শাসস এমন একটা সংস্থায় পরিণত হবে যে মধ্য এশিয়ায় চীনা ছাতার আচ্ছাদন আর মেনে নেবে না. যদি রাশিয়ার স্বার্থে ভারতকে শাসসে অন্তর্ভুক্ত করে চীনা প্রভাবকে নির্মূল করা হয়, তবে ভারতের পক্ষে এটা উপযুক্ত মঞ্চ হবে চীনের বিরুদ্ধে নিজস্ব স্বার্থরক্ষা করার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার. এই প্রসঙ্গে পর্যবেক্ষক সের্গেই তোমিন বলছেন –

তোমিন বলছেন যে, এইবছরে ইতিমধ্যেই সলমন খুর্শিদের দ্বিতীয় মস্কো সফর দুই দেশের শীর্ষবৈঠকের গুরুত্বের প্রমাণ দেয়. তবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সবচেয়ে সাড়া ফেলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ, যিনি বলেছেন যে, শাসসের সারি বিস্তৃত হবে ভারতের অন্তর্ভুক্তি দিয়ে. রাশিয়া চাইছে যত দ্রুত সম্ভব সংস্থাটিতে ভারতের অন্তর্ভুক্তি. লাভরোভের কথায় শাসসের আমলাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত সেই সব নথির তালিকা পেশ করার জন্য, যেখানে সদস্যপদ পাওয়ার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ক্রাইটেরিয়া উল্লেখ করা হবে. এর সুবাদে অদূর ভবিষ্যতেই শাসসে ভারতের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে. –

সের্গেই তোমিন বলে চলেছেন যে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এরকম ঘোষণা করেছেন বিশকেকে শাসসের আরও এক শীর্ষবৈঠক হয়ে যাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই. সেখানে সদস্য দেশগুলিঃ রাশিয়া, চীন, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের পাশাপাশি দর্শক হিসাবে ভারত, আফগানিস্তান, ইরান, পাকিস্তান, মঙ্গোলিয়ার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন.

বৈঠকে যোগদানকারীরা উল্লেখ করেছেন যে, শুধু নিকট প্রাচ্যই নয়, গোটা বিশ্বের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এই প্রথম ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে. এখানে সংস্থাটির প্রয়োজন একক ভূমিকা নেওয়ার. তাই শাসসের ধারভার যতই বাড়বে ততই ভালো. সুতরাং, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী দেশগুলির সংস্থায় যোগদান একান্ত কাম্য.-

সের্গেই তোমিন বলে চলেছেন – যাতে শাসস সত্যিকারের রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠে সেজন্য দরকার যাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ সংস্থাটির সদস্য থাকা সত্বেও যেন বড় ভাই, ছোট ভাই – এরকম বিভেদ না গজায়. যাতে এরকম না হয় যে, কয়েকটি দেশ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আর বাকিরা ভোটাভুটি করছে তার উপর. এই থিসিস বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ এই মুহুর্তে, যখন চীন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে খুব দ্রুত উন্নতি করছে এবং এই এলাকায় মুখ্য রাজনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হতে চাইছে.

শাসসে যত বেশি প্রভাবশালী সদস্য হবে, তত ভেবেচিন্তে দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে. মস্কোর লক্ষ্য শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার চীনের দিকে ঢলে পড়া ঠেকানো. অন্যদিকে ভারতের জন্যও শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা চীনের বিরুদ্ধে নিজস্ব স্বার্থের বিষয়ে জানান দেওয়ার একটা উপযুক্ত মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে, বলে মনে করছেন সের্গেই তোমিন.