গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সাথে সাক্ষাত করেন ল্যাভরোভ। দুই পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধংস করা নিয়ে একটি অবস্থানে পৌছেছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সিরিয়া সংক্রান্ত খসড়া সিদ্ধান্ত তৈরী করতে রাশিয়া ও মার্কিন কূটনীতিকদের দুই সপ্তাহ সময় লেগেছে। চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে তাতে বলা হয়, যেহেতু সিরিয়া রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রিকরণ কনভেনশনের সদস্য, তাই দেশটি এখন থেকে রাসায়নিক অস্ত্র তৈরী, প্রক্রিয়াকরণ বা অন্য কোন উপায়ে তা সরবরাহ করা থেকে বিরত থাকবে। সিরিয়ায় বর্তমানে মজুদ থাকা রাসায়নিক অস্ত্র ধংসের জন্য এর পুরো নিয়ন্ত্রণ জাতিসংঘ সমর্থিত 'অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অফ কেমিক্যাল উইপনস ( ওপিসিডব্লিউ)এর কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে। আর এর কোন প্রকার ব্যতিক্রম হলে সিরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। সেরগেই ল্যাভরোভ বলেন, “জেনেভায় যে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছিল ঠিক তার আলোকেই এ খসড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে কেউ এই সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করবে তা যদি বিরোধী জোটও হয় তাহলে নিরাপত্তা পরিষদ পুনরায় সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করবে। কেননা বিরোধী জোটকেও সহযোগিতা করার আহবান জানানো হয়েছে। ওই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ৭তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

উল্লেখ্য, যে কোন ধরণের শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে সিরিয়ার ওপর জাতিসংঘের ৭তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সামরিক হামলা চালানোর ব্যাপারে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রজোট যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সহযোগিতায় চেষ্টা চালিয়েছিল। মস্কো ও বেইজিং এ ধরণের প্রচেষ্টার বিরোধীতা করেছে। পরবর্তিতে রাশয়িার কূটনীতিকরা প্রমান করেছেন যে, প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে সেগুলো আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। পশ্চিমাদের দৃষ্টিভঙ্গির বিবেচনা করার জন্য এটি সত্যিকার অর্থেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমনটি মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সিমিওন বাগদাসারোভ। তিনি বলেন, “আমি মনে করি এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। কোন সন্দেহ নেই যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের উদ্যোগের কারণে। কেননা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য পশ্চিমা জোট, বিশেষকরে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে সিরিয়ার সরকারকে দায়ি করছে। গত ২১ আগষ্ট দামাস্কাসের উপকন্ঠে যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে সেখানে মূলত শেল ব্যবহার করা হয়েছে যা কিনা লিবিয়ার অস্ত্রধারী আর্মির নিয়ন্ত্রণে ছিল। আর এটি সবাই জানে যে, লিবিয়ার সেনা বাহিনীর অস্ত্রের গোডাউন থেকে সিরিয়ার বিরোধী দলের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।“

 এদিকে সিরিয়া নিয়ে ল্যাভরোভ ও কেরি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তা গতকালই পর্যবেক্ষণের জন্য হেগে অবস্থিত 'অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অফ কেমিক্যাল উইপনস ( ওপিসিডব্লিউ) এর কাছে পাঠানো হয়েছে। এক দিনের মধ্যেই তাদের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আর এরপরই নথিপত্রটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো হবে। ধারণা করা হচ্ছে যে, সময়ের ব্যবধান থাকায় নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটি শুক্রবারই হওয়ার কথা রয়েছে।