চেলিয়াবিনস্কের তেজস্ক্রিয় ও প্রাকৃতিক নিরাপত্তা মন্ত্রকের তথ্য সচিব মারিনা আলেক্সান্দ্রভা ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন –

প্রাথমিক আনুমানিক ওজন নেওয়া হয়েছিল. ওটার ওজন ছিল ৫০০ কিলোগ্রামের বেশি. খন্ডটিকে ডাঙায় তোলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন চেলিয়াবিনস্ক রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা, যারা বাইরে থেকে দেখে এই খন্ডটিকে ‘পাথুরে উল্কা’ বলে অভিহিত করেছেন.

দুইদিন আগেও ডাইভাররা উল্কার খন্ড খোঁজার কাজ থেকে বিরত হতে চেয়েছিলেন. তেজস্ক্রিয় ও প্রাকৃতিক মন্ত্রণালয়ের সাথে করা চুক্তিতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েঠিল, সেই ক্ষেত্র, যার মধ্যে উল্কাটি ভূপাতিত হয়েছে. এটা ঘটেছিল শীতকালে, ফেব্রুয়ারী মাসে. উল্কা পতনের পরে সেখানে একটা বিশেষ স্তর সৃষ্টি হয়েছিল জলের ওপরে. সেটাকেই ব্যুত্পত্তি ধরে ডুবুরিরা সন্ধানকাজ শুরু করেছিলেন. তারা ১৩টি খন্ড জলের তলা থেকে তুলেছিলেন, যাদের মধ্যে সবচেয়ে ভারীটির ওজন ছিল ২০ কিলোর কাছাকাছি. কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন, যে উল্কার আসল খন্ডটার ব্যাস এক মিটারের কম নয় এবং তার ওজন অন্ততপক্ষে কয়েক কুইন্টাল. কিন্তু ওটকে কিছুতেই আবিষ্কার করা যাচ্ছিল না – বলে চলেছেন মারিনা আলেক্সান্দ্রভা. –

খোঁজার কাজ এই কারণেই চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল যে, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কয়েকটি দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল. মানে তথাকথিত ফোর্সমাঝোর. তাই চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে হয়েছিল কয়েকদিনের জন্য.

চেবারকুল হ্রদ যেন মহাকাশ থেকে আসা অতিথিকে কোনোভাবেই ছাড়তে চাইছিল না. ঐ বড় খন্ডটি পড়েছিল হ্রদের কেন্দ্রস্থলে, সবচেয়ে গভীর জায়গায়. উরালে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল, যে উল্কাটা আদপেই চেবারকুল হ্রদে পড়েছে.

স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যে গত ১৫ই ফেব্রুয়ারী চেলিয়াবিনস্কে উল্কাপতনের ফলে ১২০০ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল. স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৩ কোটি ডলারেরও বেশি বলে নির্ধারণ করেছিল. মহাবিশ্ব থেকে আসা পদার্থ খন্ডগুলি অনুধাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা. রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যে ঐ উল্কাটির বয়স ৪৫ লক্ষ বছর, ঠিক পৃথিবীর বয়সের সমান. বিশ্ব বিজ্ঞান সমাজের জন্য ‘চেলিয়াবিনস্ক’ উল্কা শিহরনজনক প্রাপ্তি সেই তুঙ্গুস উল্কার পরে. বিজ্ঞানীরা একে অভিহিত করছেন ‘শতাব্দীর ঘটনা’ বলে, কারণ এরকম কান্ড ১০০ বছরে একবারই ঘটে.