তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০০০ সালে রাশিয়া, ভারত ও ইরানের মধ্যে পরিবহন চুক্তি সাক্ষর হওয়ার পরে ঐ চুক্তিতে যোগ দিয়েছে আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, বেলোরুশ, কাজাখস্তান, ওমান ও সিরিয়া. ইউক্রেন ও সৌদি আরবও আবেদনপত্র জমা দিয়েছে. সিমিওনভ বলছেন যে, এই করিডর ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে মালচলাচলে অনেক বেশি কার্যকরী হবে. –

আলেক্সেই সিমিওনভ বলছেন – আমরা কাস্পিয়ান সাগরে ওলিয়া নামক নতুন বন্দর নির্মান করেছি. আমাদের আস্ত্রাখানে এবং মাখাচকালাতেও বন্দরগুলি তৈরী. শুধু একমাত্র অসুবিধা হচ্ছে যে, ইরান তার দিক থেকে এখনো রেলপথ শেষপর্যন্ত নির্মান করেনি. অর্থনৈতিক দিক থেকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্যই এই প্রকস্প লাভজনক. বর্তমানে কার্যরত সুয়েজ চ্যানেলের তুলনায় ভারত থেকে ইউরোপে মাল পাঠানোর রুটের দূরত্ব অনেক কমবে.

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সলমন খুর্শিদ উল্লেখ করছেন – এই রুটটা দ্রুত উন্নয়নশীল ভারতের অর্থনীতির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ. ৪ঠা অক্টোবর দুই দেশের নিয়মিত সরকারি কমিশনের বৈঠকে তিনি যোগ দিয়েছিলেন. –

 

আমাদের বাণিজ্যের ভবিষ্যতের জন্য উত্তর-দক্ষিণ রুটটি অপরিহার্য. পরিবহনের সময় অনেক কমবে, এমন সব মালপত্র আনানেওয়া যাবে যা, এখন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে পরিবহন করা হয় না. এখন আমাদের দরকার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলিকেও আগ্রহী করে তোলা, যাতে এই উইন-উইন প্রকল্পে সবাই অংশ নেয়. এটা শুধুমাত্র ভারত আর রাশিয়ার জন্যই লাভজনক নয়, লাভজনক চুক্তির অন্তর্ভুক্ত সব দেশের জন্য. ইরানে ১৬৪ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করা হয়নি বলেই এখনো এই সামুদ্রিক রুটটা চালু করা যাচ্ছে না – বলছেন সলমন খুর্শিদ.

আলেক্সেই সিমিওনভ বলছেন যে, কিছুদিন আগে এই রুটে মাল পরিবহন করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু কন্টেনার ফেরত দেওয়ার সমস্যার কারণে ঐ প্রকল্প সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছিল. –

সিমিওনভ বলে চলেছেন- এরকম প্রকল্পের জন্য দরকার মাল্টিমিডিয়া চেইন. যা করিডরের সমস্ত পর্যায়ের উপর লক্ষ্য রাখতে এবং মালের গতিবিধি যাতে স্বচ্ছ হয়, সেটা সুনিশ্চিত করতে সাহায্য করবে. রাশিয়ার উদ্ভাবন করা গ্লোনাস নেভিগেশন সিস্টেম এই ব্যাপারে ব্যাপক সাহায্য করবে – বক্তব্য এই সিমিওনভের.

রুশী-ভারতীয় যুগ্ম সরকারি কমিশনের বৈঠকে ভারত ঘোষণা করেছে যে, প্রথাগত আমেরিকান জিপিএস ছেড়ে রাশিয়ান গ্লোনাস ব্যবহার করতে আগ্রহী. ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সলমন খুর্শিদ এই দৃঢ় অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, এই নতুন উত্তর-দক্ষিণ রুটটি ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের উন্নয়নের জন্য বিপুল সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে.