ওয়াশিংটনের জন্স গপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের লেখা বইয়ের স্মারক উন্মোচনী অনুষ্ঠানে এজবিগনেভ বেঝেজিনস্কীর সাবেক সহকর্মী ও বিশ্লেষকরা লেখকের সাথে একমত প্রকাশ করেছেন এবং তা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের পতন ঘটছে।

স্বয়ং বেঝেজিনস্কী বলেছেন, "১৩ বছরব্যাপী স্নায়ু যুদ্ধে চলাকালে মার্কিন কর্তৃত্বের সমাপ্তি এখন ঘটেছে এবং তা এখন ইতিহাসের পাতায়ই কেবল স্থান পাচ্ছে। আর হয়তো কখনো ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি ঘটানো সম্ভব হবেনা।"

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়ক পরিষদের সহকারি পরিচালক দিমিত্রি সুসলোভ রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, "বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য হ্রাস পাওয়ার পিছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে। এর প্রথম কারণ হচ্ছে বিশ্ব শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব খাটাতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ সময়ে চীন, ভারত, ব্রাজিল, তুরষ্ক ও রাশিয়ার অর্থনীতি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। একই সাথে এসব দেশগুলোর প্রতিরক্ষা বিভাগের শক্তিও বহুগুনে বেড়ে যায়। শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, রাজনীতি-কূটনীতি ক্ষেত্রেই অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি। আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য ভূলের মাশুল। ক্লিনটনের সময়ে তারা ধীরেধীরে আধিপত্যের সম্প্রসার করা শুরু করে এবং ৯০ এর দশকে আরো কঠোর অবস্থান আমরা দেখতে পাই। কিন্তু বুশ প্রশাসন যে উদ্দ্যেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হওয়ার পরিক্লপনা করেছিল তা অর্জনে পুরোটাই ব্যর্থ হয়। পুরো বিশ্বে মার্কিনবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এক অর্থে নিজেদের ভাবমূর্তি নিজেরাই নষ্ট করেছে।"

আমেরিকার আধিপত্য বিস্তার সবসময়ে একটি প্রশ্নের জন্ম দেয়। অনেক দেশ কিংবা একটি বিশেষ শ্রেনীর কিছু দেশকে মার্কিন হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। এমনটি মনে করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইনস্টিটিউটের সহকারি পরিচালক ভালেরি গারবুজোভ।

বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইতিমধ্যে স্বীকার করেছেন যে, পৃথিবী এখন বহুমেরীরে পরিণত হয়েছে এবং অন্যান্য পরাশক্তির দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা দরকার। আর এর থেকে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে বিশ্ব পরিবর্তনের পরিক্রমাকে মেনে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।