দুর্নীতি ভারতের সামনে বর্তমানে অন্যতম একটি বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১২ সালে ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের(টিআই)প্রতিবেদনে ১৭৬টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ছিল ৯৪তম। ভারতের প্রায় সব স্তরের রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি প্রতিরোধে সব সময়েই কাজ করার আহবান জানাচ্ছেন, কিন্তু কার্যত কোন পরিবর্তনের ছোয়া সেখানে দেখা যাচ্ছে না। এমনটি বলছেন রুশ বিশেষজ্ঞ বরিস ভালখোনস্কী। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “পরিষ্কার আমার মনে আছে কিভাবে দুই বছর আগে আন্না হাজারী দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন। একা আন্দোলন শুরু করলেই অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েক হাজার মানুষের সমর্থন অর্জন করেন তিনি। তখন মনে হয়েছিল সমাজে একটা বিবর্তন ঘটতে চলেছে। কিন্তু পরিশেষে এর তেমন কোন প্রতিফলন ঘটেনি। আন্না হাজারী কোন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেননি। তবে তার সমর্থিত আম জনতা পার্টি যার প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে আরভিন্দ কেজিরভাল আপাতত কোন রাজনীতিতে কোন সক্রিয় কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে না। আন্না হাজারীর ওই আন্দোলন থেকে মূলত একদল মানুষ সুবিধা পেয়েছে বরং সমাজের কোন পরিবর্তন হয়নি।

চলতি বছরের জুলাই মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের গৃহিত আইন অনুযায়ী ভারতের যে কোন মন্ত্রী কিংবা পার্লামেন্টের সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমানিত হলে অন্তত ২ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন এবং পার্লামেন্টের সদস্যপদ হারাবেন। তবে সুপ্রীম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পরেও এর ব্যতিক্রম আমরা দেখতে পাচ্ছি। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতের অপরাধী বস্তুত ওই ধরণের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদ আগলে রাখছে? ।

অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ভারতে আরো একটি কেলেংকারির ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। সুপ্রীম কোর্টের সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করে ভারত সরকার। অর্থাত, মন্ত্রী ও পার্লামেন্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমানীত হলেও তাদের সদস্যপদ বহাল থাকবে। কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অর্থহীন বলে উল্লেখ করেছেন। এ নিয়ে বরিস ভালকোনস্কী আরো বলেন, “এটা ঠিক, বিবেকবান মানুষের মতে এটা এক অর্থে অর্থহীন সিদ্ধান্তই বলা যায়। তবে ওই সিদ্ধান্তের পেক্ষিতে শুধু কংগ্রেস নয় বরং অন্যান্য বিরোধী দল কতোটা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সেটিই মূলত দেখার বিষয়। রাহুল গান্ধীর বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সমালোচনা করা হয়। দ্বিতীয় যে ব্যক্তি সরকারের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন তিনি হলেন ভারতীয় জনতা পার্টি থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী।“

মনমোহন সিংকে উদ্দেশ্য করে একটি জনসভায় মোদি বলেছেন, “যখন আপনার দেশেই আপনাকে এমন সম্বোধন করা হয় তাহলে অন্যান্য দেশ আপনাকে কিভাবে সম্মান জানাবে? ।”

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে মনমোহন সিং ভারত ফিরেই দেশটির শীর্ষ রাজনীতিবিদদের সাথে সাক্ষাত করেছেন। তাদের মধ্যে রাহুল গান্ধী ও রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জিও ছিলেন।

আর এরই মধ্যে দুর্নীতর মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ এবং রাজ্য সভার সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা রাশেদ মাসুদকে।

এ নিয়ে বরিস ভালকোনস্কী বলেন, “এ পরিস্থিতি পার্টির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর এর অর্থে সংগ্রাম শুরু হওয়ার মতোই মনে হচ্ছে। মূলত বর্তমান পরিস্থিতির পেক্ষিতে দুর্নীতি শব্দটি অনেকটা উচ্চারন হচ্ছে প্রহরী অর্থে। তাই আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেসকে খুব শীঘ্রই নতুন পন্থা খুঁজতে হবে।“

তবে নির্বাচনে কংগ্রস কিংবা বিরোধী দল যে কেউই জয়ী হোক না কেন মূল প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। দুর্নীতি নিয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যে কটূক্তি আর সমালোচনা করা হচ্ছে তা কি দূর করা সম্ভব হবে? । এমন প্রশ্নই করছেন রুশ বিশেষজ্ঞ বরিস ভালকোনস্কী।