এই বড় ঘটনার আগে রাশিয়ায় ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রদূত অজয় মলহোত্র ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন –

রাশিয়া এবং ভারত উভয়েই বিশ্বাস করে, যে অথনৈতিক এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ. সম্প্রতি ৪ঠা অক্টোবরে মস্কোয় অনুষ্ঠিত দুই-দেশীয় আন্ত-সরকারি বৈঠকে বাণিজ্যিক. অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে. তার নীট ফল কি ? –

আমাদের দুই দেশেরই শীর্ষ নেতৃত্ব অগ্রাধিকার দিচ্ছে পারস্পরিক বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর. ৪ঠা অক্টোবর মস্কোয় অনুষ্ঠিত আন্তঃ সরকারি বৈঠকে আমরা একাধিক বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগমুলক প্রকল্প পেশ করেছি. ঐ কমিশনের অধীনে ১২টি আলাদা গ্রুপ কাজ করছে. যারা বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, সার, খনিজ দ্রব্য নিষ্কাশন, টেলিকম, আর্থিক ক্ষেত্র, সংস্কৃতি, পর্যটন নিয়ে কাজ করছে. এই প্রথম আমরা একটা কার্যকরী গ্রুপ গঠণ করেছি, যারা বিভিন্ন যৌথ মুনাফামুলক প্রকল্প যাচাই করে দেখবে, যেমন দিল্লি-মুম্বই রেলওয়ে করিডর. শীঘ্রই আমাদের যৌথ কমিশনের পরবর্তী বৈঠক নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আমরা কয়েকটা প্রকল্পের বিষয়ে ইতিবাচক ফলাফলের আশা রাখছি. আমরা আরও লক্ষ্য করেছি, যে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলতে থাকা সত্বেও আমাদের দুই দেশের মধ্যে পণ্য আবর্তন ২৪,৫% বেড়ে ২০১১ সালের ৮,৮৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০১২ সালে ১১,০৪ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে. আমাদের কোম্পানীগুলির মধ্যেও কিছু বকেয়া ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছি, যাতে সবাইকে সন্তুষ্ট করা যায়.

ভারতের সাথে রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্ট্র্যাটেজিক অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে কোন কোন সেক্টরে ?

আজকাল বহু দেশ ‘স্ট্র্যাটেজিক শরিকানা’ টার্মটি সস্তায় ব্যবহার করছে তাদের পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতার জানান দিতে গিয়ে. কিন্তু ইন্দো-রুশ যোগাযোগের শেকড় অনেক গভীরে. এটা অনন্য এবং বহুমুখী. এই সহযোগিতা আমাদের পারস্পরিক বিশ্বাস, সদ্ভাব ও অনুভূতিপ্রবণ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন ঘটায়.

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পারমানবিক শক্তি, মহাকাশ, প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে রাশিয়া ভারতের অনবদ্য ও প্রধান শরিক. এমনকি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সেক্টরে আমাদের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগগুলি করা হয়েছে রাশিয়ায়. ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক-প্রযুক্তিগত, সাংস্কৃতিক আন্তঃসরকারি কমিশন রাশিয়ার সঙ্গেই. আমাদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা পৃথিবীর কোনো দুটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি. প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে রাশিয়া হচ্ছে আমাদের প্রধান শরিক, এবং একমাত্র দেশ, যার সাথে আমাদের আন্তঃসরকারি সামরিক কমিশন আছে, যার নেতৃত্ব দেন স্বয়ং ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী. আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং আমরা এক বছর অন্তর একে অপরের দেশে পালন করি দেশীয় উত্সব. রাষ্ট্রসংঘে, জি-২০তে, ব্রিক্সে আমরা একনীতি অনুসরন করি. বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্দো-রুশী সহযোগিতা প্রমাণ করে, যে এটা দীর্ঘমেয়াদী, সারগর্ভসম্পন্ন এবং অনন্য.

সম্প্রতি আন্তঃসরকারি কমিশনের দুই প্রধান সলমন খুর্শিদ ও সের্গেই লাভরোভের মধ্যে আলোচনায় শাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে আলোচনা হয়েছে. এর ভবিষ্যত কি ?

আমরা সন্তুষ্ট, যে রাশিয়া শাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় ভারতের পূর্ণমাত্রায় সদস্য হওয়ার ইচ্ছাকে সমর্থন করছে, সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ খোলাখুলি এই কথা বলেছেন. ভারত ২০০৫ সাল থেকেই পর্যবেক্ষক হিসাবে এসসিও-তে উপস্থিত আছে. আমরা এই সংস্থার কাঠামোয় আমাদের প্রতিরক্ষা আরও মজবুত করতে চাই এবং অর্থনৈতিক লেনদেন গভীরতর করতে চাই. এর থেকে সবারই উপকার হবে.

সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বরাবর আমাদের দুই দেশের সহযোগিতার মুল কেন্দ্র ছিল. এখন পরিস্থিতি কি রকম ? এটা তো অজানা নয়, যে ইদানীং ভারত এই ক্ষেত্রে আমেরিকা ও ফ্রান্সের সাথে সখ্যতা বাড়াচ্ছে.

ইদানীং সামরিক ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক থেকে পর্যবসিত হয়েছে যৌথ গবেষণায়, ডিজাইনের দিক থেকে, প্রতিরক্ষা পদ্ধতির উন্নয়ন ও তাকে আরও পরিশীলিত করার ব্যাপারে.

রুশী অস্ত্রনির্মানকারীরা যে প্রবল প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়, এটা নতুন কিছু নয়. কিন্তু তাসত্বেও রাশিয়ার সাথে আমাদের সামরিক সহযোগিতা ক্রমাগত বেড়েছে. বহুক্ষেত্রে রাশিয়ার কোম্পানীরা টেন্ডার জিতেছে, মাঝে মাঝে অন্যান্য দেশের কোম্পানীরাও জিতেছে. এটা বরাবরই ছিল. এখানে নতুন কিছু নেই – বলছেন রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত অজয় মলহোত্র. -