নভেম্বর মাসের জন্য নির্ধারিত “জেনেভা-২” সম্মেলনের প্রাক্কালে সিরিয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই বেশি জটিল হয়ে উঠছে. বিদ্রোহীদের সারিতে ভাঙন গভীর হয়ে উঠছে. বিদ্রোহীদের ৪০টি দল ঘোষণা করেছে যে তারা এ বিষয় অর্জনকরতে চায়, যাতে সিরিয়া এবং তার আশপাশের এলাকা শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী বাস করে. বোধগম্য যে, এই রাডিক্যালদের বেশি মিল আছে “আল-কাইদার” সাথে, বিরোধীপক্ষের নরমপন্থী অংশের তুলনায়. আর যদিও “জেনেভা-২” সম্মেলনে যথাসম্ভব বেশ প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত্, তবুও এ সম্মেলনে এ সব শক্তির অংশগ্রহণ করা উচিত্ নয়, মনে করেন সের্গেই লাভরোভ :

   আমরা মনে করি, আর শুধু আমরাই নয় – এ মত পোষণ করে মার্কিনীরাও,- যে, এসব লোকেদের সাথে আলাপ-আলোচনা আমরা চালাতে পারি না এবং তা উচিতও নয়. আমরা আলাপ-আলোচনা চালাতে পারি শুধু তাদের সাথে, যারা সার্বভৌম, ভূভাগীয় অখণ্ডতা সম্বলিত, ধর্ম নিরপেক্ষ, বহুজাতিক ও বহু ধর্মীয় সিরিয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করে.

   মন্ত্রী আরও একটি জরুরী বিষয় সম্পর্কে মত প্রকাশ করেন – ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি.সম্প্রতি শেষ হওয়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অ্যাসেম্বলির অধিবেশন ইস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রৌহানি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জরিফ এ ক্ষেত্রে গঠনমূলক মনোভাব প্রকাশ করেছেন. তাঁরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নয় মাসের মধ্যে পরস্পরের পক্ষে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা অর্জিত হতে পারে. লাভরোভের মতে, এ সময় খুবই বাস্তব. সেই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এখনও পর্যন্ত পৃথিবীতে কেউ এ প্রমাণ পায় নি যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সামরিক চরিত্র ধারণ করে অথবা করেছিল.

   আমি পৃথিবীর কোনো গোয়েন্দা বিভাগ থেকে এর সমর্থন দেখতে পাই নি: তা রাশিয়ার, ইউরোপীয়, মার্কিনী অথবা মোসাদ-এর হোক, যারা চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করতে পারে যে, ইরানের নেতৃবৃন্দ সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে. পৃথিবীর কোনো বিশেষ বা গোয়েন্দা বিভাগের কাছে এমন তথ্য নেই. আমরা সম্প্রতি আলাপ-আলোচনা করেছি মার্কিনী সহকর্মীদের সাথে, তারাও একমত যে, ইরান সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নি.

   মন্ত্রী লিবিয়ায় ও সোমালি-তে মার্কিনী বিশেষ সৈন্যবাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান সম্পর্কেও মন্তব্য করেন. তাদের লক্ষ্য ছিল ইস্লামিক চরমপন্থীদের আটক করা. লাভরোভ উল্লেখ করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে যেকোনো দেশেরই উচিত্ আন্তর্জাতিক বিধানের মানের সাথে সঙ্গতি রেখে নিজের কার্যকলাপ চালানো. তবে, মার্কিনীরা প্রায়ই এ কথা ভুলে যায়.