দেশটির সরকার এক ঘোষণায় জানায়, তুরষ্কের সাথে সীমান্তবর্তী এলখোভা এলাকায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত প্রাচীর তৈরী করার ঘোষণা দিয়েছে। সিরিয়ার শরনার্থীদের অনুপ্রবেশ কমানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত। বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাসিলিয়া মারিনোভার মতে, প্রাচীরের উচ্চতা হবে ৩ মিটার। এ বিষয়ে আরো বলছেন রাষ্ট্রবাজ্ঞানী স্ত্রানিসলাভ তারাসোভ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেছেন, “সিরিয়ার শরনার্থীদের অবরুদ্ধ করার আরো একটি পথ হলো বুলগেরিয়ার প্রাচীর। আর প্রথমটি ছিলো তুর্কি প্রাচীর। অথচ এইতো কিছুদিন আগেও আংকারা অনেকটা গৌরবের সাথে নিজেদের ভূখন্ড সিরিয়ার শরনার্থীদের জন্য বরাদ্ধ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। হয়তো সিরিয়ার সরকারের ক্ষমতা বদল হতে পারে সেই আলোকে ঘোষণা দিয়েছিল। আর এখন দেশটির সরকার বলছে যে, সিরিয়ার অভিবাসী তাদের জন্য অনেক বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুরষ্কের ভূখন্ডে বর্তমানে প্রায় দেড় মিলিয়ন সিরীয় শরনার্থী বসবাস করেছে। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী রিসেচ তাইপ এরদোগানের মতে, সিরীয় শরনার্থীদের পিছনে ইতিমধ্যে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে তুরষ্ক। এর মধ্যে মাত্র ১৩৫ মিলিয়ন সাহায্য আসে আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীর কাছ থেকে। আর তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত দাভুতাগলু এক বিবৃতিতে বলেছেন, সিরিয়ার শরনার্থী প্রশ্ন আন্তর্জাতিক কমিউনিটির কাঁধে তুলে নেওয়া উচিত।"

তবে এখন শুধু শরনার্থী নিয়ে কথা হচ্ছে না। সিরিয়ার সীমান্ত দিয়ে তুরষ্কে এখন অস্ত্রধারী জঙ্গিরা প্রবেশ করছে। এক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে গত মে মাসে ঘটা ঘটনা। সীমান্তবর্তী রেইখানলি এলাকায় দুটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৫০ জনের মত নিহত হয়েছিল।

তুরস্কের হাতাই প্রদেশে সিরিয়ার সাথে সীমান্তবর্তী এলকায় প্রবেশপথ বন্ধ করে দিলে এর জবাবে আংকারায় বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলো জঙ্গিরা। তুর্কি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, জঙ্গিরা সিরিয়ার শরনার্থী শিবিরে গিয়ে নিজেদের দলের জন্য সদস্য সংগ্রহ করছে। এর অর্থ হচ্ছে সিরিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এখন তুরষ্কের সীমান্তে ছড়িয়ে পড়ছে।

কূটনৈতিক প্রাচীর দিয়ে এসব বিপদজনক প্রক্রিয়া কি বন্ধ করা যাবে? । স্বনামধৈন্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তা হয়তো সম্ভব নয়। তাঁরা মনে করছে যে, শুধু একটি পথ খোলা রয়েছে। সিরিয়া সংক্রান্ত শান্তি আলোচনা জেনেভা-২ শুরু করার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর এ কাজের জন্যই খুব শীঘ্রই সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘ ওআরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমী মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাচ্ছেন। আর তুরস্কে সফরে যাবেন ব্রাহিমীর সহকারি প্রতিনিধি নাসের আল-কিদভা। আশাকরা হচ্ছে যে, ওই সময়ে তুর্কি সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাত করা ছাড়াও সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন তিনি।

জেনেভা সম্মেলনের সাথে নিজেদের সক্রিয় অংশগ্রহণ তুর্কি কূটনীতির জন্য সবচেয়ে ভাল একটি সুযোগ যেহেতু সিরিয়ার বিরোধী জোটের কোন একটা অংশের সাথে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করছে তুরস্ক। শুধু তাই নয়, সিরিয়ার অন্যতম বিরোধী জোট যাদের ওপর তুর্কি সরকারের প্র্ভাব রয়েছে সেই ন্যাশনাল কোয়ালিশন জোট হয়তো জেনেভা-২ সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিতে পারে। আর সিরিয়ার সংকট নিরসণে তুরস্কের অংশগ্রহণ একদিকে যেমন নিজেদের নিরাপত্তার খাতিরে প্রয়োজন, ঠিক তেমনি পুরো অঞ্চলে স্বভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য অনূরুপ প্রয়োজন। শুধু এই পথেই অগ্রসর হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। তুরস্ক বা বুলগেরিয়ার সীমান্তে সীমানা প্রাচীর দিয়ে নয়।