের শীতকালিন ক্রিড়া অবকাঠামো পৃথিবীতে দ্বিতীয় নেই। যেহেতু এটি মূলত ফিগার স্কেটিংয়ের অনুকূলে গড়ে তোলা হয়েছে। তাছাড়া শব্দায়ন ও আলোকস্বজ্জার যে সমারহ এখানে রয়েছে তাও অতুলনীয়। এখানে একক ও দ্বৈত ফিগার স্কেটিং প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যাবে।

তবে হিমশৈল স্টেডিয়ামে সোচি অলিম্পিক গেমসের শুধুমাত্র ফিগার স্কেটিং পর্বই অনুষ্ঠিত হবে না। এখানে স্বল্প ট্রাকের অনেক ইভেন্ট আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। শীতল তাপমাত্রা বজায় রাখতে স্থাপন করা হয়েছে বিশালাকৃতির রেফ্রিজার।

সোচি অলিম্পিক শেষে এই স্টেডিয়ামকে গ্রীষ্মকালিন খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা এখন করা হচ্ছে। আলেক্সান্দর উগারোভ বলেন, আমাদের জাতীয় সাইক্লিং দলের সব বিভাগের জন্য এই স্টেডিয়ামকে একটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব রয়েছে। স্টেডিয়ামে সাইক্লিয়ের জন্য ট্রাক থাকবে। এখান থেকে ফরমুলা-১ ট্রাকে চলে যাওয়া যাবে এবং সরাসরি পাহাড়ি ট্রাকে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। যার ফলে সাইক্লিংয়ে বছরব্যাপী অনুশীলন করা যাবে।

বর্তমানে হিমশৈল স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণক্ষমতা হচ্ছে ১২ হাজার। আর সাইক্লিয়ের জন্য ট্রাক করতে হলে আসন সংখ্যা আরো ৮ থেকে ৯ হাজার কমাতে হবে. তবে অলিম্পিকের আসর শেষ হওয়ার পর যারাই এখানে অনুশীলনের সুযোগ পাক নে কেন হিমশৈল বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে।