সোচির পার্বত্য রুটগুলি ও স্টেডিয়ামগুলিতে প্রকৃতিই হচ্ছে সর্বেসর্বা. মানুষ সেখানে বড়জোর প্রকৃতির খামখেয়ালীপনায় কিছু ছোটখাটো সংশোধন করতে পারে, যেমন কৃত্রিম তুষার মজুত করে. স্কি, বায়াথলন ও মাউন্টেন স্কি’র রুটগুলিতে কৃত্রিম বরফ রাখা থাকবে বিশেষ আবরণের নীচে, যাতে গলে না যায়. সোচির উপকন্ঠে ক্রাসনায়া পলিয়ানাতে অবস্থিত মাউন্টেন স্কি কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আলেক্সান্দর বেলোকোবিলস্কি বলছেন যে, কৃত্রিম বরফ ছড়ানোর কামানগুলি যে কোনো মুহুর্তে কাজ শুরু করার জন্য প্রস্তুত থাকবে. –

ক্রাসনায়া পলিয়ানা বরাবর বিখ্যাত ছিল বিশাল পরিমান তুষারপাতের জন্য. এমনকি সবচেয়ে নীচু বিন্দুগুলিতেও তুষারের স্তুপ জমা হয় এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত. তাসত্বেও ইন্টারন্যাশনাল স্কি ফেডারেশনের দবী মতো গোটা রুটে কৃত্রিম বরফের আস্তরণ থাকতেই হবে. কৃত্রিম তুষার উত্পাদন করার জন্য ইউরোপে সবচেয়ে বড় সিস্টেম আমরা তৈরী করেছি – বলছেন তিনি.

সাগর তীরবর্তী অলিম্পিক ক্রীড়ামঞ্চগুলি নির্মানের সময় বহু নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে. যেমন বলশোয়(বিগ) অলিম্পিক স্টেডিয়াম তার ছাদে বসানো সৌর ব্যাটারী দিয়ে নিজেই তার প্রয়োজনীয় বিদ্যুত্ উত্পাদন করে নেবে. তদুপরি বলশোয়ের ছাদের নীচে এবং দেওয়ালে কনসিল্ড সিস্টেম বসানো হয়েছে, যা নিরন্তর বায়ুশোধন করবে. সেখানে অবলীলাক্রমে নিশ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া যাবে. স্টেডিয়ামের দর্শক গ্যালারীতে তাপমাত্রা হবে আইস-হকি বা ফিগার স্কেটিং রিংয়ের থেকে অনেক বেশি, দর্শকরা আরামদায়ক তাপমন্ডলে থাকবেন, ঠান্ডায় জমে যাবেন না.

সোচিতে প্রত্যেকটি অলিম্পিক রিং বানানোর সময় কোনো না কোনো বেনজির প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে. যেমন ‘ফিশ্ট’ নামক স্টেডিয়ামে এমন কাচের আচ্ছাদন দেওয়া হয়েছে, যা তাপ সরবরাহের জন্য শক্তি সঞ্চয় করবে. সৌরশক্তি ব্যবহার করে স্টেডিয়ামটি নিজেই নিজেকে গরম রাখবে. বরফ প্রাসাদ ‘আইসবার্গ’, বহিরাকৃতির দিক থেকে যা নিথর তরঙ্গের কথা মনে পড়িয়ে দেয়, সেখানে সত্যিকারের বরফের ওপর যেমন সূর্য ঝলমল করে, তেমনই ঝলমল করবে, যা শ্লেষ্মা বা ঠান্ডা লাগার ধাত – এরকম বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিষেধকের কাজ করবে. আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই যে, এই সব বেনজির প্রযুক্তিকে অলিম্পিকেই চূড়ান্তভাবে পরীক্ষা করে দেখা হবে, আর তারপরে তাদের বিতরণ করা হবে স্কুলে, নার্সারিতে, হাসপাতালে, স্টেশনে, গৃহস্থবাড়িতে.