ইতিপূর্বেও ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের তারকারা সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন সাহানির সাথে, যিনি ৯ বছর ধরে ‘পিপল ফর এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অফ এ্যানিমালস’ সংস্থার শীর্ষপদে আসীন ছিলেন. এবারে তাদের মধ্যে অনেকেই তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে তাদের রান্নার রেসিপি পাঠিয়েছেন. তাদের মধ্যে আছেন বিনোদ খান্না জন আব্রাহাম, দ্বিলীপ কুমার ও সায়রা বানু, মহেশ ভাট, হেমা মালিনি, ওম পুরী, সোনম কাপুর প্রমুখেরা.

অনুরাধার কথায় বইটি সংকলন করার আইডিয়া তার মাথায় আসে ২০১০ সালে. কয়েক বছর যাবত্ পিওর ভেজিটেরিয়ান হওয়া সত্বেও মেডিক্যাল টেস্টের পরে তিনি আবিষ্কার করেন, যে তার ব্লাড প্রেসার, কোলেস্টেরল, সুগার – সবকিছুই বাড়াবাড়ি রকমের বেশি. তিনি বুঝতে পারলেন, যে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছেন না এবং নিজের খাদ্যতালিকায় সংশোধন আনা শুরু করলেন. অতঃপর ভেগান কিচেনের সুপ্রভাব নিজের উপর টের পেয়ে সাহানি তার অভিজ্ঞতা আমজনতার সাথে ভাগ করে নিতে চাইছেন. –

আমি বিস্মিত হয়েছিলাম, কারণ অনেকেই আমাকে বলেছিল – ভেগান হও, স্বাস্থ্য ফিরে পাবে. আমি পরবর্তীতে বুঝতে পারলাম, যে ঠিকঠাক খাদ্যদ্রব্য গ্রহন করতাম না আগে. তাই আমি আমার অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা মানুষের সাথে ভাগ করে নিতে চাই. কিন্তু আমি অনুভব করলাম, যে আমার কাহিনী কারো আগ্রহের উদ্রেক করবে না. তাই আমি বলিউডের তারকাদের দ্বারস্থ হলাম.

ভারতীয় সিনেমা রাশিয়ায় যথেষ্ট জনপ্রিয়. বলিউডের তারকাদের কাহিনী যথেষ্ট পরিমানে আমাদের দেশে ভেগানের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করবে. উপরন্তু বইটি সংকলনের কাজে যুক্ত ছিলেন ক্যাল্ডওয়েলের মতো প্রখ্যাত চিকিত্সক, যিনি একসময়ে বিল ক্লিনটনের জীবন বাঁচিয়েছিলেন, তাকে ভেগান মেন্যু ধরিয়ে. আরও আছেন ‘ফিজিশিয়ানস কমিটি ফর রেসপন্ডসিবল মেডিসিন’ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা নীল বার্নার্ড. বইয়ের মুখবন্ধে তারা লিখেছেন, যে ভেগান ডায়েটিংয়ের মাধ্যমে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ফিগারও ভালো করে.

এই সন্ধ্যায় মস্কোয় ভারতীয় দূতাবাসে সমবেত হয়েছিলেন যেমন সদ্য নিরামিষাশী হওয়া লোকেরা, তেমনই যারা বহুদিন যাবত এই জীবন যাপন করছেন. সেরকমই একজন ভালেরি দলগাপালভ ১৮ বছর আগে মাংস বর্জন করেছেন. তিনি ‘জীবনের খাদ্য’ বলে একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, যারা অভাবীদের নিরামিষ খাদ্য সরবরাহ করে. –

বইটির লেখিকার সাথে আমাদের সাদৃশ্য এইখানে, যে আমরা শুধু গরম খাবার দিয়েই অভাবীদের উদ্ধার করিনা, এইভাবেই পশুদের জীবনও রক্ষা করি. আপনারা ভাবতে পারবেন না, যে কত শত গরুর জীবন আমরা বাঁচিয়েছি, তাদের ভোগ্য খাদ্যে পরিণত হতে না দিয়ে.

সংগঠকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ এইজন্য, যে তারা মানুষকে খাদ্যগ্রহনের অভ্য়াস ও দীবনযাপনের পদ্ধতি বদল করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করার সুযোগ দিলেন. আর লেখিকাকে ধন্যবাদ এইজন্য, যে তিনি তার কাহিনী দিয়ে প্রকৃষ্ট প্রমাণ দিয়েছেন, যে হিংসার আশ্রয় না নিয়েও কিভাবে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করা যায়.