রাশিয়ার মুসলমানদের কাছে ঈদুল আযাহ বরাবরই মহত্ত্ব ও উদার হওয়ার উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আর এই লক্ষ্যেই মস্কো উপকন্ঠের শহরগুলোতে পশু কোরবানি দিবেন মুসলমানরা। শুধু তাই নয় উরালের সেভেরদলোভস্কী অঞ্চলে কোরবানি দিবেন সামর্থবান মুসলমানরা। কোরবানির মাংসের একটা অংশ শহরের শিশুসদনে বিতরণ করা হবে। এমনটি জানালেন সেন্ট পিটার্সবার্গের মুসলিম কমিউনিটির প্রধান মুনির হাজরাত বেউসোফ বলেছেন, "পশু কোরবানি দেয়ার মানে এই নয় যে পশুদের ওপর অবিচার করা হচ্ছে। পশু কোরবানির অর্থ হচ্ছে, যে কোরবানি দিবেন তিনি কি মহান আল্লাহতালার সন্তুষ্টি অর্জনে তৈরী আছেন, তিনি কি অর্থ-সম্পত্তি ও সময় তার আপন আত্বীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিদের জন্য উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছেন কি না। সেন্ট পিটার্সবুর্গে বর্তমানে ৭ লাখ মুসলমান বসবাস করছেন। আজ অনেকই মসজিদে এসেছেন ও ছদকা আদায় করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যারা লেনিনিগ্রাদ অবরুদ্ধ হওয়ার দিনগুলোতে এখানে বসবাস করেছিলেন তাদের জন্য আমরা প্রতিবছর এ দিনে উৎসবের আয়োজন করি। এদের অধিকাংশই এখন বার্ধক্যের বয়সে পৌঁছেছেন। অন্তত ৪০ জনের মতো সমবেত হবেন। তাদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে উপহার দেয়া হবে।"

উৎসর্গ করার মানে হলো ভালবাসা। এই শিরোনামেই রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত তাতারিস্তানে ঈদুল আযাহ পালিত হবে। সেখানের ঈদ যাপন নিয়ে বিস্তারিত রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন স্থানীয় ধর্মীয় নেতা রুস্তাম হাজরত বাদরোভ। তিনি বলেছেন, " কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে আমরা রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর এর জন্য ধনী বা সামর্থবান হতে হবে না। ১৮ বছরের উর্ধে যে কেউ এ কর্মসূচীতে অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া শিশু ও শারীরিক প্রতিবন্ধিদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স উদ্বোধন করা হবে। আমাদের এখানে শ্রবনশক্তি যারা হারিয়েছেন তাদের জন্য একটি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। এখানে ৬০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।"

এতিম ও শারীরিক বিকলঙ্গ শিশু ও অসহায় পরিবারের জন্য আমাদের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি সেন্টার চালু করার চেষ্টা চলছে। আমারা এরই মধ্যে একটি বাড়ি পেয়েছি কিন্তু এর সংস্কার করতে হবে. অর্থ সংগ্রহের জন্য আমরা কাজ করছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর আল্লাহপাকের অশেষ মেহেরবানিতে আমরা আশাকরছি এই সেন্টার চালু করতে পারবো।

এদিকে চেচনিয়ায় ঈদুল আযাহ উপলক্ষ্যে নতুন হাফিজি মাদ্রাসা চালু হচ্ছে। উত্তর ককেশাসে এ নিয়ে হাফিজি মাদ্রাসার সংখ্যা হবে ৫টি। চেচনিয়ায় ঈদ উদযাপনের খবর জানিয়েছেন উত্তর ককেশাসের মুসলিম কমিউনিটির মস্কো বিষয়ক সমন্বায়ক শাফিগ পিশিখায়েভ। ''আমি চাইছি যে, এই দিনে আপনি মানুষের প্রতি ভাসবাসার হাত বাড়িয়ে দেন। মানুষের প্রতি ভালবাসা তা জাতি, ধর্ম-বর্ন দিয়ে বিবেচনা করা উচিত নয়। আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সঃ এর কথা অনুসরণ করা উচিত। যিনি বলেছিলেন, তুমি পুরো মানব সমাজের কল্যান বয়ে আনতে হয়তো পারবে না, কিন্তু তুমি ভালবাসা দিয়ে তাদের বরন করে নিতে পারবে। আমি প্রতিটি মুসলমানের অন্তরে ও পৃথিবীর মাটিতে শান্তি বয়ে আসুক সেই কামনা করছি।''