ভারতের পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন যে, এ সফরের একটি মুখ্য ফল হওয়া উচিত ভারত-চীনা সীমানায় পরিস্থিতি নরম হওয়া এবং এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে এপ্রিল মাসে লাদাখে যেমন ঘটনা ঘটেছিল সে রকমের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে না দেওয়া. তবে, পৃথিবীতে বহু ভূভাগীয় সঙ্ঘর্ষের ভিত্তিতে থাকা একটি মুখ্য বিষয় হল সীমান্ত-পারের নদীর জলের ব্যবহার, আর চীন, সব কিছু বিচার করে মনে হয়, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে.

   অবশ্যই, সর্বদার মতো, সরকারের প্রধানের সরকারী সফরের সময় আলোচ্য বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন থাকে. ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সম্ভবত, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা অতিক্রমের প্রয়োজনীয়তার বিষয় উত্থাপন করবেন. আর তা গোটা পণ্য-আবর্তনের প্রায় অর্ধেক: যার মোট পরিমাণ ৬ হাজার কোটি ডলারের উপর, এবং তাতে ভারতে চীনা দ্রব্যের আমদানি চীনে ভারতের রপ্তানির চেয়ে বেশি প্রায় ৩ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি. রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেন –

   ভারত-চীনা সম্পর্কের মুখ্য প্রশ্ন এবং মুখ্য আপাত-বিপরীত ব্যাপার সীমান্ত প্রশ্ন অমীমাংসিত থাকার সাথে সম্পর্কিত. আপাত-বিপরীত ব্যাপার হল এই যে, ভারত-চীনা সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য হল বাণিজ্যিক-অর্থনৈতিক শরিকানার দ্রুত বিকাশ, যা কিছুতেই বিদ্যমান রাজনৈতিক মতভেদ অতিক্রম করতে পারছে না.

   ভারতের পত্র-পত্রিকা জানাচ্ছে যে, মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় সীমানায় প্রতিরক্ষাত্মক সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা, যার উদ্দেশ্য হল এ বছরের এপ্রিল মাসের মতো ঘটনা নিবারণ করা. মনে করিয়ে দিই যে, তখন চীনের সেনাবাহিনী ভারতের ভূভাগের গভীরে অনুপ্রবেশ করেছিল সেই অংশে, যাকে চীন বিতর্কিত এলাকা বলে মনে করে এবং তখন পক্ষদ্বয় ইতি কাঠিন্যের সাথে সশস্ত্র সঙ্ঘর্ষ এড়াতে সক্ষম হয়েছিল –

   সমস্যা হল এই যে, অনুমিত চুক্তি নিছক টেকনিক্যাল চরিত্র ধারণ করে এবং তা দু দেশের সমরসেবীদের পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য. অতি গভীরে থাকা রাজনৈতিক প্রশ্ন, আগের মতোই, অমীমাংসিত থাকছে. মনে করিয়ে দিই যে, চীন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের ভূভাগের একাংশ দখল করে রেখেছে এবং ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ভূভাগ দাবি করছে.

   চীনা পত্র-পত্রিকার প্রকাশনাগুলি বিচার করে বলা যায় যে, চীন সীমান্ত-পারের নদীর, সর্বপ্রথমে ব্রহ্মপুত্র নদীর জলের ব্যবহার সম্পর্কিত একসারি বিতর্কমূলক প্রশ্ন আলোচনায় ভারতের প্রচেষ্টা অবরোধ করতে চায়. চীনের "গ্লোবাল টাইমস" পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধে, তার রচয়িতা, আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজির জাতীয় ইনস্টিটিউটের গবেষক যথেষ্ট কঠোরভাবে লিখেছেন যে, ভারত চীনের উপর আরও বেশি চাপ দিতে চায় প্রকৃত তথ্যকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে এবং আন্তর্জাতিক জনসমাজের মনোযোগ এ দিকে আকর্ষণের চেষ্টায়, যাতে তিব্বতের জল-সম্পদ আয়ত্তে আনায় চীনকে বাধা দেওয়া যায় –

   জল-সম্পদ ব্যবহারের প্রশ্ন – বিশ্ব রাজনীতিতে একটি অতি তীব্র প্রশ্ন. বহু গবেষকের মতে, বিংশ শতকের জন্য বৈশিষ্ট্য ছিল তেল ও গ্যাসের জন্য যুদ্ধ করা, আর একবিংশ শতকে তার স্থান নেবে এই জলের জন্য যুদ্ধ.

   আর বহু সীমান্ত সঙ্ঘর্ষের ভিত্তিতে থাকা মৌলিক সব প্রশ্ন, সেই সঙ্গে, মুখ্যতঃ পশ্চিমে, উত্তরে ও দক্ষিণে প্রায় সমস্ত প্রতিবেশীর সাথে চীনের সঙ্ঘর্ষ যদি মীমাংসিত না হয়, তাহলে সীমান্তে সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি, যা বেজিংয়ে স্বাক্ষরের পরিকল্পনা আছে, তা প্রসাধনী চরিত্রের চেয়ে বেশি কোনো বৈশিষ্ট্য ধারণ করবে না.