এ নিয়ে বলছেন রাশিয়ার কৌশলগত ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখনস্কি। তিনি বলেন, তবে ফোরামে ওবামার অনুপস্থিতি কোন ক্রমেই অস্বীকার করার উপায় নেই যা দুই বছর আগে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিটন ঘোষণা করেছিলেন- “কৌশলগত পালা ও এশিয়ায় ফিরে যাওয়া”।

বালি ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এই ক্ষেত্রে কেরি মূলত জানাতে চেয়ছেন যে, এ অঞ্চলে চীনের ভূমিকা হ্রাস করা। এরই অংশ হিসেবে জন কেরি অনেকটা তোরজোড় করে প্রযোজনীয়তা বর্নানা করেছেন যে, ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনার(টিপিপি) নামের সংস্থার আলোকে এ্যাপেক ভুক্ত ওই সব দেশগুলোকে একত্রিত করা যেখানে রাশিয়া বা চীনের অবস্থান হবে না।''

তবে মার্কিন পরিকল্পনা অনুধাবন করেই বালি ফোরামে চীন বিভিন্ন দেশের সাথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিপত্র সই করেছে। তবে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন ওবামা যেভাবেই চাইছিলেন যে, চলতি বছরেই টিপিপি সংস্থা গড়ে তোলা হবে তা হচ্ছে না। এ নিয়ে বরিস ভলখনস্কি বলেছেন, “বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নানা ধরণের প্রতিকূলতা ও হুমকি কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। ছলনা করে ইরাকে ও আফগানিস্তানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং এখন নিজেদের মিত্র দেশগুলোর মাঝে নিজেদের সক্রিয় অবস্থান ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক লিবিয়া ও সিরিয়াকে নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে।“

এই পেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের সার্থের কিছুটা মিল রয়েছে। চীন অধিক প্রভাব বিস্তার করুক দিল্লি তা হয়তো চাইবে না। তবে এখানে মনে রাখা দরকার যে, ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান থেকে অশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি অনেক কমিয়ে দিয়েছিল ভারত। ফলশ্রুতিতে ভারতের অর্থনীতিতে একটা বড় ধাক্কা লেগেছে।

তাই ভারতকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, নিজেদের জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির কোন পথে পা বাড়াবে।