আয়তনের দিক থেকে ককেশিয়ান প্রাকৃতিক বায়োস্ফেরিক অভয়ারণ্য ইউরোপে বাভারিয়ার বনের পরেই দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে. উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে রাশিয়ার সম্রাট পরিবার ঐ বনটি ইজারাতে নিয়েছিলেন. তখনই খোলা চোখে এর অসাধারণত্ব বোঝা যেত. ইউনেস্কোর প্রাকৃতিক সম্পদের তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়ে ১৯৯৯ সালে অবশেষে অভয়ারণ্যটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে. গ্রীনপিসের বিশেষজ্ঞ মিখাইল ক্নেইডলিন মনে করেন, যে মুলত প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যই এর আসল সম্পদ. –

ককেশাস পর্বতমালার পশ্চিমাঞ্চলে এটাই বৃহত্তম অভয়ারণ্য, যেখানে একইসাথে সব প্রাকৃতিক মন্ডল প্রত্যক্ষ করা যায়. এখানে আপনি দেখতে পাবেন সুপ্রাচীন অরণ্য, আল্পসের মতো সুবিস্তৃত তৃণভূমি, আর অবশ্যই পাহাড়ের পর পাহাড়. এখানে এমন সব দৃশ্যপট, যা অন্য কোনোখানে মিলবে না.

অভয়ারণ্যের প্রধান গর্বের বস্তু হল গ্রোভ. এখানে গাছেদের গড় বয়স ৪০০ বছর, আর কিছু কিছু গাছ ২০০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন. প্রতি পাঁচটি উদ্ভিদের মধ্যে একটি এখানে প্রাচীনকালের সাক্ষী আর এখানকার এক-তৃতীয়াংশ উদ্ভিদ রেডবুকে স্থান পেয়েছে. এই অরণ্যকে প্রায়শই কলখিদার বাদা বলে উল্লেখ করা হয়. কলখিদা ছিল সুপ্রাচীন সাম্রাজ্য, এই এলাকায় যার অস্তিত্ব ছিল এমনকি খ্রীষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে এবং স্বয়ং হেরোডেটাস তার ঐতিহাসিক বৃত্তান্তে এর উল্লেখ করেছেন. এটা অনন্য স্থান, যেখানে এত প্রাচীন জীবন্ত বস্তু প্রত্যক্ষ করা যায়. অভয়ারণ্যের উপ-আধিকারিক আলেক্সেই মিত্রোফানভ মনে করেন, যে এটা ঘটেছে সম্ভবত স্বকীয় মাইক্রো-ক্লাইমেটের দৌলতে. –

উত্তর দিক থেকে অভয়ারণ্যটি উঁচু পর্বতমালা ও বনের আচ্ছাদন দিয়ে আড়াল করা আর দক্ষিণ দিকে কৃষ্ণ সাগর. প্রায় সারা বছর এখানে আর্দ্রতা ৮৫ শতাংশের বেশি. এখানে বরফপাত হয় না এবং তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির নীচে নামে না. এরকম অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশই সম্ভবত অভয়ারণ্যটিকে এখনো জিইয়ে রেখেছে.

জীবজগত্ও এখানে কম আগ্রহোদ্দীপক নয়. এখানে দেখা মেলে তেমন জন্তুদের, যারা দশ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে বিরাজ করতো, এবং এমন সব স্তন্যপায়ী প্রাণী, যারা পৃথিবীর বুক থেকে প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে. ককেশাস অভয়ারণ্যের শেষে সোচি ন্যাশনাল পার্ক, যার খ্যাতি জলপ্রপাত ও গিরিখাতের জন্য. এই প্রসঙ্গে বলছেন সোচি শহরের পর্যটন বিভাগের কর্ণধার ভিতালি ব্রেনজান. –

সেরকমই একটা হচ্ছে পাতলা নদী স্ভানিদ্জে. ১০০ মিটারের মধ্যে ১৮টি জলপ্রপাত! যদিও নদীটির দৈর্ঘ্য ২ কিলোমিটার.

আরও একটা অবশ্যদ্রষ্টব্য জায়গা হচ্ছে আহুন পাহাড়ের চূড়ায় বুরুজ. ওটা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি নির্মান করা হলেও স্থাপত্যের দিক থেকে মধ্যযুগকে মনে পড়িয়ে দেয়. ওর চূড়া থেকে সোচি শহরের চিত্তাকর্ষক দৃশ্যপট অবলোকন করা যায়. আর রৌদ্রজ্জ্বল দিনে অনেকে ওখান থেকে এমনকি তুরস্কের পর্বতমালা অবলোকন করতে পারে.