বিশ্বের স্বল্প কয়েকটি দেশের একটি হচ্ছে চীন, যা কিনা ফুকুসিমা পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্রের মত ভয়াবহ ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরেছে। বর্তমানে চীনজুড়ে ২৯টি পরমানু জ্বালানি ব্লক রয়েছে। এদের মধ্যে তেয়ানভানস্কী পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্রের দুটি চুল্লী রাশিয়ার সহযোগিতায় তৈরী করা হচ্ছে। আগামী ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি ও ডিসেম্বরে বানিজ্যিক উদ্দ্যেশ্যে তা ব্যবহার শুরু হবে। জাপানে ফুকুসিমা পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির আওত্বায় এটিও প্রথম বড় ধরণের কোন আন্তর্জাতিক প্রকল্প। এমনটি জানালেন জ্বালানি ও নিরাপত্তা সেন্টারের পরিচালক আন্তোন খেলাপকোভ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, চীনের তেয়ানভানস্কী পরমানু বিদ্যুত কেন্দ্রের দুটি চুল্লী রাশিয়ার সহযোগিতায় তৈরী করা হচ্ছে। একই সাথে রুশী বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় চীনে বর্তমানে ৪টি কারখানায় ইউরেনিয়াম পরিশোধনের কাজ চলছে। এছাড়া রাশিয়ার পরমাণু শিল্পের সাথে যৌথ সহযোগিতায় এ খাতে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। জার্মানি, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে এ খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বজায় থাকায় পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরীতে এখন থেকে চীন আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নিতে পারবে।"

চীন ইতিমধ্যে পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি চুল্লী তৈরী করেছে। চীনের পরামাণু শিল্পের প্রযুক্তির চাহিদা এখন তুরষ্কে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কৃষ্ন সাগরের উপকূলে তুরস্কের সিনোপে পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরীর দরপত্রে জয়ী হলে চীন নিজেদের প্রযুক্তি তুরস্ককে দিতে তৈরী।

শ্রম মূল্য ও যন্ত্রপাতির যোগান যা বিশ্বে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির বাজারে চীনের সুযোগ বাড়িয়ে তুলেছে। তবে একই সাথে কিছু সমস্যাও রয়েছে যা চীনকে কাটিয়ে উঠতে হবে বিশ্ব বাজারে নিজেদের স্থানকে পাকাপোক্ত করতে হলে। এ নিয়ে আন্তোন খেলাপকোভ বলছেন, জাপানের ফুকুসিমা পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্রের বিপর্যয়ের কারণে বিশ্ব পরমাণু বাজারে চীন ৫ থেকে ১০ বছর পিছিয়ে পড়েছে। চীনে বর্তমানে দ্বিতীয় প্রজন্মের জ্বালানি চুল্লী রপ্তানির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে রাশিয়া ইতিমধ্যে বহির্বিশ্বে তৃত্বীয় প্রজন্মের জ্বালানি চুল্লী ব্যবহার করছে। ফুকুসিমার বিপর্যয়ের পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা যে শর্তাবলী বেধে দিয়েছে সেই আলোকে পরমাণু শিল্পে রাশিয়ার সম্ভাবনা বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনে যে চুল্লী ব্যবহার করা হচ্ছে তা নতুন করে কোন নিরাপত্তা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।"

যদি খুব দ্রুত চীনা প্রোকৌশলীরা পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্রের নিরাপত্তার পরিসীমা আরো নিশ্চিত করতে পারেন তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। জ্বালানি সমস্যা নিরসনে চীনের এই বড় প্রকল্প উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।