সিরিয়ায় পৌঁছেছেন ৩৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক. তারা সবাই রাষ্ট্রসংঘের রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করার সংস্থার প্রতিনিধি. এই সপ্তাহে তারা সিরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেইসাল মিক্লাদের সাথে সাক্ষাত্ করে তাদের সফরের কর্মসূচী সুনির্দিষ্ট করেছেন. ইতিপূর্বে দামাস্কাস সরকারিভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রত্যেকটি অস্ত্র ভান্ডার দেখানোর ও গোনাগুনি করার সুযোগ দেওয়ার. সুতরাং, অতঃপর পর্যবেক্ষকদের কর্তব্যে বাধা সৃষ্টি করতে পারে একমাত্র বিদ্রোহী জঙ্গীদের নাশকতামুলক কার্যকলাপ.

সিরিয়ার বিদ্রোহীদের একাংশ চরমপন্থী, যাদের কেউ সামলাতে পারে না. তাই প্রাচ্যবিদ্যা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ইয়েভগেনি সাতানোভস্কির মতে, অন্তর্ঘাত খুব সম্ভবত এড়ানো যাবে না. তিনি বলেন,  "আসাদের পতন ঘটাতে সিরিয়ার সশস্ত্র বিদ্রোহীরা এরকম সুযোগের সদ্ব্যবহার কেন করবে না ? বোঝাই যায় যে, অধিকাংশ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী, মুলতঃ যাদের নিয়ে গড়া সিরিয়ার এই বিরোধীপক্ষ, তারা রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষকদের জন্য সর্বতোভাবে বাধা সৃষ্টি করবে. সুতরাং হয় চরমপন্থী জঙ্গীদের দ্বারা সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের হত্যা করা অথবা তাদের সূত্র ধরে নতুন রাসায়নিক অস্ত্রের মজুত ভান্ডার নিজেদের করায়ত্ত করাই সম্ভবত সিরিয়ার আশু চিত্রনাট্য."

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই মাসের মধ্যে সিরিয়ার প্রশাসন কর্তৃক উদ্ধৃত রাসায়নিক অস্ত্রের প্রত্যেকটি গুদামের চুলচেরা হিসাব নেবেন. যদি তাদের সন্দেহ হয় যে, তালিকা পূর্ণ নয়, তাহলে তাদের অধিকার থাকবে নতুন যে কোনো গুদাম পরিদর্শন করার. আর যদি সবকিছু প্ল্যানমাফিক চলে, তাহলে নভেম্বরে শুরু হবে সিরিয়ায় সব বিষক্রিয় পদার্থ ধ্বংসের কাজ.

রাসায়নিক অস্ত্রের গোটা ভান্ডার ২০১৪ সালের প্রথমার্দ্ধে ধ্বংস করার কথা. কিন্তু বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই বাকলিত্স্কির মতে মেয়াদটা পেছাতে পারে. তিনি বলেন,  "আমরা সঠিক জানি না যে, সিরিয়ায় কত রাসায়নিক অস্ত্র মজুত আছে এবং কি অবস্থায় আছে. যদি এমন অবস্থায় থাকে যে, পরিবহনযোগ্য নয়, তাহলে অকুতোস্থলে তাদের নিকাশ করতে হবে. আর যে সব অস্ত্র পরিবহনযোগ্য, সেগুলিকে সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলিতে সরিয়ে নিয়ে সিরিয়াকে রাসায়নিক অস্ত্রমুক্ত করা যাবে."

 

মনে হচ্ছে যে, সিরিয়ার রাসায়নিক ভান্ডারের একাংশ নিকাশ করা হবে অকুতোস্থলেই. যদি সিরিয়ার নিজের সামর্থ্যে কুলায়, তাহলে সেই সম্বল ব্যবহার করা হবে, তা নাহলে আমেরিকা বা অন্যান্য দেশের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে. তবে এখনো পাক্কা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি যে, এই খাতে কে কত খরচ করবে! তবে জেনেভায় জন কেরির সাথে বৈঠকের পরে সের্গেই লাভরোভ বলেছেন যে, বেশ কিছু দেশ সিরিয়ার উপর মার্কিনী আঘাত হানাকে আর্থিক প্রশ্রয় দিতে প্রস্তুত ছিল. তারাই এখন এই ব্যয় বহন করুক.