আজকের দিনে সবার জন্য সুবিদিত ইউরোপ থেকে গাদায় গাদায় ভাড়া করা জঙ্গী. বিশেষতঃ সিরিয়ায় এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেছে, কিন্তু এই প্রচলন শুরু হয়েছে আরও আগে. বেলজিয়ামের সেনেটের সাম্মানিক সভাপতি আন-মারি লিজিন এই প্রসঙ্গে বলছেন –

আমরা বেলজিয়ামেই থাকি বা ফ্রান্সেই থাকি, লক্ষ্য করছি যে অল্পবয়স্ক এবং মধ্যবয়সীদের রিক্রুট করা হচ্ছে. লোকে পয়সা কামানোর জন্য যুদ্ধ করতে যায়. আমরা জানি, যে কয়েকটি সুপার পাওয়ার এর জন্য অর্থ সরবরাহ করে. আমরা মনে করি, যে যারা এই কাজ করছে, তাদের অবিলম্বে এ থেকে বিরত হওয়া অপরিহার্য. নির্দ্বিধায় বলবো, যে এরকম অপারেশনের পেছনে আছে সৌদি আরব.

সারা পৃথিবী জুড়ে আমেরিকার অপ্রকাশ্য মদতে ‘জিহাদের সমর্থনে’ এরকম রিক্রুট আইনগতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়. কিন্তু বিশেষজ্ঞদের দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, পৃষ্ঠপোষকদের মদত ছাড়া জিহাদীরা এত খোলাখুলি নির্লজ্জ আচরণ করার সাহস পেত না. ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর অবিশ্বাস্য হামলার পরে আমেরিকা নিজেকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের শত্রু বলে ঘোষণা করেছিল. সাথে সাথে ঐসব প্রোজেক্ট গুটিয়ে নেওয়া হয়েছিল. কিন্তু লিবিয়ায় ঘটনা শুরুর সাথে সাথে ঐ মেশিন আবার পুরোদমে চালু হয়ে গেল. ততক্ষণে আমেরিকার ইউরোপীয় দোসররাও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল. এবং অবশ্যই ইউরোপে রিক্রুট সেন্টারগুলি পুরোদমে কাজ করতে শুরু করলো.

পশ্চিম ইউরোপ ছাড়াও রিক্রুটাররা বালকানেও সক্রিয়. কিছুদিন আগে জানা গেল যে, মন্টেনিগ্রোতে এমন একটা সার্বিয়ান পরিবারকে আবিষ্কার করা গেছে, যারা চরমপন্থী ইসলাম গ্রহন করেছে এবং তাদের বাসগৃহ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র ও বুলেট, জানা গেছে, যে ঐ লোকটি নিয়মিত সিরিয়ায় যেতো ভাড়া খাটতে.

আর বসনিয়ায় জিহাদীদের ট্রেনিং দেওয়া হয় এমনকি স্কুলের স্পোর্টস সেকশনে. উপরন্তু ঐ দেশে আল-কায়িদার ছত্রছায়ায় বহু জঙ্গী ব্রিগেডকে তৈরী করা হচ্ছে, এই সম্পর্কে প্রায় সবাই জানে. ইতিমধ্যেই প্রমাণিত, যে এরকম ব্রিগেডই ২০০৪ সালে মাদ্রিদে সিরিজ ট্রেন আক্রমণের জন্য দায়ী. সেই সময় থেকে পরিস্থিতি তেমন বদলায়নি. এখনো প্রায়ই সিরিয়ায় নিহতদের কাছে পাওয়া যায় বসনিয়ার পাসপোর্ট.

ম্যাসেডোনিয়ায়ও চরমপন্থী ইসলাম রীতিমতো ঘাঁটি গেড়েছে. কোসোভাতেও আস-কায়িদা তার বহু প্রশিক্ষণ শিবির গড়েছে, যেখানে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে তাদের, যাদের সিরিয়ায় পাঠানো হবে যুদ্ধ করার জন্য.

যদি এই সব তথ্য একসাথে জড়ো করা হয়, তাহলে বোঝা যাচ্ছে আমেরিকা ও তার শরিক ইউরোপীয় দেশগুলির অভিপ্রায়. ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের প্রোজেক্ট – ‘স্বাধীন কোসোভা’য় অভিভাবকদের নির্দেশ ছাড়া কিছু করা সম্ভব নয় এবং এটা শুধুমাত্র জঙ্গীদের তৈরী করার বহু ঠিকানার একটা মাত্র – ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সেই কথাই বলছেন জার্মানীর বিশেষজ্ঞ ডক্টর হ্যান্স ক্রেখ. –

রীতিমতো শ্রদ্ধেয় আমেরিকার Defence & foreign affairs strategic policy জার্নাল মাস দুয়েক আগে এই বিষয়ে ইন্টারেস্টিং হিসাব দাখিল করেছে. যদি তাদের রিপোর্টকে বিশ্বাস করা যায়, তাহলে আমেরিকা বহু মাস ধরে জর্ডানে তিন হাজার জঙ্গীকে তৈরী করছে, পরে তাদের দামাস্কাসে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য. তারা একবার সেই চেষ্টা করেওছিল, কিন্তু সশস্ত্র বিদ্রোহীদের কোনো একটা গোষ্ঠী তাদের ঢুকতে দেয়নি. আর আরবের পত্রিকাগুলোতে আমি পড়েছি, যে ফরাসি গুপ্তচর বিভাগও এই কর্মে লিপ্ত আছে.

যতদূর মনে হয় রাজনৈতিক জিহাদের সংগঠক ও আর্থিক মদতদাতারা নিজেদের বা অপরের ভুলে শিক্ষা নিতে চায় না. ১৯৭৯-১৯৮৯ সালেই পশ্চিমী গুপ্তচর বিভাগগুলির সাথে রক্ষণশীল মুসলিমদের প্রথম আঁতাত হয়েছিল. সামরিক অভিযানে রপ্ত হয়ে মোজাহেদরা দেশে ফিরতো এবং সেখানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতো. এর ফলশ্রুতিতে প্রবলহারে হিংসাত্মক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছিল সৌদি আরবে, মিশরে, মরক্কোয়, আলজিরিয়ায়. তারপরে আমেরিকায় ১১ই সেপ্টেম্বরের কালো দিন, মাদ্রিদ ও লন্ডনে সন্ত্রাসী আক্রমণ. তা সত্বেও পশ্চিমী দেশগুলি ও তার শরিকরা এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষন করে, যে মোজাহেদিরা হচ্ছে হাতের পুতুল, যাদের তারা দক্ষ হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে.