মিয়ানমারের রাজধানী সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেব ইতিমধ্যে পরিণত হয়েছে।

গত সপ্তাহে ইয়াঙ্গুনের ট্রাডের্স নামের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বোমা হামলা চালানো হয়। সাধারণত যারা ব্যাসায়িক বা ভ্রমণজনিত কারণে মিয়ানমারে আসেন তাদের অধিকাংশ ওই হোটেলেই অবস্থান করেন। মিয়ানমারে কর্মকরত জাতিসংঘের কর্মকর্তারাও সম্প্রতি ওই হোটেলেই উঠেছিলেন।

 ট্রাডের্স হোটেলে বোমা হামলায় ৪৩ বছর বয়সী এক মার্কিন নারী পর্যটক আহত হয়। অন্যদিকে তাউনগু শহরের একটি হোটেলে বোমা হামলায় নিহত হয় ২ জন। মিয়ানমারের আরেক দর্শনীয় শহর মান্দালে বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। ট্রাডের্স হোটেলে বোমা হামলার পর পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় সিকাইন রেস্টুরেন্টে বোমা বিস্ফরণ ঘটে।

এসব বোমা হামলার সাথে কে বা কারা জড়িত সে বিষয় মিয়ানমারের সরকার কোন বিবৃতি এখন পর্যন্ত দেয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের একটি দল অবশ্য বলছে যে, বোমা হামলা চালাতে পারে মিয়ানমারের উগ্রবাদী মুসলিম সংগঠনগুলো অথবা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন যারা মিয়ানমারের ভূখন্ড থেকে আলাদা হতে চাচ্ছে।এর আগেও মিয়ানমারে এ ধরণের বোমা হামলা ঘটেছিল কিন্তু এবারের কৌশলগত দিকে থেকে কিছুটা ভিন্ন চরিত্র দেখা যাচ্ছে। বোমা হামলা দূরবর্তী এলাকাগুলোতে করা হচ্ছে না বরং পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় যেসব স্থান সেগুলোকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। এমনটি বলছেন সেরগেই তোমিন। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন “সব কিছু বিবেচনা করলে নির্দিষ্ট উদ্দ্যেশ্য ছাড়াই এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয় নি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর কথা বিবেচনা করলে পর্যটন শিল্প সবচেয়ে দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে মিয়ানমারে। নিয়মিত বোমা হামলার মত ঘটনা ঘটলে বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করবে এবং মিয়ানমার ভ্রমণ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। সন্ত্রাসী হামলার সময়টাও চিন্তা-ভাবনা করে বাছাই করা হয়েছে। এবছরই ডিসেম্বরে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হবে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর সাউথ এশিয়ান গেমস। আর ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে মিয়ানমারকে আসিয়ান আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্ব বুঝিয়ে দেয়া হবে।''

২০১০ সালে মিয়ানমারে পার্লামেন্ট নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দশকের স্বৈরশাসন অবসান ঘটে। যদিও ক্ষমতায় থাকা অনেক শীর্ষ নেতারাই হচ্ছেন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। তারা ইতিমধ্যে মিয়নমারের রাজনীতিতে সংষ্কার এনেছেন, প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করার অনুমতি পাচ্ছে দেশটির রাজনৈতিক পার্টিগুলো।

হয়তবা বাধ্য হয়েই মিয়ানমার সরকার চলমান গণতান্ত্রিক নীতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। শুধুমাত্র ইসলামকি উগ্রপন্থিদের সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ার কারণেই নয় বরং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আলাদা হওয়ার প্রবনতা লক্ষ্যনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইদানিংকালে মিয়ানমারকে কয়েকটি অংশে ভাগ করার প্রস্তাবের কথা শোনা যাচ্ছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশের অনেক বাসিন্দা এমন সম্ভাবনার কথাই বলছেন।