রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধ সংক্রান্ত কনভেনশন স্বাক্ষর করে দামাস্কাস আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়ভাবে তার ধ্বংস করা শুরু করেছে. দু সপ্তাহের মধ্যে প্রায় অর্ধেক বোমা এবং বিষাক্ত বস্তু ভরার জন্য নির্ধারিত রকেট ওয়ারহেড ধ্বংস করা হয়েছে. আরও দু সপ্তাহের মধ্যে এ পর্যায় শেষ হবে.

   তবে খাস বিষাক্ত বস্তু সম্পর্কে কি করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়, উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশিষ্ট কর্মী আন্দ্রেই বাক্লিতস্কি –

   আগে রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধ সংক্রান্ত কনভেনশনের কাঠামোতে তা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হত সেই দেশেরই ভূভাগে, যেখানে তা অবস্থিত. রাশিয়া তা-ই করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, লিবিয়া, আলবানিয়াও. তাই, সিরিয়ারই ভূভাগে তা ধ্বংস করা প্রযুক্তিগত দিক থেকে সম্ভব নয়, এ কথা বলা ঠিক হবে না. অন্য দিকে, আমরা ভালভাবেই বুঝি যে, রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করা সেখানেই আকাঙ্ক্ষিত, যেখানে সামরিক ক্রিয়াকলাপ চলছে না.

   রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ এবং মার্কিনী পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি গত শনিবার এক কাঠামো-ভিত্তিক সমঝোতা স্বাক্ষর করেছেন, যা অনুযায়ী, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করা উচিত “সিরিয়ার সীমানার বাইরে, যদি তা সম্ভব হয়”. দামাস্কাস নিজের এ অস্ত্র ভাণ্ডার বিদেশে নিয়ে যাওয়ায় সম্মতি দিয়েছে. তবে, আপাতত তা কোথাও নিয়ে যাওয়ার জায়গা নেই. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার প্রতিবেশী – তুরস্ক ও জর্ডানকে এ বিষয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করেছে. তবে এ দেশগুলিতে সিরিয়ার দরুণ এমনিতেই বহুসংখ্যক সমস্যা দেখা দিয়েছে, আর নতুন সমস্যায় তাদের প্রয়োজন নেই. ইরাক ও লিবিয়া নিজেরাই অস্থিতিশীল. ইউরোপীয় দেশগুলি, সর্বপ্রথমে আলবানিয়া, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও ফ্রান্স, যাদের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবেদন করেছিল, ইতিবাচক উত্তর দিচ্ছে না. রাশিয়া সানন্দে সাহায্য করতে রাজি, কিন্তু তার সুযোগ-সম্ভাবনা নেই, বলেছেন রাশিয়ার সামরিক-শিল্প কমিশনের সভাপতির অধীন সামাজিক পরিষদের সদস্য ভিক্তর মুরাখোভস্কি –

   রাশিয়ায়, আইন অনুযায়ী, বিষাক্ত বস্তু পরিবহণ করা যায় না. তাছাড়া, আমাদের নিজেদের বিষাক্ত বস্তু ধ্বংস করার প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয় নি. আমাদের এখনও কয়েক হাজার টন ধ্বংস করতে হবে. সেগুলি রয়েছে কঠোরভাবে নির্ধারিত জায়গায়, যেখান থেকে তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না, সেখানেই তা ধ্বংস করা হচ্ছে.

   বর্তমানে রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের দুটি প্রকৌশল আছে : রাসায়নিক পদ্ধতিতে বিষাক্ত বস্তুকে নির্বিষ করা, এবং উচ্চ তাপমাত্রায় তা পোড়ানো. উভয় পদ্ধতিই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ, কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট পরিমাণ আর্থিক বিনিয়োগের, জোর দিয়ে বলেন সামরিক বিশেষজ্ঞ ভিক্তর মুরাখোভস্কি –

   যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের মূল্য জানা আছে. যেমন রাশিয়ায় নির্বিষ করার কারখানায় খরচ – প্রায় ২০ কোটি ডলারের মতো. পোড়ানোর সরঞ্জামের খরচ কিছু কম, কিন্তু তার প্রয়োজন বেশি মাত্রায়. বলা যেতে পারে মোট ২০-২৫ কোটি ডলারের মতো. তাছাড়া, আরও হিসেবে রাখা দরকার রাসায়নিক অস্ত্র একত্রিত করা, পরিবহণ করা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার খরচ.

   আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ভাণ্ডারের ধ্বংস শেষ করা উচিত্ আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ. সম্প্রতি, সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসদ বলেছেন যে, প্রকৃতপক্ষে সময় লাগবে এক বছরের কম নয়. পাশ্চাত্য সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এ প্রশ্ন প্রলম্বন করার চেষ্টার. তবে, কাজ যেভাবে এগুচ্ছে, তা বিচার করে মনে হয়, আসদের বলা সময়, বাস্তববাদী.