এ কেলেঙ্কারি সম্পর্কে “রেডিও রাশিয়াকে” বর্ণনা করেছেন জার্মানির “জুয়ের্স্ট” পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ম্যানুয়েল ওক্সেনরাইটার.

বার্লিন ১৯৯৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সিরিয়ায় সরবরাহ করেছে প্রায় ৩৬০ টন রাসায়নিক বস্তু. এ সম্বন্ধে সোমবার জানিয়েছে জার্মানির অর্থনীতি ও নতুন প্রকৌশল সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়. ২০১১ সাল পর্যন্ত, যখন সিরিয়ায় সঙ্কট দেখা দিয়েছিল, এ দেশকে ইউরোপে সাধারণ বাণিজ্যিক শরিক বলে বিবেচনা করা হত.

২০১০ সালের জুন মাসে সিরিয়ায় গিয়েছিল জার্মান ব্যবসায়ীদের একটি দল, যা স্থানীয় কোম্পানিগুলির সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ স্থাপন করেছিল, বলেন ম্যানুয়েল ওক্সেনরাইটার :

সে সময় খারাপ একনায়ক অথবা একনায়ক সম্বন্ধে কিছুই বলা হত না, এবং এ দেশের সাথে কারবারী সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারব না সে সম্পর্কেও কিছু বলা হত না. এটা ঘটেছে হঠাত্, যখন ২০১১ সালের মার্চে, এক রাতের মধ্যে সিরিয়া সম্পর্কে জার্মানির পররাষ্ট্রনীতি বদলে যায়. সিরিয়ায় রাসায়নিক বস্তুর রপ্তানি – স্বাভাবিক ব্যাবসায়িক সম্পর্কের ইতিহাস, যা পরিণত হয়েছে ভণ্ডামিতে.

এখন পাশ্চাত্যে কেউ কেউ অণুবীক্ষণ যন্ত্রে সিরিয়ার সমস্ত প্রাক্তন যোগাযোগ বিবেচনা করছে এবং এমন যোগাযোগকে প্রায় অপরাধ বলে দেখাতে চেষ্টা করছে. প্রসঙ্গত, সে সময়ে, যখন এ যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল, তখন আসদের শাসন ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক দিক থেকে নরমপন্থী এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে নির্ভরযোগ্য শরিক হিসেবে বিবেচনা করা হত. এমন পটভূমিতে, আশ্চর্য লাগছে এ বিষয় যে, কেউ আগ্রহ প্রকাশ করছে না জার্মানির এখনকার সামরিক চুক্তি সম্পর্কে সেই সব দেশের সাথে, যেগুলি বিস্ফোরণোন্মুখ এলাকায় অবস্থিত, বলেন ম্যানুয়েল ওক্সেনরাইটার :

আমরা জার্মানিতে অন্যান্য বিষয় আলোচনা করছি না, যেমন ইস্রাইল-কে অতি সর্বাধুনিক সামরিক সাবমেরিনের রপ্তানি. অনুমান করা হচ্ছে যে, ইস্রাইলের কাছে শ দুয়েক পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে. আর এই সাবমেরিন থেকে এমন রকেট ক্ষেপণ করা যায়.

ম্যানুয়েল ওক্সেনরাইটারের মতে, এমন পটভূমিতে সিরিয়ায় রাসায়নিক বস্তুর আগের সরবরাহ নিয়ে হৈচৈ পূর্ণ আলোচনা – স্পষ্টতই ভণ্ডামি. বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, এমন অবস্থা ব্যাখ্যা করা যায় জার্মানির পররাষ্ট্র নীতির স্বাতন্ত্র্য না থাকার দ্বারা. জার্মান জনগণের স্বার্থে কার্যকলাপ চালানোর জায়গায় সরকার তাকিয়ে দেখছে ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটনের দিকে, সবশেষে বলেন সাংবাদিক.