সাক্ষাতের আগে এ খবর সমর্থিত হয়েছে যে, মুখ্য আলোচ্য বিষয় হবে সিরিয়ায় মীমাংসা – রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের উদ্যোগ প্রসঙ্গে. গত সপ্তাহেই অনুমান করা হয়েছিল যে, এ প্রশ্ন রাষ্ট্রপতিদের মুখ্য আলোচ্য বিষয় হবে. তবে বারাক ওবামা দেশের আভ্যন্তরীন রাজনৈতিক সমস্যার জন্য বালি দ্বীপে আসতে পারেন নি, আর তাই মন্ত্রীদের সাক্ষাতের আলোচ্য সূচি স্বাভাবিকভাবেই বদলেছে.

   তবুও জন কেরি উল্লেখ করেন, “জেনেভায় আমাদের বিশেষ সাক্ষাতের সময় থেকে এ আলাপ-আলোচনা সবচেয়ে ফলপ্রদ ছিল”. স্বভাবতই, সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য বিষয় রাসায়নিক অস্ত্র সম্বন্ধেই বেশি কথা হয়. যে গতিতে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ভাণ্ডারের ধ্বংসের প্রক্রিয়া চলছে, তা আশা জাগায়. সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ সত্যিই খোলাখুলি সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক জনসমাজের সাথে এবং ভবিষ্যতেও নিজের সমস্ত বাধ্যবাধকতা পুরণ করবে, বলেন সের্গেই লাভরোভ :

   এ প্রক্রিয়া কিভাবে বিকশিত হচ্ছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট. আমাদের এ অনুমানের কোনো ভিত্তি নেই যে, সিরিয়া সরকারের এরকম নিষ্কলঙ্ক সহযোগিতা কোনোভাবে বদলাবে. রাশিয়ার পক্ষ দামাস্কাসের সাথে যোগাযোগে সব কিছুই করবে, যাতে এ সহযোগিতা কোনো সমস্যা ছাড়া ভবিষ্যতেও ক্রমানুবর্তিত হয়.

   সেই সঙ্গে লাভরোভ মনে করিয়ে দেন: রাষ্ট্রসঙ্ঘেরনিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত সঙ্ঘর্ষের সব পক্ষের দ্বারা পালন বাধ্যতামূলক, এবং অতএব, রাসায়নিক নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে বিরোধীপক্ষেরও সহযোগিতা করা উচিত. তবে, আপাতত এ অনুমানের ভিত্তি আছে যে, তা ঘটবে না, কারণ তার সারির চরমপন্থীরা এ প্রক্রিয়া বানচাল করার চেষ্টা করবে, জোর দিয়ে বলেন রাশিয়ার মন্ত্রী. তাঁর মার্কিনী সহকর্মী “রাসায়নিক” প্রশ্নে শেষ অগ্রগতিকে “অনুপম ঘটনা” বলে অভিহিত করেছেন. জন কেরি এমনকি সরকারী দামাস্কাসের প্রচেষ্টার উপযুক্ত মূল্য দিয়েছেন.

   তবে, সিরিয়ার অন্য প্রশ্নে – শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার আয়োজনে – আপাতত প্রত্যক্ষ অগ্রগতি নেই. সোমবার জন কেরি বলেছেন যে, “জেনেভা-২” সম্মেলন নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে হতে পারে. তার রাশিয়ার সহকর্মী পূর্বাভাস দিতে সতর্কতা অবলম্বন করেন, তবে উল্লেখ করেন: শিগগিরই শান্তি সম্মেলন আহ্বানের প্রস্তুতির প্রক্রিয়ার দ্রুতীকরণ করা হবে:

   আমরা এ মত প্রকাশ করছি, যাতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় নভেম্বরের মাঝামাঝি. আর আমরা আজ সমঝোতায় এসেছি সে সব পদক্ষেপ সম্পর্কে, যা গ্রহণ করা দরকার, যাতে সরকার এবং বিরোধীপক্ষ এ সম্মেলনে আসে পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত হয়ে জেনেভা ঘোষণাপত্রের সমঝোতা পূর্ণ মাত্রায় পালনের জন্য. অবশ্যই, প্রতিনিধিদলের সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের এবং বাইরের অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারণ করতে হবে. রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব রাষ্ট্র লীগের বিশেষ প্রতিনিধি ব্রাহিমি এবং অন্যান্য শরিকদের সাথে একত্রে আগামী কয়েক দিনে কর্মব্যস্ত ও সুনির্দিষ্টভাবে এ বিষয় নিয়ে কাজ করবে.

   রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধানদের আলাপ-আলোচনায় ইরানের সমস্যাও আলোচিত হয়. আগামী সপ্তাহে জেনেভায় মধ্যস্থ ছয় দেশ ও তেহেরানের মাঝে আলাপ-আলোচনার নতুন রাউন্ড হবে. লাভরোভের কথায়, তা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত প্রশ্নের মীমাংসায় অগ্রগতির ভিত্তি হতে পারে:

   আশা করি যে, ইরানের রাষ্ট্রপতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অ্যাসেম্বলির সময় যে সব সঙ্কেত দিয়েছেন, তা যথেষ্ট ইতিবাচক এবং আগামী সপ্তাহে আলাপ-আলোচনা পুনরারম্ভের গতিতে সুনির্দিষ্ট সমঝোতায় বাস্তবায়িত হবে.

   লাভরোভ আগামী সাক্ষাতের গুরুত্বের উপর জোর দেন পরেও – যখন তাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফের শেষ বিবৃতি সম্বন্ধে মন্তব্য করতে অনুরোধ করা হয় যেন “ছয় দেশের” শেষ প্রস্তাব “অতীতের ব্যাপার” হয়ে দাঁড়িয়েছে. মন্ত্রীর মতে, তেহেরান আগামী সাক্ষাতে শরিকদের কাছ থেকে বেশি স্পষ্টতা চায়.সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শেষ যোগাযোগকে “নৈকট্য বৃদ্ধি” বলা যায় না, তা দু দেশের জন্য শুধু নতুন সম্ভাবনা উন্মুক্ত করছে.