প্রসঙ্গত, বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে, ২০১০ সালে গৃহীত তত্সংক্রান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের সিদ্ধান্ত পুরণ করা হয় নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রাইলের স্থিতির দরুণ.

   নিকট প্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত এলাকা গঠনের ধারণা প্রথম উত্থাপন করেছিল ইরান ও মিশর ১৯৭৪ সালে. ১৯৯০ সালে মিশরের রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারক প্রস্তাব করেন এ অঞ্চলকে সমস্ত ধরণের ব্যাপক নরহত্যার অস্ত্র মুক্ত এলাকায় পরিণত করার.

   মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর প্রফেসার আলেক্সান্দর নিকিতিন এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন যে, আগের মতোই এ অঞ্চলের মুখ্য সমস্যা হল ইস্রাইলের পারমাণবিক অস্ত্র. মনে করা হয়ে থাকে যে, ইস্রাইলের কাছে একশো থেকে দুশোটি পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে, যদিও ইস্রাইলের কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার করে না –

   পৃথিবীর সমস্ত দেশ এগুচ্ছে এ থেকে যে, নিকট প্রাচ্য সঙ্ঘর্ষের কেন্দ্রে রয়েছে শতাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড. আর তা বহনের মাধ্যমও রয়েছে. আর ইস্রাইলের গুরুতর অভিপ্রায় রয়েছে এ পারমাণবিক অস্ত্র সংযত রাখার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার.

   ইস্রাইল রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত কনভেনশন স্বাক্ষর করেছে কিন্তু তা অনুমোদন করে নি. নিকট প্রাচ্য-কে ব্যাপক নরহত্যার অস্ত্র মুক্ত এলাকায় পরিণত করার জন্য বহুপাক্ষিক রাজনৈতিক সংলাপের সূচনা করতে পারে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে যা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল ২০১০ সালেই. কিন্তু তার আয়োজন, যা ২০১২ সালের জন্য নির্ধারিত হয়েছিল, স্থগিত রাখা হয় ইস্রাইল এবং একসারি পশ্চিমী দেশের স্থিতির জন্য. বিশেষজ্ঞ মনে করিয়ে দেন যে, তুরস্ক, সৌদি আরব, ইরান এবং সিরিয়ার স্থিতিও দ্ব্যর্থহীন ছিল না –

   ইস্রাইল আলাপ-আলোচনার শুরু অবরোধ করছে এ প্রশ্নে যেকোনো আলাপ-আলোচনায় ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল পাঠাতে অস্বীকার করে. আর উপরোক্ত অন্যান্য দেশ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সীমায় ভারসাম্য রেখে চলেছে: অন্য কোনো নতুন অস্ত্র সৃষ্টি, সঞ্চয়, পরীক্ষা অথবা উদ্ভাবনের সম্ভাব্য পথ তারা বন্ধ করবে কি?

   নিকিতিন মনে করেন, একই সময়ে, পরিস্থিতি তেমন কানাগলির মতো দেখতে লাগছে না. ষাটের দশকের শেষে ৩৫টিরও বেশি দেশ- এমনকি সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের মতো নিরপেক্ষ দেশেরও, - সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি ছিল. কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্র প্রসার নিরোধের চুক্তি স্বাক্ষরের পরে তারা তা পরিত্যাগ করে. আশা করা যেতে পারে যে, নিকট প্রাচ্যের দেশগুলিও সময়ের সাথে সাথে এ পথে এগোবে.