হাসিমাখা মুখেই সালমান খুরশিদ বলেন, প্রায় সব জ্বালানি ক্ষেত্রেই ভারতের অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। রাশিয়ার সাথে সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে পারমানবিক, প্রথাগত ও বিকল্প ধারার জ্বালানীর ওপর গুরুত্বারোপ করেন ভারতীয় সফরকারি দলের প্রতিনিধিরা। আঞ্চলিক বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্পে রাশিয়ার অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। এসবের মধ্যে তাপি গাস পাইপলাইন অন্যতম বলে উল্লেখ করেন সালমান খুরশিদ।

“রাশিয়া ইতিমধ্যে তাপি গ্যাস পাইপলাইন তৈরী প্রকল্পে নিজেদের অংশগ্রহণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে। তুর্কমেনিস্তান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান হয়ে ওই গ্যাস পাইপলাইন ভারতে পৌঁছাবে। আমাদের পুরো অঞ্চলে একটা পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আটি অবশ্যই আনন্দের সংবাদ যে তাপি প্রকল্পের সাথে জড়িত রাষ্ট্রগুলোর সাথে রাশিয়া আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। অনেকভাবেই রাশিয়া এ খাতে অবদান রাখতে পারে, তা হতে পারে এ গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে অথবা গ্যাস সরবরাহ করে যা তুর্কমেনিস্তান থেকে ভারতে পৌঁছাবে।“

সম্প্রতি তাপি গ্যাসপাইপ লাইন প্রকল্প নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিলো। ভারতের সাথে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় পাকিস্তান এ প্রকল্পে অংশ নিতে অনিচ্ছা জানায়। আর এ সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ জানান, "যদি গ্যাস পাইপনলাইন প্রকল্প সত্যিই বাস্তবে রুপ পায় তাহলে পাকিস্তান অনেক লাভবান হবে। যে কোন পাইপলাইন তা পাকিস্তানের ভূখন্ড হয়ে গেলে তার জন্য সম্পূর্ণ খরচ পরিশোধ করা হবে অথবা তার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেয়া হবে। তাই আমি মনে করি যে, পাকিস্তানের এ ক্ষেত্রে হারানোর কিছুই নেই।

আর যেহেতু পাইপলাইন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের ভূখন্ড দিয়ে যাবে তাই আমাদের দেশগুলোর মধ্যে অর্থনীতির পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে। অন্য যে কোন পাইপলাইন তা যদি ওমান অথবা সমুদ্রের তলদেশ কিংবা গভীর সমুদ্র পাইপলাইন হয় তাহলে তাতে খরচ অনেকটা বেড়ে যাবে এবং যৌথভাবে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে দাড়াবে।

আমরা জানি যে, আফগানিস্তানের ইস্যুতে কিছু নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকবে এবং অবশ্যই পাকিস্তানের সাথে আমাদের এ নিয়ে সহযোগিতার দরকার। এটি অসম্ভব বলে মনে হওয়ার কোন কারণ আমরা দেখছি না। যেহেতু রাশিয়া এ প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে তাই এটি অর্থযোগান দেয়া এবং অবশ্যই তা ফেরত দেয়া হবে। একমুখী অথবা অন্যদিক দিয়ে রাশিয়া অংশ নিতে পারে। আর এই পাইপলাইন আরো সম্প্রসারণ করে রাশিয়া পর্যন্ত নেয়া যেতে পারে কারণ এই অঞ্চলে সব গ্যাসই হচ্ছে রাশিয়ার।

রাশিয়ার সব গ্যাস ইউরোপে সরবরাহ করা হচ্ছে, তাহলে কেনো দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার গ্যাস যাবে না যেখানে গ্যাসের এতো চাহিদা রয়েছে।“