১. অলিম্পিকে রেফারি-র ভুল

 যেমন, ১৯৩২ সালে লস-এঞ্জেলেস অলিম্পিকে পুরুষদের ৩০০০ মিটার স্টিপল-চেজ দৌড়ের ফাইনালে রেফারি, বিশেষ প্রয়োজনে কিছুক্ষণের জন্য সরে গিয়েছিলেন, এবং নিজের জায়গায় কাউকে রেখে যান নি. ভেবেছিলেন যে, সময় মতো ফিরে আসতে পারবেন. ফিরে এসে, রেফারি ভুলে গিয়েছিলেন দৌড়বীররা কত চক্কর দৌড়েছেন, আর তাই তাদের আরও এক চক্কর দৌড়োতে বাধ্য করেন – কম যেন না হয়. দৌড়বীররা শেষ দমে অষ্টম চক্কর দৌড়োয়. এ ভুল শিগগিরই ধরা পড়ে যায়, কিন্তু ... এ দৌড় ঠিক বলে বিচার করা হয়. জয়লাভ করেন ফিনল্যান্ডের উওলমারি ইসো হোল্লো. ঐ অলিম্পিকে এটাই একমাত্র রেফারির ভুল ছিল না, তাই সাংবাদিকরা একে নাম দেয় "রেফারিদের ভুলের অলিম্পিক". ২০০ মিটারের দৌড়ে আমেরিকার রাল্ফ মেটকেল্ফ সামান্য পেছিয়ে পড়েছিলেন নিজের দেশবাসী এড্ডি টউলেনের চেয়ে দৌড়ের একেবারে শেষ দিকে. কিন্তু পরে জানা যায় যে, মেটকেল্ফ দৌড়েছিলেন ২০২ মিটার, ২০০মিটার নয়, আর তাঁরই বিজয়ী হওয়া উচিত্ ছিল. তবে, এটাই অলিম্পিকের সবচেয়ে বড় মজার ঘটনা নয়. পোল্যান্ডের মেয়ে স্তানিস্লাভা ভালাসেভিচ ১০০ মিটার দৌড়ে জয়লাভ করেন এবং মেয়েদের মাঝে নতুন বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেন. শুধু পরে, ১৯৮০ সালে তাঁর মৃত্যুর পরে জানা যায় যে, ঐ অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ছিলেন পুরুষ!

২. ফিগার স্কেটিং – “আইসবার্গে”, আইস হকি – “শাইবায়”

অলিম্পিকের ফিগার স্কেটিং ও স্কেটিং দৌড় অনুষ্ঠিত হবে সোচি-র অলিম্পিক পার্কের “আইসবার্গ” নামে ক্রীড়া-প্রাসাদে. এই বরফের ক্রীড়া-প্রাসাদ – প্রকৌশলের প্রকৃত আশ্চর্য. এখানে বরফের তাপমাত্রা সহজেই বদলানো যায়. কারণ ফিগার স্কেটিং এবং শর্ট-ট্র্যাকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্রা প্রয়োজন. এ ক্রীড়া-প্রাসাদের বিশেষ মূল্যায়ন করবে ফিগার-স্কেটিংয়ের প্রেমীরা – বসার সারি শুরু হয়েছে বরফের একেবারে কাছে এবং দর্শকরা সমস্ত অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য ভালোভাবে দেখতে পারবে. প্রসঙ্গত, ফিগার স্কেটিংয়ের একটি উপাদান ক্রীড়া প্রাসাদের স্থাপত্যেও দেখতে পাওয়া যায়. ফিগার স্কেটারদের "তিন পাকের লাফের" ট্র্যাজেক্টরির সঠিক অনুকরণ দেখতে পাওয়া প্রাসাদের সম্মুখ ভাগের লাইনে.

এই“আইসবার্গের” পাশেই অবস্থিত “শাইবা” (পাক) নামে বরফের চত্বর. সেখানে অনুষ্ঠিত হবে অলিম্পিকের আইস-হকি প্রতিযোগিতা. এ ভবনটির আকার বরফের ঘূর্ণির মতো. আর সন্ধ্যার সময় “শাইবা-র” সম্মুখ ভাগে জ্বলবে সাদা আলো, যা তুষার-ঝড়ের মতো দেখতে লাগবে. এই রঙীন আলোর সজ্জা তৈরি করা হয়েছে তথাকথিত “বুদ্ধিমান” আলোক-মালার সাহায্যে.

৩. অলিম্পিক মশালের রিলে

রাশিয়ায় অলিম্পিক মশালের ভ্রমণের অসম্পূর্ণ দু সপ্তাহে অলিম্পিক মশাল গিয়েছে ২২টি শহরে. তার যাত্রা শুরু হয়েছিল মস্কোয় ৭ই অক্টোবর. রাজধানীতে থাকার দু দিনে তা গিয়েছিল ক্রেমলিনে, লুঝনিকি স্টেডিয়ামে, যেখানে ৩০ বছরের কিছু আগে জ্বলেছিল গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আগুন, মশাল নেমেছিল ৮০ মিটার ভূগর্ভে মেট্রো রেল-স্টেশনে, আর তারপর উঠেছিল সমুদ্র-তল থেকে ৩৪০ মিটার উচ্চতায়, ইউরোপের সর্বোচ্চ ভবন, ওস্তানকিনো টেলিভিশন টাওয়ার-কে আলোকিত করে. তার পরে মশাল তার যাত্রা চালিয়ে যায় মস্কো প্রদেশের সবচেয়ে সুন্দর শহরগুলি হয়ে. মহান সাহিত্যিক লেভ তলস্তয়ের ইয়াস্নায়া পলিয়ানা ভবনের দিকে এ মশাল নিয়ে যায় ১৫০ জন মশাল-বাহক, সেই সঙ্গে মহান সাহিত্যিকের প্রপ্রপৌত্র ভ্লাদিমির তলস্তয়ও.