উল্লখ্য, নোবেল পুরষ্কারের মধ্যে এটিই একমাত্র পুরস্কার যা সুইডেনে নির্ধারণ করা হয় না, তা করা হয় নরওয়ের নোবেল কমিটি। ওই কমিটিতে মোট ৫ জন সদস্য থাকেন। দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্য থেকে তাদের নির্বাচন করে স্থানীয় পার্লামেন্ট। এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আলফ্রেড নোবেল। প্রার্থীদের নাম অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। শুধুমাত্র কতোজন এ পুরস্কার পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন সেই সংখ্যা জানানো হয়। এবছর এ সংখ্যা কিছুটা বেশি। মোট ২৫৯ জনের পক্ষে আবেদন জমা পড়েছে। এদের মধ্যে ৫০টি হচ্ছে সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।

শান্তিতে নোবল পুরস্কার তাকেই দেওয়া উচিত যে জনগনের জন্য সবচেয়ে বেশি শান্তি বয়ে এনেছেন, সমাজের বৈষম্য দূর করতে পেরেছেন এবং সেনাবাহিনার সদস্য সংখ্যা কমিয়ে এনে শান্তি প্রতিষ্ঠার মতৈক্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। শুরুতে অবশ্য এমনটাই ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে পুরস্কার তার ঐত্যিহ্য হারিয়ে ফেলেছে। এমনটি বলছেন জাতীয় স্ট্রাটেজিক ইনস্টিটিউটের সভাপতি মিখাইল রেমিজোভ। তিনি বলেন, "নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটিতে যারা বিচারকের দায়িত্বে আছেন তারা হলেন বামপন্থি। তারা সাধারণত সংখ্যালঘুদের অধিকার, পরিবেশ আন্দোলন ও যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করেন।"

নোবেল জয়ীর নাম ঘোষণার পর এ নিয়ে যত সমালোচনা হয় তা অন্যান্য কোন নোবেল পুরস্কারের ক্ষেত্রে হয়না। বিভিন্ন বছরে এ পুরস্কার পেয়েছিলেন ইয়াসির আরাফাত যিনি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন, বারাক ওবামা যিনি শুধুমাত্র শান্তি স্থাপন নিয়ে নিজের উদ্দ্যোগের কথা জানিয়েছেন আর ঠিক পরে লিবিয়ায় বোমা হামলার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেখানে জাতি ও ধর্ম নিয়ে বৈষম্যমূলক আচারণ করা হয়।

আর নোবেল কমিটি কখনো ভাবেন নি মাহাত্মা গান্ধির কথা যিনি ইংরেজদের কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ উপায় স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছিলেন।

মেমোরিয়াল নামের মানবাধিকার কেন্দ্রের সদস্য সিভিতলানা গানুশকিনা জানান, "মানুষ সবসময়ে হচ্ছে আত্মবাদী কারণ এরা মানুষ। আমি যখন শিক্ষিকা ছিলাম আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, আমি কি আত্ববাদী হয়ে শিক্ষার্থীদের নাম্বার দিবো। আমি সবসময়ে বলেছিলাম, না, তা সম্ভব নয়। আমি এই অবস্থানে থাকার চেষ্টা করি। আমি মনে করি চীনের নাগরিক লিউ সিয়াবো যেবার নোবেলে শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন সেটি ছিল একটি সঠিক সিদ্ধান্ত। আমার মনে হয় যখন এই পুরস্কার শান্তি স্থাপনে সংগ্রাম করার জন্য কাউকে দেওয়া হয় তখন এর উপযুক্ত সম্মান দেওয়া হয়। কিন্তু নোবেল কমিটি হয়তো অন্য চিন্তা করতে পারেন।"

রাশিয়ার মানবাধিকার কর্মী সিভিতলানা গানুশকিনা বেশ কয়েকবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনায়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এবছর প্রার্থীদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।

ইতিমধ্যে জানা গেছে যে, এবারের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অন্যতম প্রার্থী হচ্ছেন ১৬ বছর বয়সী পাকিস্তানের কিশোরী মালালা ইউসুফ। ১১ বছর থেকে মালালা ইন্টারনেটে নিজের ব্লগে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে নিজের জীবণের কথা লেখেন। তালেবানদের অধীনে থেকে কিভাবে তিনি নারী শিক্ষার জন্য আন্দোলন করছেন তাই সেই লেখায় ফুটিয়ে তোলেন। আর এ জন্য তালেবানরা তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়।

পুরস্কার পাওয়ার মতো আরো একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন উইকিলিকসকে তথ্য সরবরাহকারী মার্কিন সেনা ব্রেডলি মেনিং। গত আগষ্ট মাসে তাকে ৩৫ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়।

নোবেল কমিটির জন্য রুশীদের তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়। নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসের দিকে তাকালে ১৯০১ সাল থেকে মাত্র ২ জন শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন পদার্থ বিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মী আন্দ্রেই সাকারোভ ও সেভিয়েত ইউনিয়েনের প্রথম প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ।