দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা দফতরের সচিব কিম মিন সোক বলেছেন যে, উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক রকেট ক্ষমতা বাস্তবে পরিণত হচ্ছে এবং তাই বিপদের সম্ভাবনা বাড়ছে. তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি উত্তর কোরিয়া প্যাকটুসান পাহাড়ের কাছে মাঝারি পাল্লার ব্যালেস্টিক রকেট বসায়, তাহলে সেগুলি জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে অবস্থিত মার্কিনী সামরিক শিবির, এমনকি গুয়াম পর্যন্ত লক্ষ্যভেদ করতে সমর্থ হবে. পারমানবিক ও রকেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার রমরমা দেখে গত মে মাসেই দক্ষিণ কোরিয়া আমেরিকার কাছে আবেদনপত্র পেশ করেছিল তাদের সেনাবাহিনীর কন্ট্রোল দক্ষিণ কোরিয়ার নিজের হাতে তুলে দেওয়ার সময়সীমা যেন নির্ধারিত ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে দেওয়া হয়.

এটা নজর কাড়ে যে, ঐ প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে ১০ই অক্টোবর, যে দিন আমেরিকার সামরিক নৌ ও বিমানবাহিনী দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সাথে সম্মিলিত সামরিক মহড়া শুরু করেছিল. রাশিয়ার এ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সের কোরিয়া উপদ্বীপ বিষয়ে গবেষক আলেক্সান্দর ঝেবিন ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছেন. –

ঠিক এইমুহুর্তেই চলছে সম্মিলিত মার্কিনী-দক্ষিণ কোরিয় ও জাপানি সামরিক মহড়া, যেখানে আমেরিকা পারমানবিক অস্ত্রবাহী জাহাজ, বোমারু বিমান, রকেটবাহী জাহাজগুলো ব্যবহার করছে. আনবিক অস্ত্রধারী সাবমেরিনেরও সেখানে থাকবার সম্ভাবনা আছে. কোরিয় যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার ৬০ বছর পরেও এখনো সেখানে কি করছে আমেরিকার বিমানবাহী জাহাজগুলো, আনবিক শক্তিধারী সাবমেরিনগুলো ? কোরিয় উপদ্বীপকে পরমানু মুক্ত করার জন্য ছয়পক্ষীয় প্রক্রিয়াকে এই আচরণ লঙ্ঘন করে না কি ? প্রচারমাধ্যমগুলি, বিশেষতঃ দক্ষিণ কোরিয়রা মরিয়া হয়ে উত্তর কোরিয়ার দানবিক ভাবমূর্তি জনমানসে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে. নিকট প্রাচ্যে আমেরিকা যখন একের পর এক যুদ্ধ বাধাচ্ছিল, তখনই তারা উপলব্ধি করেছে যে, প্রতিপক্ষের উপর আক্রমণ শানানোর আগে তার দানবিক ভাবমূর্তি তৈরী করা আবশ্যক. যাতে কোনো শাসনব্যবস্থাকে উত্খাত করার ক্ষেত্রে বিশ্ব জনসমাজের আপত্তির সম্মুখীন হতে না হয়.

এখানে মানতেই হবে যে, প্রতিপক্ষকে দানবিক ভাবমূর্তিতে লেপন করার প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালায় যেমন দক্ষিণ কোরিয়া, তেমনই উত্তর কোরিয়াও. প্রত্যেকের নিজস্ব স্বার্থ জড়িত. যেমন এবারের সামরিক মহড়ার তীব্র নিন্দা করে উত্তর কোরিয়া সতর্ক করে দিয়েছে যে, ভয়ঙ্কর দুর্যোগ ঘটতে পারে, আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদীরা বিশাল সংকটের মুখোমুখি হতে পারে.

উত্তর কোরিয়ায় ভূগর্ভে সত্যিই রকেটের বেস আছে কিনা, সে রকম কোনো প্রামাণ্য তথ্য দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে নেই, সবই অনুমানভিত্তিক. হতে পারে ওখানে প্লুটোনিয়াম মজুত করা হয়েছে. একমাত্র বিপদের আশঙ্কা হচ্ছে এই কারণে যে, প্যাকটুসান পাহাড়টি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি. ওখানে কোনো আঘাত বা দুর্ঘটনা হলে তার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ.