আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পর্যন্ত পাইলট চালিত মহাকাশ যান “সইউজ” নতুন প্রযুক্তিগত নকশা অনুযায়ী মাত্র ছয় ঘন্টার মধ্যে পৌঁছেছে. বিগত বছর গুলোতে এর জন্য সময় লাগত দুই দিন. ওলেগ কোতভের জন্য এটা তৃতীয় মহাকাশ অভিযান. মহাকাশ যানের ইঞ্জিনিয়ার সের্গেই রিয়াজান্তসেভ ও আমেরিকার অ্যাস্ট্রোনট মাইকেল হপকিনস প্রথমবার মহাকাশে গিয়েছেন. এই বারের অভিযাত্রীদের বিশেষত্ব হল যে, রাশিয়ার দুজন মহাকাশচারীই নিজেদের প্রাথমিক পড়াশোনায় চিকিত্সক, এই কথা উল্লেখ করে মহাকাশচারীদের প্রস্তুতি কেন্দ্রের নেতা সের্গেই ক্রিকালিয়ভ বলেছেন:

“ওলেগ কোতভ বহু বছর আগে এখানে প্রস্তুতি কেন্দ্রে যোগ দিয়েছিলেন একজন সামরিক চিকিত্সক হিসাবে, তারপরে মহাকাশচারীদের দলে পড়ে তাতে সর্বজনীন দলীয় প্রস্তুতির প্রশিক্ষণ নিয়ে, তিনি বহুদিন ধরে ইঞ্জিনিয়ারিং ও উড়ানের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন. তিনি মহাকাশে গিয়েছেন একজন অন বোর্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে ও একজন কম্যাণ্ডার হিসাবে. সের্গেই রিয়াজান্তসেভ প্রথমবার উড়তে যাচ্ছে. সেও কোতভের মতই ভাগ্য নিয়ে এসেছে. প্রাথমিক পড়াশোনায় ডাক্তার. কিন্তু যেহেতু ডাক্তারের জন্য এখানে সম্পূর্ণ রকমের কাজের ব্যবস্থা নেই – তাই এখানে বেশী সফল হওয়া যায় বেশ কয়েক রকমের প্রশিক্ষণ নিয়ে. সেও অন বোর্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে পড়াশোনা করেছে. মাইকেল হপকিনস আমাদের ছেলেদের সঙ্গেই উড়ে গিয়েছেন, কিন্তু তাঁর কাজের এলাকা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মার্কিন এলাকাতেই থাকবে”.

“সইউজ” মহাকাশ যান চালু হওয়ার সামান্য আগে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন নশো মিটার উপরে তোলা হয়েছিল কারণ যাতে এই বারের উড়ান ছয় ঘন্টার মধ্যেই সম্ভব হয়.

রাশিয়ার মহাকাশচারীদের কাজের পরিকল্পনার মধ্যে বেশ কয়েক ডজন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা থাকছে. প্রধান দিক – চারটে. এটা মহাকাশের বায়োটেকনোলজি, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, পৃথিবী ও মহাকাশ নিয়ে গবেষণা, মহাকাশ গবেষণা নিয়ে প্রশিক্ষণ ও তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি. তাঁদের পাঁচটি মালবাহী যানকে সাক্ষাত্ করতে হবে. ফেব্রুয়ারী মাসে তাঁদের কাজের সময়ের বাইরের অবসরের সময়ে তাঁরা অলিম্পিক দেখবেন. মহাকাশে সম্পূর্ণ মানের টেলিভিশন সম্প্রচার দেখা সম্ভব নয়, তাই আলাদা করে বিভিন্ন বিষয়ে মহাকাশচারীরা ইতিমধ্যেই বলে রেখেছেন. সুতরাং রাশিয়ার জাতীয় দলের জন্য তাঁরা পুরোপুরি ভাবেই “সমর্থন” করতে পারবেন. কিন্তু তার আগে তাঁদের নিজেদেরই অলিম্পিকের মিশন সফল করতে হবে. ৭ই নভেম্বর ৩৯তম মহাকাশ অভিযানের যাত্রীরা মহাকাশে অলিম্পিকের মশাল নিয়ে যাবেন, ৯ই নভেম্বর তা খোলা মহাকাশে ওলেগ কোতভ ও সের্গেই রিয়াজান্তসেভ বের করে নিয়ে যাবেন. দুই দিন পরেই “সোচী- ২০১৪” সালের মশাল পৃথিবীতে ফিরে আসবে.