‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে চেলিয়াবিনস্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য-সচিব মারিনা আলেক্সান্দ্রভা বলছেন-

সবসুদ্ধ চেবারকুল হ্রদের তলা থেকে ৮টা পদার্থ ডাঙায় তোলা হয়েছে. অবশ্যই তাদের আয়তন তেমন বড় নয় যেমনটি আমরা আশা করেছিলাম, কিন্তু তাদের অস্তিত্ব আছে. এবং বিজ্ঞানীরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, তাদের মধ্যে ৪টি মহাজাগতিক, মানে প্রস্তরআচ্ছাদিত. এখনো নিয়মিত সন্ধানের কাজ চলছে, যা সম্পন্ন হবে ৪ঠা অক্টোবর এবং তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো যাবে.

এখন ডুবুরিরা প্রাণপণে হ্রদের তলায় কাদাপাঁকের মধ্যে খুঁজছে সেই মহাজাগতিক পদার্থটা, যার হদিস দিয়েছে জলের নমুনা. খুঁজে পাওয়া সবকটি বস্তু নিরীক্ষা করেছেন চেলিয়াবিনস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা. অভিযানের শুরুতে ডাঙা থেকে ১৪ মিটারের জায়গায় এখন ডুবুরিরা সন্ধানকার্য চালাচ্ছেন জলের ১৮ মিটার গভীরে. হ্রদের ওপর আবহাওয়া যেন ঘন্টায় ঘন্টায় বদলাচ্ছে. সকালের বৃষ্টির পরে শুরু হয় তুমুল হাওয়া. স্থানীয় বাসিন্দাদের দৃঢ়মত এই যে, প্রকৃতি যেন সন্ধানকাজে যথাসাধ্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে. ল্যুদমিলা বলছেন যে, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, যেদিন নগরীর উপর উল্কাপাত হয়েছিল, সেই দিনটিকে নগরবাসীরা কোনোদিন ভুলবে না. –

আমি আচমকা দেখতে পেয়েছিলাম চোখধাঁধাঁনো ঝলক, ভাবলাম যে যুদ্ধ শুরু হল. মেঘ ক্রমশঃই ছড়িয়ে পড়ছিল, আমি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম. তারপরে একটা জোরালো বিস্ফোরণ হল. সবাই ধরে নিয়েছিল যে, হয় রকেট অথবা এ্যারোপ্লেন মাটিতে আছড়ে পড়েছে, কিন্তু একটু পরেই রেডিওয় জানানো হয়েছিল যে উল্কাপাত হয়েছে.

স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মাক্সিমের জন্য বাড়ির কাছের হ্রদে উল্কাপাত ছিল রীতিমতো এ্যাডভেঞ্চার. –

আমরা সবাই খুব ঘাবড়ে গেছিলাম, একটু পরে স্কুলশিক্ষকরা বুঝিয়ে বললেন যে, পড়েছে উল্কা বা ধুমকেতু. আর পরের ক্লাসে আইটি’র পাঠে সবাই ইন্টারনেটে উল্কাপাত সম্পর্কে পড়তে লাগলাম.

বালকটি স্বীকার করছে যে, সেই দিন কোনোক্রমে তার সহপাঠিদের সাথে স্কুলে ক্লাস শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল, যাতে ছুটি পেয়েই উন্মুক্ত ময়দানে অবশিষ্টাংশ খুঁজতে যাওয়া যায়. কিন্তু তাদের কপালে শিকে ছেঁড়েনি, তারা কোনো মহাজাগতিক বস্তু খুঁজে পায়নি. ওদের তুলনায় ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল স্থানীয় কবি আলেক্সান্দরের প্রতি-

যখন উল্কাপাত হল, সেই মুহুর্তে আমি জানালার কাছে এগিয়ে গেছিলাম. ওটা আমার বাড়ির ছাদেরই পাইপ ফাটিয়ে তার একটা খন্ড আমারই ঘুলঘুলিতে পড়েছিল. আমি সেটা কুড়িয়েছি, কিন্তু কাউকে দেবো না.

বিশেষজ্ঞদের অনুমান এই যে, হ্রদের তলায় যে মহাজাগতিক পদার্থ পড়ে থাকতে পারে, তার ওজন কয়েকশো কিলোগ্রাম. ৪ঠা অক্টোবরের মধ্যে ওটিকে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে.