রাষ্ট্রপতির কথায়, তিনি ইন্দোনেশিয়ায় আলোচিত সমস্যাবলির সাথে মিলিয়ে দেখেছেন সেই সব প্রশ্ন যা সাঙ্কত-পিতারবুর্গে জি-২০ দেশগুলির অংশগ্রহণকারীরা উত্থাপন করেছিলেন. আলোচ্য সূচিতে বহু মাত্রায় মিল রয়েছে. সর্বপ্রথমে কথা হয়েছিল অর্থনীতি বৃদ্ধির মডেল সম্বন্ধে এবং জনসাধারণের কর্মনিয়োগ সম্বন্ধে. সংগঠনের ভিতরে পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে. ভ্লাদিমির পুতিন আবার মনে করিয়ে দেন যে, রাশিয়া ট্রান্স-সাইবেরীয় ও বৈকাল-আমুর রেলপথের মতো বড় প্রকল্পের প্রসার করতে চায়. শরিকদের আগ্রহ উত্তরী সামুদ্রিক পথের প্রতিও কম ছিল না. বিদ্যুত্ ও জ্বালানী সমস্যার কথাও উঠেছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন যে, মস্কো এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানী সরবরাহ বাড়াতে পারে. তবে মুখ্য জোর দেওয়া হয়েছিল পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রতি, আঞ্চলিক সমন্বয় সাধনের প্রক্রিয়ার প্রতি, একক শিক্ষা-ব্যবস্থার এলাকা গঠনের প্রতি. শীর্ষ সাক্ষাতের ফলাফলের ভিত্তিতে রাশিয়াকে যুক্ত করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের এ অঞ্চলে ভিসা-হীন যাত্রার ব্যবস্থায়.

   সাংবাদিকদের যে সব প্রশ্ন বিচলিত করেছিল, তার মধ্যে ছিল বারক ওবামার সাথে ভ্লাদিমির পুতিনের সাক্ষাতের সম্ভাবনা, আর তাছাড়া, সিরিয়া সমস্যা নিয়ে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে আলোচনার চরিত্র. মস্কো ও ওয়াশিংটনের মাঝে মতভেদ ট্যাক্টিক্যাল চরিত্রের, আর তাদের কেউই চায় না যে শাসন ক্ষমতায় আসুক আল-কাইদা, জোর দিয়ে বলেন ভ্লাদিমির পুতিন:

   সিরিয়ায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা সম্পর্কে আমাদের লক্ষ্য একই, এই এলাকায় বাস করা সমস্ত লোকের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করা. আমাদের মতভেদ আংশিকভাবে এ লক্ষ্য সাধনের উপায় নিয়ে. তবে, এখানেও, দেখতেই পাচ্ছেন, যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে. আমরা আমাদের মার্কিনী সহকর্মীদের সাথে সমঝোতায় এসেছি মধ্য-মেয়াদী পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কিভাবে এবং কি করা উচিত্. সিরিয়া অতি সক্রিয়ভাবে এ কাজে যোগ দিয়েছে, কাজ করছে স্বচ্ছভাবে, আন্তর্জাতিক বিন্যাসগুলিকে সাহায্য করছে. আশা করি, ভবিষ্যতেও এ কাজ এইভাবেই চলবে.

   রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য যোগাযোগের কথায় এসে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির মতে, এখনও অনেক কিছু করতে হবে. যেমন, দু দেশের মাঝে পণ্য-আবর্তন দ্বিতীয় বছর কমছে. আগে তা ছিল ৩১০০ কোটি ডলারের, আর এখন তা মাত্র ২৮০০ কোটি ডলারের. এ অবস্থা সংশোধন করা যেতে পারে, আশ্বাস দেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি. কারণ, দৃষ্টান্ত স্বরূপ ২০১৩ সালে চীনের সাথে পণ্য-আবর্তন বেড়েছে ৫ শতাংশ, তা এখন ৫৭৫০ কোটি ডলারের.

   এ বিষয়ের সূত্র টেনে ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেন যে, মস্কো ও টোকিওর মাঝে বর্তমানে সুন্দর প্রকল্প আছে যন্ত্রনির্মাণ, উচ্চ প্রকৌশলের ক্ষেত্রে. উন্নয়নশীল অর্থনৈতিক সহযোগিতা সাহায্য করে যাতে শত্রুর রূপ নয়, মিত্রের রূপ গড়ে ওঠে, মনে করেন রাষ্ট্রপতি:

   এই অর্থনৈতিক সহযোগিতা পরিবেশ সৃষ্টি করে, যাতে শান্তি চুক্তি সম্পাদন নিয়ে শুধু স্বপ্ন দেখা নয়, প্রায়োগিক দিক থেকে কাজ করা যায়.

   অবশ্যই, সাংবাদিকরা স্মরণ করেন যে, এর প্রাক্কালে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির জন্মদিন ছিল. ভ্লাদিমির পুতিন বলেন যে, ৭ই অক্টোবর তাঁর শেষ সাক্ষাত্ ছিল চীনের প্রতিনিধিদলের সাথে. চীনারা তাঁর জন্য এনেছিল একটি বড় কেক. আর জাপানের প্রতিনিধিদল তাঁকে উপহার দিয়েছিল সাকে পানীয়. রাষ্ট্রপতি তা মস্কোয় গিয়ে পানের জন্য রেখে দিয়েছেন.