পূর্ব এশিয়া জোটের সম্মেলনে জ্বালানী, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যখাতসহ পুরো অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। সম্মেলনের বিষয়বস্তু নিয়ে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ। তিনি বলেন, "এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সামিট ও জি-২০ সম্মেলন যে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছিল সেই আলোকে এবারের সম্মেলনে যাবতীয় কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এর উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা, নিরাপত্তা বজায়, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা করাসহ আরো অনেক খাত।"

এ অঞ্চলের জন্য প্রধান প্রশ্ন হচ্ছে- একটি নিরাপত্তা কাঠামো ও সম্পর্ক গড়ে তোলা ২০১০ সালে রাশিয়া ও চীনের নেতাদের যৌথ প্রস্তাবে এমন একটি দ্বিপাক্ষিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যেখানে পূর্ব এশিয়া সামিটের অন্তর্গত অন্য কোন দেশের সহযোগিতা ছাড়াই। এদের একাংশ হচ্ছে ওয়াশিংটনের মিত্রজোট যারা বর্তমানে এ অঞ্চলের মস্কো ও চীনের আধিপত্য বিস্তারে কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়েছে।

যদিও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যেমন ভিয়েতনাম-চীন, দুই কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে ভূখন্ডজনিত দ্বন্ধ। এই সব জটিল প্রশ্নের সমাধানের জন্য রাশিয়া এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয়ভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন আইন প্রয়োগের প্রস্তাব জানিয়েছে। আর এই পদক্ষেপের প্রথম ধাপ ইতিমধ্যে পূর্ব এশিয়া সম্মেলনে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেরগেই ল্যাভরোভ। তিনি বলেন, "এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় সম্মেলনের অন্তর্গত থেকেই প্রস্তাবিত বিষয়গুলো নিয়ে সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্রুনেইয়ে সম্মেলনে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কারণ ইউরোপ, আফ্রিকা বা ল্যাটিন আমেরিকার মত এ অঞ্চলে কোন অভিন্ন আঞ্চলিক কাঠামো নেই যা সব দেশগুলো নিজেদের জন্য প্রয়োগ করতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই হচ্ছে আমাদের মূল ভাবনা। ইউরোপীয় কাঠামোকে তা সমর্থন করছে। এশিয়ার জন্য এটিই প্রথম এ ধরণের ক্রিয়া কৌশল অবলম্বন করা হবে।"

পূর্ব এশিয়াভুক্ত দেশগুলোর জন্য এ কাজ চালিয়ে নিতে খুব একটি সহজ হবে না বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খুব শীঘ্রই কয়েক রাউন্ডে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছরই ব্রুনেইয়ে এ ধরণের প্রথম রাউন্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ডের বৈঠক হবে মস্কোয়ে।