সোচি অলিম্পিকে সবচেয়ে বিখ্যাত শৌখিন অপেশাদারের ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করতে পারতেন বংশীবাদিনী ভানেয়া মে. কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তিনি প্রয়োজনীয় মার্কস জমা করতে সমর্থ হননি অলিম্পিকে যোগদানের জন্য. চেম্পিওনাত. Com সাইটের পর্যবেক্ষক আলেক্সান্দর ক্রুগলভ মনে করেন যে, অলিম্পিক মুভমেন্ট সেই সব শৌখিনদের বাধা দিচ্ছে, যারা বাস্তবিক অলিম্পিকের জনক প্যিয়ের দ্য কুবের্তিনের সেই শ্লোগানটাকেই সার্থক করতে চায় যে, “অলিম্পিকে জেতাটাই বড় নয়, আসল হল সেখানে যোগদান”.-

প্যিয়ের দ্য কুবের্তেনের মস্তিষ্কপ্রসূত আইডিয়া ছিল যে, অলিম্পিক হবে অপেশাদারদের ক্রীড়াভূমি. তারপরে স্পোর্টসের বিবর্তন ঘটেছে, স্পোর্টস পুরোপুরি পেশাদার হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু এখনো যে সব শৌখিন অপেশাদার তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে চায়, অলিম্পিকে যোগ দিতে চায়, তারাই স্পোর্টসের জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে. বিশেষতঃ যখন সাধারণ কোনো শৌখিনের সম্পর্কে নয়, কথা হচ্ছে মহিয়সী প্রতিভা ভ্যানেসা মে সম্পর্কে.

তখনো সিংহাসনের উত্তরাধিকার হিসাবে মোনাকোর প্রিন্স আলবের্ত ১৯৮৮ সালে ক্যানাডার কালগেরিতে বব-স্লেজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন. তারপরে তিনি বেশ কয়েকবার মোনাকোর পতাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছিলেন অলিম্পিক গেমসে. বৃটিশ রাজ পরিবার বেশি পছন্দ করে গ্রীস্মকালীন ক্রীড়া. ১৯৭৬ সালে প্রিন্সেসা আন্না অলিম্পিক ক্রীড়ায় যোগ দিয়েছিলেন. তিনি মনট্রিয়ল অলিম্পিকসে অশ্বচালনার ট্রিকুরে ২৪ তম স্থান অধিকার করেছিলেন. ক্রীড়া সাংবাদিক তারাস তিমাশেনকো বলছেন যে, এই ঐতিহ্য বজায় রেখেছিলেন আন্নার মেয়ে, যেও ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকসে অশ্বচালনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল. –

ওদের জন্য এটা একধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ, কারণ এই জীবনে ওরা সার্থক. এই পদক্ষেপ নিয়ে ওরা সার্থক গতানুগতিক জীবনে একটু নাড়া দিতে চায়. অলিম্পিক গেমস এবং দর্শকদের জন্যেও ওরা মনোযোগের কেন্দ্রে ফলাফল নির্বিশেষে. এটা এমন একটা ঘটনা, যখন কে সবচেয়ে জোরে দৌঁড়ালো বা বা কে সবচেয়ে দূরে ছুঁড়লো – সেটাই মুখ্য নয়.

পেশাদার স্পোর্টসের থেকে সবচেয়ে দূরতর লোকেদের দেখা যায় মাউন্টেন স্কিংয়ে. ওখানে শতাধিক প্রতিদ্বন্দী যোগ দেয়. আলেক্সান্দর ক্রুগলভ মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, তাদেরও অনেককে কিন্তু দর্শকরা মনে করে রাখে. –

যে বার প্রথম আফ্রিকান স্কিয়ার অলিম্পিকে যোগ দিয়েছিল, তখন ১০ কিলোমিটার ক্ল্যাসিক্যাল স্কি রেসে জয়লাভ করার পরে নরওয়ের প্রবাদপ্রতীম স্কিয়ার বিয়র্ণ দালি আধঘন্টা ফিনিশিং লাইনের কাছে অপেক্ষা করেছিলেন আফ্রিকার ঐ স্কিয়ারের সাথে করমর্দন করার জন্য.

আধুনিক অলিম্পিক মুভমেন্টের বয়স একশো বছর পেরিয়ে গেছে. এই সময়ের মধ্যে স্পোর্টস হয়ে দাঁড়িয়েছে বিপজ্জনক, পেশাদার ও বিশাল কামানোর জায়গা. কিন্তু তার সাথে সমানে যুঝে চলেছে অলিম্পিকের স্বপ্ন এবং প্রতিটি অলিম্পিক গেমসই উত্সব, যেখানে আগ্রহী যে কেউ যোগ দিতে পারে.