অলিম্পিক মশালের যাত্রা শুরু হওয়ার সমারোহের সময় জোর বাতাস আর তুষার ঝঞ্ঝা দেখা দিয়েছিল, কিন্তু এ আবহাওয়া উত্সব সমারোহের পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলতে পারে নি. সোচি অলিম্পিকের ব্যানার আর পোস্টরে সাজানো বিশাল জাহাজের পাশে সমবেত হয়েছিল বহুসংখ্যক লোক. তাদের মধ্যে মুরমনস্ক প্রদেশের গভর্নর মারিনা কোভতুনও ছিলেন. নিজের বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন যে, অলিম্পিক মশালের রিলে-র আর্কটিক পর্যায় গোটা অলিম্পিক আন্দোলনের জন্য এক উল্লেখযোগ্য ঘটনাই শুধু হবে না, তা বিদেশী শরিকদের জন্য রাশিয়ার উন্মুক্ততার প্রতীকও হয়ে উঠবে–

   অভিযাত্রী দলে আমাদের শরিক আর্কটিক পরিষদের বিদেশী প্রতিনিধিরাও ছিলেন – যাঁরা আমাদের শরিক. তা আর্কটিক অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রসারে রাশিয়ার সদিচ্ছার কথাও জোর দিয়ে বলে. আর্কটিক অঞ্চলে অলিম্পিক মশালের যাত্রা সারা পৃথিবীকে দেখাবে আমাদের উত্তরাঞ্চলের ভঙ্গুর প্রকৃতির অনুপম সৌন্দর্য, যা, অবশ্যই, সংরক্ষণ করে রাখা উচিত. আর আমরা সমস্ত কিছুই করব যাতে তা আদি রূপে সংরক্ষণ করে রাখা যায়.

   অভিযাত্রী দলের নেতৃত্ব করছেন রাশিয়ার বিশিষ্ট মেরু-গবেষক আর্তুর চিলিঙ্গারোভ. পারমাণবিক বরফ-ভাঙ্গা জাহাজে ওঠার আগে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন যে, মেরু অভিযাত্রার প্রচেষ্টা পুরস্কৃত হবে সোচি অলিম্পিকে রাশিয়ার দলের বহু সংখ্যক বিজয়ের দ্বারা –

   রাশিয়ায় জীবন উত্তর মেরুর সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত, আর এ অভিযাত্রায় আমরা আসন্ন সব কর্তব্য পালন করব. আর মেরু গবেষকদের যেমন কামনা জানানো হয় সে ভাবেই ক্রীড়াবিদদের কামনা জানাতে চাই: “সংগ্রাম করুন এবং খুঁজুন, খুঁজে বার করুন আর হতাশ হবেন না!”

   “বিজয়ের ৫০ বছর” নামে পারমাণবিক বরফ-ভাঙ্গা জাহাজের মেরুতে পৌঁছোতে সময় লাগবে প্রায় এক সপ্তাহ. অলিম্পিকের মশাল বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জাহাজে থাকছে আর্কটিক পরিষদের সদস্য আটটি দেশের এগারো জন মশাল-বাহক. অলিম্পিকের অগ্নিশিখা সংরক্ষিত থাকবে জাহাজের পৃথক একটি বিশেষ কামরায়. বরফ-ভাঙ্গা জাহাজ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরী বিন্দুতে পৌঁছোবে, অলিম্পিক অভিযাত্রী দলের মশাল-বাহকেরা জ্বলন্ত মশাল নিয়ে দৌড়বে জাহাজের ডকে, তারপর ভৌগোলিক উত্তর মেরুর বিন্দুতে, সেখানে আর্তুর চিলিঙ্গারোভ এই মশাল থেকে জ্বালাবেন সোচি-২০১৪ অলিম্পিক অগ্নিশিখার পাত্র. এ অভিযাত্রী দলের মুরমনস্কে ফেরার পরিকল্পনা আছে ৩০শে অক্টোবর.