চলতি সপ্তাহের শুরুতে নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে দুটি বড় ধরণের ঘটনা অবতারণা হয়েছে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ব বাজার উন্নয়ন ফোরামে অংশ করা নিয়ে সোমবার স্কাইপে আবেদন জানিয়েছেন তিনি । এর আগে কয়েকবার মার্কিন সরকার মোদিকে সেদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয় নি । এদিকে পরেরদিনই ভারতের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী কাপিল সিবাল বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সরাসরি বলেছেন, প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী সব বেলুনই একদিন হারিয়ে যায় । অর্থাত, নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনের অনেক আগেই হারিয়ে যাবেন । বরিস ভলখোনস্কী বলছেন, “নির্বাচনকে নিয়ে সকল জল্পনা-কল্পনা আরো ঘনিভূত হচ্ছে. নরেন্দ্র মোদি কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন? । কোনভাবেই তিনি যেন দেশের সরকার প্রধানের পদে আসীন হতে না পারেন সে জন্য রাষ্ট্রের সব ধরণের প্রচারাণামূলক কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানো হয়েছে । ভারতের অন্যতম সহযোগি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গত কয়েক বছর ধরে বয়কট করে আসছেন নরেন্দ্র মোদি । ছোট রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে তৃত্বীয় শক্তির আবির্ভাব ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারি দলের জন্য মঙ্গলজনক । যদিও তৃত্বীয় শক্তির সম্ভাবনা অনেক কম ।"

মূলত সংঙ্গত কারণেই ভারতের রাজনীতিতে এখন অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি । ক্ষমতাসীন জাতীয় কংগ্রেস অনর্থকই নিজেদের জনপ্রিয়তা কমাতে চাইবে না । কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কে প্রধানমন্ত্রীর পদে মোননায়ন পাচ্ছেন তা ঠিক না হওয়া এই প্রক্রিয়ার তর্ক-বিতর্কের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে । দেড় বছর আগে শোনা যাচ্ছিল যে, প্রার্থিতা পেতে যাচ্ছেন হয়তোবা রাহুল গান্ধি । তবে ২০১২ সালে উত্তর-প্রদেশে আঞ্চলিক নির্বাচনের ফলাফল দেখে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য নির্বাচনে লড়ার সময়ে রাহুলের এখনো আসেনি । আর এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সরাসরি উত্তরে কাপিল সিবাল বলেছেন, রাহুল গান্ধি ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন কি না তার সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস ।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতের নেতা নির্ধারণ করা নিয়ে বরিস ভলখনস্কি বলেন, "প্রশ্ন অত্যন্ত জটিল । বেলুন কি নির্বাচনের আগে বা পরে হারিয়ে যাবে তাই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং ভারত কোন পথে অগ্রসর হবে যদি মোদি সত্যিই প্রধানমন্ত্রী হয় । এখানে অন্যান্য প্রসঙ্গগুলো চলে আসে । রাজনীতিবিদ হিসেবে কোন পক্ষ মোদিকে উপরের দিকে তুলে ধরবেন । তিনি কি সত্যিই দূরবর্তী একটি প্রদেশে থেকে ভারতের অর্থনীতির সমস্যা সমাধান করতে পারবেন?। নাকি কঠোর ‘হিন্দুত্ব’ নীতি অনুসরণ করবেন যা বহুজাতি ও গোত্রের দেশ ভারতকে বিভাজিত করবে ।"

তবে আপাতত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের সুনাম ধরে রাখার চেষ্টা করছেন নরেন্দ্র মোদি। আর এ জন্যই ওয়াশিংটনে অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন । তবে মূল কথা হলো ভারত শুধু একটি গুজরাট প্রদেশ নিয়ে গঠিত নয় । অর্থনৈতিক সমস্যা তা সমষ্টিগত চরিত্র বহন করছে ।